বাড়ি Uncategorized হলদিয়ায় অ্যামোনিয়া গ্যাস দুর্ঘটনা, অসুস্থ শ্রমিকরা

হলদিয়ায় অ্যামোনিয়া গ্যাস দুর্ঘটনা, অসুস্থ শ্রমিকরা

152
0

সুদীপ্ত আগুয়ান; হলদিয়াঃ শনিবার রাতে পূর্ব মেদিনীপুর জেলার শিল্পনগরী হলদিয়াতে অ্যামোনিয়া গ্যাস দুর্ঘটনার জেরে অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি বেশ কয়েকজন শ্রমিক। ঘটনায় শ্রমিকদের পাশাপাশি অ্যামোনিয়া গ্যাসের ঝাঁঝালো গন্ধের জেরে অসুস্থ স্থানীয় বেশকিছু এলাকাবাসীও। ঘটনার সূত্রপাত হয় শনিবার রাত্রি প্রায় দশটা নাগাদ। এদিন রাত্রি দশটা নাগাদ হঠাৎ দুর্গাচক থানা এলাকায় বিষাক্ত একপ্রকার ঝাঁঝালো গন্ধে ভরে ওঠে। ঘটনায় এই গ্যাস এতটাই প্রভাব বিস্তার করে যে কারখানার শ্রমিক থেকে শুরু করে এলাকাবাসীদের একেবারে দম বন্ধ করার মত অবস্থা হয়ে পড়েছিল। এমন সময় কোন রকম প্রাণে বাঁচার জন্য সকলেই এধার- ওধার দৌড়ে পালিয়ে যেতে শুরু করে। এরপর জানা যায় হলদিয়া শিল্পাঞ্চলের একটি অ্যামোনিয়া গ্যাসের পাইপ লিক করে যাওয়ার ফলে এমন ধরনের দুর্ঘটনার সৃষ্টি হয়েছে। এদিন রাতে অ্যামোনিয়া গ্যাসের তীব্র ঝাঁঝালো গন্ধ না সহ্য করতে পেরে প্রায় ৪০ জনের মতো কারখানা শ্রমিকসহ এলাকাবাসীরা অসুস্থ হয়ে পড়েন। এরপর সেই খবর স্থানীয় থানা এবং জনপ্রতিনিধিদের কাছে পৌঁছে যাওয়ার পরেই তাদের উদ্ধার করে স্থানীয় হলদিয়া মহকুমা হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য নিয়ে যাওয়া হয়। 

জানা গেছে, হলদিয়া বন্দর এলাকা থেকে একটি পাইপ লাইনে করে অ্যামোনিয়া গ্যাস ইন্দরামা কারখানাতে সরবরাহ করা হয়। আর সেই পাইপ শনিবার রাতে লিক করে যাওয়ার ফলে গোটা হলদিয়া শিল্পাঞ্চল এলাকা একেবারে তীব্র বিষাক্ত ঝাঁঝালো গন্ধে ভরে ওঠে। ঘটনায় সঙ্গে সঙ্গে অসুস্থ সকলকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পরেই ইঞ্জিনিয়াররা পরীক্ষা করে দেখেন কোথায় থেকে ওই গ্যাস বের হচ্ছে। এরপর ঘটনায় দ্রুত মেরামত করার ফলে কোনক্রমে স্বস্তি পান সকলে। এরপরে ওই রাত্রেই দুর্গাচক থানার পক্ষ থেকে মাইকিং প্রচারের মধ্যমে সকলকে গ্যাস বন্ধের কথা সকলকে জানিয়ে দেওয়া হয়। তবে কী কারণে এই ধরনের ঘটনা বা কিভাবে এমন ঘটনার উৎপত্তি হলো তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ। গত কয়েকদিন আগে হলদিয়া শিল্পাঞ্চল থেকে শ্রমমন্ত্রী মলয় ঘটক বলেছিলেন যাতে শ্রমিকদের কোনো রকম অসুবিধে না হয় সেই ব্যবস্থা করতে হবে। কিন্তু কীভাবে তারপরও শনিবার রাতে এমন ধরনের অ্যামোনিয়া গ্যাস দুর্ঘটনা তা এখন প্রশ্নের সৃষ্টি করেছে গোটা হলদিয়া শিল্পাঞ্চল জুড়ে। এদিনের এই দুর্ঘটনার পর হলদিয়া পৌরসভার কাউন্সিলর বিমল মাঝি বলেন, “গ্যাস লিক হয়ে যাওয়ার পরে যথাসময়ে আমরা যৌথভাবে গিয়ে গ্যাস লিকেজ বন্ধ করেছি। যার ফলে দ্রুত গ্যাস ছড়িয়ে পড়া রোধ করা গেছে এবং স্থানীয় সকলকে আরো বড় দুর্ঘটনার হাত থেকে রক্ষা করা গেছে।”

Loading...