বাড়ি রাজ্য nadia বিদ্যাসাগরের মূর্তি ভাঙার প্রতিবাদে ধিক্কার মিছিল শিক্ষক ও ছাত্র ছাত্রীদের

বিদ্যাসাগরের মূর্তি ভাঙার প্রতিবাদে ধিক্কার মিছিল শিক্ষক ও ছাত্র ছাত্রীদের

561
0
বিদ্যাসাগরের মূর্তি ভাঙার প্রতিবাদে ধিক্কার মিছিল নবদ্বীপে। দেবাশীষ কংশবণিক, নবদ্বীপ। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় এক দল দুষ্কৃতী কলকাতা বিদ্যাসাগর কলেজের ভিতর ঢুকে তান্ডব চালায়। অভিযোগ, বিজেপি সর্বভারতীয় সভাপতি অমিত শাহের রোড শো’টি ওই কলেজের সামনে আসতেই একদল দুষ্কৃতী মারমূখী হয়ে উঠতে দেখা যায়। শুধু মারমুখীই নয়, কলেজের ভিতর ঢুকে তান্ডবও চালায় বলে অভিযোগ। শুধু তান্ডব চালিয়েও ক্ষান্ত থাকেনি তারা। ওই দুষ্কৃতীর দল কলেজের ভিতরে থাকা বাংলার অন্যতম শ্রেষ্ঠ মনীষী বিদ্যাসাগরের মূর্তিটি  ভেঙে গুঁড়িয়ে দেয়। অভিযোগ, এরপর বিজেপির ওই দুষ্কৃতী দলটি বিদ্যাসাগরের  মাথা ও দেহের অংশটি নিয়ে কলেজের বাইরে রাস্তায় ছুড়ে ফেলে দেয়। এই দৃশ্য টেলিভিশনের মাধ্যমে সারা বাংলার মানুষ দেখতে পায়। সঙ্গে সঙ্গে নিন্দার ঝড় বয়ে যায়। বাংলার শ্রেষ্ঠ মনীষীর এহেন হাল দেখে আতঙ্কিত হয়ে ওঠেন রাজ্যের শিক্ষা মহল। সোশ্যাল মিডিয়ার ওয়ালে একাধিক মানুষ ধিক্কার জানিয়ে পোস্ট করতে শুরু করে। এই ঘটনায় রাজনৈতিক মহলেও শুরু হয় চর্চা। যুযুধান তৃণমূল ও বিজেপির মধ্যে শুরু হয় চাপানুতর। রাজ্যের শাসক দল তৃণমূলের অভিযোগ বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতির মিছিলে অংশ নেওয়া বিজেপি দুষ্কৃতীরাই কলেজে ঢুকে তান্ডব চালিয়ে বিদ্যাসাগরের মূর্তিটি কে ভেঙেছে। পাল্টা বিজেপির অভিযোগ একাজ তাদের দলের নয়। বিজেপির অভিযোগ, বিদস্যাগর কলেজের ভিতরে থাকা তৃণমূলের দুষ্কৃতীরাই এই ঘৃণ্য কাজ করেছে। এদিকে এই ঘটনার খবর রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় খুবই বিচলিত হয়ে ওঠেন। তিনি পরিষ্কার জানিয়ে দেন যারাই এই কাজ করুক না কেন, তারা আর যাই হোক রাজ্যের হিতৈষী নন। বিজেপি কে এক হাত নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ওরা বাংলার কৃষ্টি ও সংস্কৃতি কে ধ্বংস করতে এরাজ্যে দুষ্কৃতীদের আমদানি করছে। এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে বুধবার রাজ্য জুড়ে প্রতিবাদ ও ধিক্কার মিছিলের ডাক দেয় তৃণমূল ছাত্র পরিষদ। অন্যান্য জেলার সঙ্গে নদিয়াতেও ধিক্কার জানিয়ে মিছিল করল তৃণমূল ছাত্র পরিষদ। দুষ্কৃতীদের বিদ্যাসাগরের মূর্তি ভাঙার প্রতিবাদে ধিক্কার জানিয়ে মিছিল করল শান্তিপুর কলেজের ছাত্র- ছাত্রীরা। তৃণমূল ছাত্র পরিষদ পরিচালিত প্রতিবাদ মিছিলে অসংখ্য কলেজ ছাত্র ছাত্রী ছাড়াও মিছিলে অংশ নেন কলেজের সমস্ত শিক্ষক ও শান্তিপুর কলেজের অধ্যক্ষা চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য। এছাড়াও কলকাতা বিদ্যাসাগর কলেজের অন্যতম শাখা নবদ্বীপ বিদ্যাসাগর কলেজের ছাত্র ছাত্রীরাও প্রতিবাদ জানিয়ে ধিক্কার মিছিল করলেন। এদিন দুপুরে নবদ্বীপ শহর তৃণমূল ছাত্র পরিষদের ডাকে প্রতিবাদ মিছিলটি কলেজ প্রাঙ্গণ থেকে শুরু হয়। প্রতিবাদ ধিক্কার মিছিলে কলেজের বিভিন্ন বিভাগের প্রায় কয়েকশো ছাত্র ও ছাত্রী সামিল হয়। প্রতিবাদ ধিক্কার মিছিলে শুধু ছাত্র ছাত্রীরাই নয়, এই মিছিলে পা মেলাতে দেখা যায় এই কলেজের সমস্ত শিক্ষক ও ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ অরুণ কুমার মন্ডল কে। এদিন দুপুরে কলেজ প্রাঙ্গণে পন্ডিত বিদ্যাসাগর কে শ্রদ্ধা নিবেদন ও তাকে মাল্যদান করে এ দিনের কর্মসূচি শুরু হয়। এরপর প্রতিবাদ ও ধিক্কার মিছিলটি কলেজ প্রাঙ্গণ থেকে শুরু হয়ে শহর পরিক্রমা করে পুনরায় কলেজের সামনে এসে শেষ হয়। বিদ্যাসাগর কলেজে দুষ্কৃতীদের তাণ্ডব ও বিদ্যাসাগরে মর্মর মূর্তি ভাঙ্গার বিষয়ে নবদ্বীপ বিদ্যাসাগর কলেজের ভারপ্রাপ্ত টিচার ইনচার্জ অরুন কুমার মন্ডল বলেন, বিদ্যাসাগরের মূর্তিটি কে যে বা যারাই ভাঙ্গুন না কেন, খুবই ঘৃণ্যতম কাজ। এর নিন্দার কোন ভাষা নেই । তিনি বলেন, বিদ্যাসাগর ছিলেন বর্ণপরিচয়ের স্রষ্টা। তিনি শিক্ষা জগতে এক অন্যতম ব্যক্তিত্ব ছিলেন। যেহেতু আমাদের এই কলেজটিও বিদ্যাসাগরের নামে নামাঙ্কিত সেহেতু আমাদের কাছে খুবই বেদনার ও দুঃখের। এর নিন্দার কোন ভাষা আমি খুঁজে পাচ্ছি না। তাই আমরা কলেজের পক্ষ থেকে বিদ্যাসাগরের মূর্তি ভাঙ্গার প্রতিবাদে নিন্দা ও ধিক্কার জানাচ্ছি।  নদীয়া জেলা তৃণমূল ছাত্র পরিষদের অন্যতম নেতা সুজিত কুমার সাহা বলেন,বিদ্যাসাগরের মূর্তি খুবই নিন্দনীয় ও বেদনার। এর প্রতিবাদের কোনও ভাষা নেই। সুজিত বাবু আরও বলেন , বিজেপি বাংলার কৃষ্টি ও সংস্কৃতিকে ধ্বংস করতে চাইছে। তাই তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি জানাচ্ছি।এদিনের প্রতিবাদ ও ধিক্কার মিছিলে ছাত্র ছাত্রী ছাড়াও ছিলেন, নবদ্বীপ শহর ও ব্লক তৃণমূল ছাত্র পরিষদের নেত্রীবর্গ। তাদের মধ্যে অন্যতম তৃণমূল ছাত্র পরিষদের জেলা নেতা সুজিত কুমার সাহা, নবদ্বীপ শহর ও ব্লক তৃণমূল ছাত্র পরিষদের সভাপতি রাজদীপ চট্টোপাধ্যায় প্রমুখ।ReplyForward
Loading...