বাড়ি কলকাতা সরস্বতী পুজোকে ঘিরে প্রাণ ফিরে আসছে কুমোরটুলিতে

সরস্বতী পুজোকে ঘিরে প্রাণ ফিরে আসছে কুমোরটুলিতে

45
0

কলকাতা, ২৭ জানুয়ারি  : করোনার জ্বালায় গত এক বছরে দারুণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে কুমোরটুলি। সরস্বতী পুজোকে ঘিরে ধীরে ধীরে ফের জেগে উঠছে পটুয়াপাড়া। 

শহর কলকাতায় বনমালি সরকার স্ট্রিট, রবীন্দ্র সরণী, কুমোরটুলি স্ট্রিট— এই অঞ্চল বহুদিন ধরেই মৃৎশিল্পের ভরকেন্দ্র হিসেবে পরিচিত। দুর্গা, কালী, জগদ্ধাত্রী, কার্তিক পুজোর পর দু’মাস অলস সময় কাটিয়েছে কুমোরটুলি। সরস্বতী পুজো এগিয়ে আসতেই শুরু হয়ে গিয়েছে কুমোরটুলির ব্যস্ততা। দিন যত এগোচ্ছে, বাড়ছে বায়নার সংখ্যা। শুরু হয়েছে প্রতিমা তৈরির তোড়জোড়। 
কোনও জায়গায় সরস্বতীর কাঠামোর উপর চলছে খড়-বিচালি বাঁধার কাজ। কোনও কোনও শিল্পী তাতে দিচ্ছেন মাটির প্রলেপ। মৃৎশিল্পী মায়া পাল বলেন, গত দু’মাস আগে যে পরিস্থিতি ছিল, এখন তা নেই। অনেকটাই স্বাভাবিক হয়েছে। তাই আমরা ছোট-মাঝারি বিভিন্ন মাপের প্রতিমা তৈরির কাজে হাত দিয়েছি। প্রতিবারই একেবারে শেষ দিকে অনেকেই আসেন প্রতিমা কিনতে। তাঁরা যাতে নিরাশ হয়ে না ফেরেন, তাই একটু বেশি সংখ্যায় প্রতিমা তৈরি করছি এবার।
মৃৎশিল্পী গৌরাঙ্গ পালের কথায়, করোনা আতঙ্কের কারণে দুর্গাপুজোর মরশুমে আগের মতো বায়না পায়নি কুমোরটুলি। এখন ওই ভাইরাসের মোকাবিলা করতে ভ্যাকসিন চলে এসেছে। ফলে মানুষ সাহস করে রাস্তায় বেরতে পারবেন। আড়ষ্ঠতা কাটিয়ে স্বাভাবিক হবে জনজীবন। তাই আমরাও বায়নার বাইরে ঝুঁকি নিয়ে অতিরিক্ত প্রতিমা তৈরি করছি। আশা করি, বিক্রি হয়ে যাবে। ভালোই কাটবে সরস্বতী পুজো। 
বনমালি সরকার ষ্ট্রিটে বেশ কয়েকজন শিল্পীর ঘরে সরস্বতী প্রতিমা তৈরির প্রাথমিক কাজ অনেকটাই শেষ হয়ে গিয়েছে। শুকনোর জন্য রোদের মধ্যে ছড়িয়ে ছিটিয়ে রাখা রয়েছে প্রতিমাগুলি। শিল্পীদের কথায়, হাতে সময় রয়েছে। তাই যতটা সম্ভব, প্রতিমার কাজ এগিয়ে রাখছি। পুজো এগিয়ে এলে, তখন আর হাতে সময় থাকবে না। যাঁরা প্রতিমা বায়না করে যান, তাঁরা তখন এসে তাগাদা দিতে থাকেন।
শিল্পী সমর পালের কথায়, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, গৃহস্থ বাড়ি ছাড়াও বিভিন্ন পাড়ায় পাড়ায় সরস্বতী পুজো হয়। এক্ষেত্রে ছোট ও মাঝারি প্রতিমার চাহিদাই বেশি থাকে। তাই বিভিন্ন শিল্পী ওই মাপের প্রতিমা বেশি তৈরি করেন।
গত বছরের বিভিষিকা ঝেড়ে ফেলে অসীম পাল, সুদীপ পাল, খোকন পালরা ফের কোমর বাঁধছেন। কথায় কথায় বললেন, এখন পরিস্থিতি অনেকটাই ভালো। আশা করি আগামী দিনে আরও ভালো হবে।  

Loading...