বাড়ি কলকাতা হুল দিবসের মাহাত্ম্য আজও প্রাসঙ্গিক, দাবি বামপন্থীদের

হুল দিবসের মাহাত্ম্য আজও প্রাসঙ্গিক, দাবি বামপন্থীদের

35
0

কলকাতা, ৩০ জুন : শোষণ, নিপীড়ন ও বঞ্চনার আধিক্য যখন সমাজে বেড়ে যায় তখনই বিদ্রোহ ও তার থেকে জন্ম ওঠা বিপ্লব প্রতিরোধ গড়ে তোলে। সাঁওতাল বিদ্রোহের স্মরণে বিশ্ব হুল দিবস সেই বার্তা বহন করে চলেছে বহু শতাব্দী ধরে। সিধু মুর্মু ও কানু মুর্মুর আত্মত্যাগ বর্তমান সময়ের ভারতবর্ষে আজও প্রাসঙ্গিক বলে মনে করেন দেশের বামপন্থী নেতৃবৃন্দ। বর্ষীয়ান সিপিআইএম নেতা মহাম্মদ সেলিম জানিয়েছেন, সিধু-কানুর লড়াই বিশ্বব্যাপী সকল শ্রেণীর মানুষকে আজও অনুপ্রাণিত করে চলেছে। ভারসাম্য বজায় রেখে পরিবেশকে কি ভাবে রক্ষা করতে হয় সেই পথ আদিবাসীরাই দেখিয়েছে। কিন্তু বিশ্বায়নের জেরে পুঁজিপতিরা দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগ করার লোভে তাদের বন, জঙ্গল, পাহাড় দখল করে নিচ্ছে। ফলে সংকটের মুখে পড়েছে আদিবাসীদের জীবন, সংস্কৃতি, ভাষা। আদিবাসীদের সপক্ষে সওয়াল করতে গেলেই মাওবাদী, দেশদ্রোহী বলে দেগে দেওয়া হচ্ছে। ব্রিটিশ আমলের মতোই এখনও সমানভাবে শোষণ করা হচ্ছে আদিবাসীদের। যেখানে তাদের বাস্তুচ্যুত করতে পারছে না রাষ্ট্রযন্ত্র সেখানে তাদের সংস্কৃতি ওপর আঘাত হানা হচ্ছে। বিদ্রোহ ও বিপ্লবের সবার প্রথমে আত্ম বলিদান করে আদিবাসীরাই। আদিবাসীরা তাদের নিজস্ব ঐতিহ্য, জীবনবোধ এবং সংস্কৃতি নিয়েই উন্নয়নে যোগ দিক।প্রতি বছর হুল দিবসে বামপন্থী ছাত্র, মহিলা, যুব সংগঠনের তরফ থেকে বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়। বর্ষীয়ান এসইউসিআই নেতা অমিতাভ চট্টোপাধ্যায় জানিয়েছেন, বর্তমান ও ভবিষ্যৎতের জন্য অবশ্যই প্রাসঙ্গিক সাঁওতাল বিদ্রোহের স্মরণে হওয়া হুল দিবস। পুঁজিবাদের শোষণ নিপীড়ন, লাঞ্ছনার বিরুদ্ধে সাঁওতালদের আন্দোলন সকলকে অনুপ্রাণিত করে চলে। ব্রিটিশ সাম্রাজ্যবাদের বিরুদ্ধে সাঁওতালদের আপোষহীন বিদ্রোহ হচ্ছে ভারতের গর্বের ইতিহাস। আজকের শোষণের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের ধরণটা হয়তো পাল্টে গিয়েছে। কিন্তু সেই চেতনা বা মর্মবস্তু একই থেকে গিয়েছে। তাই সাঁওতাল বিদ্রোহ আজও প্রাসঙ্গিক। সিপিআইএমের শ্রমিক সংগঠন সিটুর সাধারণ সম্পাদক অনাদি সাহু জানিয়েছেন, শোষণ, বঞ্চনার বিরুদ্ধে লড়েছিল সাঁওতালরা।তারাই সাম্রাজ্যবাদের বিরুদ্ধে ভারতের স্বাধীনতার সংগ্রামকে অনুপ্রাণিত করেছিল। স্বাধীনতার পর সেই লড়াই এখন পুঁজিপতিদের বিরুদ্ধে। কারণ নিজেদের কায়েমি স্বার্থে পুঁজিপতিরা বিশ্ব ব্যাংক, ইন্টারন্যাশনাল মনিটারিং ফান্ড এর মতো সংস্থা তৈরি করেছে। এই সকল সরকারগুলিকে বাধ্য করা হচ্ছে বৃহৎ পুঁজিবাদের হাত শক্ত করার জন্য। বর্তমান সময় কৃষক, শ্রমজীবী ​​মানুষ, সাংবাদিক, বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়ুয়াদের কোনও বাক স্বাধীনতা নেই। ফলে আজও সমানভাবে প্রাসঙ্গিক সাঁওতাল বিদ্রোহের মাহাত্ম্য। উল্লেখ করা যেতে, ১৮৫৫ সালে ৩০ জুন শোষণহীন জীবনধারণের দাবিতে ভাগনাডিহির মাঠ থেকে নিজেদের দাবি জানাতে সিধু ও কানুর নেতৃত্বে ৩০ হাজার সাঁওতাল ১৫০ কিলোমিটার পথ অতিক্রম করে রাজধানী কলকাতায় গভর্নর জেনারেলের সঙ্গে দেখা করেছিল। এই ঘটনার ঠিক পনেরো দিন পরেই সাঁওতাল ও আদিবাসীদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি।

Loading...