বাড়ি Uncategorized স্বল্প সঞ্চয়ের সর্বস্তরে বিপুল সুদহ্রাস, সঙ্কটে মধ্য ও নিম্নবিত্ত

স্বল্প সঞ্চয়ের সর্বস্তরে বিপুল সুদহ্রাস, সঙ্কটে মধ্য ও নিম্নবিত্ত

92
0

কলকাতা, ১ এপ্রিল : লকডাউনের ডামাডোলের মাঝে আচমকা স্বল্প সঞ্চয়ের সর্বস্তরে বিপুল সুদ কমল।   বুধবার থেকে তা কার্যকর হচ্ছে। সামান্য পুঁজি ক্ষুদ্র সঞ্চয়ে লগ্নির কথা যাঁরা ভাবছিলেন, তাঁদের মাথায় হাত।  
করোনা ভাইরাস আতঙ্কে গোটা দুনিয়া। অলিম্পিক, উইম্বল্ডনের মতন আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন প্রতিযোগিতা ও দেশ-বিদেশের গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের পরীক্ষা সবকিছুই পিছিয়ে যাচ্ছে। তার মধ্যে আচমকা কেন্দ্রীয় সরকারের এই সিদ্ধান্তে কফিনে শেষ পেরেক মনে করছেন মধ্যবিত্ত এবং নিম্নবিত্তদের অধিকাংশ। চিটফান্ড গোটা দেশে, বিশেষ করে পশ্চিমবাংলায় কয়েক কোটি লোককে পথে বসিয়ে দেবার পর বহু মানুষ ক্ষুদ্র সঞ্চয়ে ঝুঁকছিলেন। তাঁদের কাছে এটা একটা আঘাত।  অর্থমন্ত্রকের দাবি, এটা সরকারে পক্ষে সাহসী পদক্ষেপ। কারণ বাণিজ্যিক ব্যাঙ্কগুলির দাবি ছিল, শীর্ষ ব্যাঙ্ক সুদ ছাঁটলেও তার সঙ্গে তাল মিলিয়ে তাদের পক্ষে ঋণের সুদ ছাঁটাই সম্ভব হচ্ছিল না। কারণ সে ক্ষেত্রে আমানতকারী বেশি সুদের জন্য স্বল্প সঞ্চয় প্রকল্পের দিকে ঝুঁকতেন। অন্যদিকে, সরকার ঋণপত্র বাজারে ছেড়ে যে ঋণ নেয়, সে ক্ষেত্রেও সরকারের উপরে সুদের বোঝা বাড়লেও তারা তা কমাতে পারছিল না। এছাড়া শ্যামলা গোপীনাথ কমিটিরও সুপারিশ ছিল, সরকারি ঋণপত্রের সুদের হারের সঙ্গে স্বল্প সঞ্চয় প্রকল্পের সুদের হারও যেন কমানো হয়। কেন্দ্র তা মানবে বলে বাজেটের পরে ইঙ্গিত মিলেছিল।
লকডাউনের আওতার বাইরে ডাকঘর। অথচ, খোদ কলকাতায় সন্তোষপুর ডিএসও ডাকঘর গত ২৩ মার্চ সোমবার সকাল থেকে বন্ধ। গত শনিবার স্থানীয় এক এজেন্ট বলেছিলেন কয়েকজন ক্ষুদ্র সঞ্চয়ে লগ্নি করতে চান। তাঁরা সবাই কীভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হলেন বেহাল ডাক-পরিষেবার জন্য।

 ডাক বিভাগের (ওয়েস্ট বেঙ্গল সার্কল) চিফ পোস্ট মাস্টার জেনারেল গৌতম ভট্টাচার্য এই প্রতিবেদককে অবশ্য  বলেন, লকডাউনে বিভিন্ন রকম বাণিজ্যিক ও অর্থনৈতিক কাজ প্রায় মুখ থুবড়ে পড়েলেও ডাকঘরের সার্বিক কাজ আশাব্যঞ্জক। সোমবার পশ্চিমবঙ্গে সেভিংস ব্যঙ্ক টাইম ডিপোজিট এম আই এস বিভিন্ন ধরনের ১ লক্ষ ১৭ হাজার ২৮১ ট্রানজেকশন হয়েছে। এর আর্থিক পরিমাণ প্রায় ১৮৮ কোটি টাকা। শনিবার দএই দুটি হিসাব ছিল যথাক্রমে ৫৪ হাজার ৪৮৪ ও ১২৪ কোটি টাকা। পশ্চিমবঙ্গ সার্কেলে পশ্চিমবঙ্গ ছাড়াও আছে সিকিম ও আন্দামান। মোট ডাকঘরের সংখ্যা সাড়ে ৯ হাজার। এ বার ১ ও ২ এপ্রিল বার্ষিক ব্যাঙ্ক ক্লোজ়িং ডে। আর্থিক লেনদেন বন্ধ। 
সম্প্রতি কলকাতায় কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন বলেছিলেন, শুধু প্রচলিত স্বল্প সঞ্চয় প্রকল্পেই কেন কেউ টাকা রাখবেন ! বন্ড বা শেয়ার বাজারের মতো লগ্নির অনেক নতুন দরজা খুলে গিয়েছে, যেখানে অন্তত তার সমান বা বেশি আয় করা সম্ভব। নানা কারণে এখন বিশ্ব জুড়েই শেয়ার বাজার পড়ায় বিপুল অর্থ খুইয়েছেন লগ্নিকারীরা। কেউ কেউ বলছেন, এ বার স্বল্প সঞ্চয় প্রকল্পেও ধাক্কা দিল কেন্দ্র। আমজনতা কোথায় টাকা রাখবেন?

Loading...