বাড়ি কলকাতা ২০১৯ সাল থেকেই রাজ্যে চালু হতে পারে ষষ্ঠ বেতন কমিশনের সুপারিশ

২০১৯ সাল থেকেই রাজ্যে চালু হতে পারে ষষ্ঠ বেতন কমিশনের সুপারিশ

1945
0

কলকাতা, ৩০ অক্টোবর : আগামী ভোটের দিকে তাকিয়ে রাজ্য সরকারি চাকুরিজীবীদের মুখে হাসি ফোটানোর পরিকল্পনা করছে রাজ্য সরকার| ২০১৯ সাল থেকেই রাজ্যে চালু হতে পারে ষষ্ঠ বেতন কমিশনের সুপারিশ। নবান্ন সূত্রে জানা গিয়েছে খুব সম্ভবত নভেম্বর মাসেই জমা পড়তে পারে এই সুপারিশ। মূলত ইতিমধ্যেই বিভিন্ন কর্মচারী সংগঠন ও রাজ্য সরকারের সব বিভাগের শুনানি শেষ করেছে কমিশন।চলতি বছরে দু’বার ডিএ বাড়াল কেন্দ্র। ১ জানুয়ারি থেকে বাড়ে ৬ শতাংশ আর এবার বাড়ল ২ শতাংশ। মাঝে রাজ্য ১০ শতাংশ মহার্ঘভাতা বাড়ানো সত্ত্বেও কেন্দ্রের সঙ্গে রাজ্যের ফারাক কমেনি। বকেয়া মহার্ঘভাতা বেড়েই চলেছে রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের। শুধু ডিএ বৃদ্ধিই নয়, এই মুহূর্তে কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মীদের যে বেতন কাঠামো তাতে রাজ্যে একই পদমর্যাদার কর্মী হাতে পান অর্ধেক টাকা। কয়েক মাস আগেই সপ্তম বেতন কমিশন কার্যকর করেছে কেন্দ্রীয় সরকার। আর তাতে যা দাঁড়িয়েছে, তাতে আর্থিকভাবে রাজ্য সরকারি কর্মীরা রীতিমতো লজ্জাজনক জায়গায়।
এ রাজ্যে এক জন গ্রুপ ডি কর্মী চাকরি শুরুর সময়ে বেতন পান মোটামুটি সাড়ে ১২ হাজার টাকা। সেখানে সপ্তম বেতন কমিশন কার্যকর হওয়ায় কেন্দ্রীয় সরকারি এক জন গ্রুপ ডি কর্মী নিয়োগের সঙ্গে সঙ্গে বেতন পাচ্ছেন ২২ হাজারের মতো। কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মচারীদের জন্য সপ্তম বেতন কমিশনের সুপারিশ কার্যকর হওয়ায় সব স্তরের কর্মীর মূল বেতন ২.৫৭ গুণ বেড়েছে। ন্যূনতম মূল বেতন ৭ হাজার টাকা থেকে বেড়ে হয়েছে ১৮ হাজার টাকা। মূল পেনশন বেড়েছে ২.৫৭ গুণ। পুরনো মূল বেতন ও ১২৫ শতাংশ মহার্ঘভাতা মিলে তৈরি হয়েছে নতুন মূল বেতন। ফলে মোট বৃদ্ধির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২০ শতাংশের কাছাকাছি। উপকৃত হয়েছেন ১ কোটি কর্মী ও পেনশনভোগী।
নবান্ন সূত্রে খবর, গত জুলাই মাসে রাজ্যে আসে পঞ্চদশ অর্থ কমিশন। কমিশনকে রাজ্য সরকার যে হিসেব জমা দিয়েছে তার মধ্যেই রয়েছে বেতন বৃদ্ধির ইঙ্গিত। রাজ্য পঞ্চদশ অর্থ কমিশনের কাছে জমা দেওয়া সেই দাবিপত্রে ২০১৯–২০ আর্থিক বছর থেকেই সরকারি কর্মীদের বর্ধিত বেতনের হিসেব পেশ করা হয়েছে। সেখানে পেশ করা রিপোর্ট অনুযায়ী, প্রথম বছরে রাজ্যে সরকারি কর্মীদের বেতন বাড়তে পারে ২২ শতাংশ।
মুখ্যমন্ত্রী বিধানসভা নির্বাচনের আগে ঘোষণা করেন, বেতন কাঠামো পুনর্বিন্যাস করতে অক্টোবর মাসে ষষ্ঠ পে কমিশন গঠন হবে। কমিশন কবে তাদের সুপারিশ জমা দেবে, তা অবশ্য এখনও জানা যায়নি। অতীত অভিজ্ঞতা বলছে, সাধারণ ভাবে পে কমিশন গঠনের পরে তার সুপারিশ কার্যকর করতে দেড় থেকে দু’বছর সময় লেগে যায়। সেই হিসেবে ২০১৭ সালের আগে রাজ্য সরকারি কর্মীদের নতুন বেতন কাঠামো সম্ভব নয়। তবে নবান্নে সূত্রে খবর, আরও সময় নেবে রাজ্য সরকার। অর্থের সংস্থান না থাকাতেই আরও সময় নেবে। আশা করা হচ্ছে, ২০১৯ সালে লোকসভা নির্বাচনের কাছাকাছি সময়ে গিয়ে কার্যকর হতে পারে বেতন কমিশনের সুপারিশ।
রাজ্যে অভিরূপ সরকারের নেতৃত্বে গঠিত ষষ্ঠ বেতন কমিশন এখনও পর্যন্ত সেভাবে কাজ শুরুই করতে পারেনি বলেই খবর। নবান্ন সূত্রে খবর, আর্থিক সঙ্গতি না থাকাতেই কমিশন নিয়ে ‘ধীরে চলো’ নীতি নিয়েছে সরকার। ২০১৫ সালের ২৭ নভেম্বর অভিরূপ সরকারকে চেয়ারম্যান করে ষষ্ঠ বেতন কমিশন গঠন করে রাজ্য সরকার। দফায় দফায় সময়সীমা বেড়ে আগামী ২৬ নভেম্বর কমিশনের মেয়াদ শেষ হচ্ছে। এদিকে ষষ্ঠ বেতন কমিশনের সুপারিশ রূপায়ণ হলে আগামী ছ’বছরে অতিরিক্ত ৮৫ হাজার ৪৫৭ কোটি টাকা খরচের হিসেব দেওয়া হয়েছে পঞ্চদশ অর্থ কমিশনকে।

 

Loading...

একটি উত্তর ত্যাগ

Please enter your comment!
Please enter your name here