বাড়ি অন্যান্য সোনারপুরে বাজি কারখানায় বিস্ফোরণ, আহত অন্তত ১০, পুলিশকে ঘেরাও করে বিক্ষোভ এলাকাবাসীর

সোনারপুরে বাজি কারখানায় বিস্ফোরণ, আহত অন্তত ১০, পুলিশকে ঘেরাও করে বিক্ষোভ এলাকাবাসীর

994
0

সোনারপুর, ৭ অক্টোবর  : রবিবার দুপুর সাড়ে বারোটা নাগাদ আচমকা বিস্ফোরণে কেঁপে ওঠে সোনারপুর থানার গোবিন্দপুর গ্রাম। স্থানীয় একটি বাজি কারখানায় আগুন লাগায় বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। বিস্ফোরণের তীব্রতা এতটাই বেশি ছিল যে আশপাশের বেশ কয়েকটি বাড়িও ক্ষতিগ্রস্ত হয়। বিস্ফোরণের পাশাপাশি এই ঘটনায় বিধ্বংসী আগুনে সমস্ত বাজি কারখানাটি ভষ্মিভূত হয়ে যায়।
এই ঘটনার জেরে অন্তত ১০ জন গুরুতর জখম হয়েছেন। আহতদের প্রথমে বারুইপুর মহকুমা হাসপাতাল ও পরে কলকাতার চিত্তরঞ্জন ন্যাশনাল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়। ঘটনার পর দমকলের তিনটি ইঞ্জিন এসে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। এই ঘটনায় পুলিশ এখনও পর্যন্ত একজনকে গ্রেফতার করে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেছে। গ্রেফতার হওয়া তরুণ ব্যানার্জি ঘটনায় মূল অভিযুক্ত রণজিৎ ব্যানার্জির বাবা। ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় উত্তেজনা থাকায় সোনারপুর ও বারুইপুর থানার বিশাল পুলিশবাহিনী এসে পরিস্থিতি সামাল দেয়।
২০১৬ সালে এই একই ধরণের বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছিল গোবিন্দপুর গ্রামে।স্থানীয় বাসিন্দা রণজিৎ ব্যানার্জি ওরফে টুবাই ব্যানার্জির বাজি কারখানাতেই বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছিল। জনবহুল এলাকায় কিভাবে এই বাজি কারখানাটি দিনের পর দিন চলে আসছে তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন এলাকার সাধারণ মানুষজন।গতবারের বিস্ফোরণের পর পুলিশ প্রশাসনের তরফ থেকে আশ্বাস দেওয়া হয়েছিল যে বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে এবং বেআইনিভাবে চলা এই বাজি কারখানাটিকে বন্ধ করে দেওয়া হবে। কিন্তু সেই ঘটনার পর আবারও এখানে বাজি তৈরির কাজ শুরু হয়। স্থানীয় মানুষের দাবি এখানে শব্দবাজি থেকে শুরু করে বিভিন্ন ধরণের আতশবাজি তৈরির কাজ চলত। এলাকার মানুষের অভিযোগ পুলিশের মদতেই এই কারখানাটি চলত।
ঘটনার পর সোনারপুর থানার পুলিশ এবং বারুইপুর থানার বিশাল পুলিশবাহিনী ঘটনাস্থলে আসে। আসেন বারুইপুর পুলিশ জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সৈকত ঘোষ। যদিও কি কারণে বিস্ফোরণ বা এই বাজি কারখানায় আগুন কিভাবে লাগল এই ঘটনা সম্পর্কে মুখ খুলতে চাননি পুলিশ আধিকারিকরা।
এদিন দুপুরে পুলিশ ঘটনাস্থলে এলে স্থানীয় মানুষজন পুলিশকে ঘিরে বিক্ষোভ দেখাতে থাকেন। পুলিশের মদতেই এই এলাকায় বেআইনি বাজি কারখানা চলছিল বলে অভিযোগ তোলেন তারা। পরিস্থিতি সামাল দিতে পুলিশকে মৃদু লাঠিচার্জ করতে হয়। এমনকি উত্তেজিত জনতা কে হঠাতে পুলিশকে কাঁদানে গ্যাস নিয়ে উত্তেজিত জনতার দিকে তেড়ে যেতেও দেখা যায়। পরে অবশ্য পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। বারুইপুর পুলিশ জেলা সূত্রে খবর ঘটনার জেরে সাতজন জখম হয়েছেন। যদিও স্থানীয় বাসিন্দারা জানাচ্ছেন এই ঘটনায় আহতের সংখ্যা ১০ এর ও বেশি। কিন্তু প্রশ্ন উঠেছে এই জনবহুল এলাকায় কিভাবে এই বাজি ব্যবসা চলছিল বা এই বাজি কারখানা চলছিল তা নিয়ে। ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে সোনারপুর থানার পুলিশ। এ বিষয়ে বারুইপুর পুলিশ জেলার পুলিশ সুপার অরিজিত সিনহা বলেন, ” সোনারপুরে গোবিন্দপুর এলাকায় একটি বাজি কারখানায় বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। ঘটনায় সাতজন জখম হয়েছেন। বিষয়টি আমরা তদন্ত করে দেখছি। এই ঘটনায় আপাতত একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।’ 

Loading...

একটি উত্তর ত্যাগ

Please enter your comment!
Please enter your name here