বাড়ি সম্পাদকীয় সত্য বলছেন না ্প্রধানমন্ত্রী ,অভিযোগ মুখ্যমন্ত্রীর

সত্য বলছেন না ্প্রধানমন্ত্রী ,অভিযোগ মুখ্যমন্ত্রীর

45
0

রবীন্দ্র কুমার শীল
্প্রধানমন্ত্রী পশ্চিমবঙ্গে এসে রাজ্যের বিরুদ্ধে মিথ্যা কথা বলতে শুরু করে দিয়েছেন। ্প্রধানমন্ত্রীর দোষ নেই। দোষ হচ্ছে যারা ্প্রধানমন্ত্রীকে ভুল তথ্য দিচ্ছেন। সেই ভুল তথ্যের যাচাই করে বক্তব্য রাখা উচিত বলে মনে করেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি মনে করেন, ‘্প্রধানমন্ত্রী কিসান সম্মান নিধি’ এর সুযোগ থেকে রাজ্যকে বঞ্চিত করেছেন মুখ্যমন্ত্রী এটা ঠিক নয়। বিধানসভায সকলের সমানে দাঁড়িযে মুখ্যমন্ত্রী বলেছেন, এই তথ্যটা একেবারে ভুল। কোনও সত্যতা নেই। তিনি বলেছেন, রাজ্যের কৃষক সম্পর্কে মিথ্যা কথা বলেছেন ্প্রধানমন্ত্রী। রাজ্যের ্প্রতি কেন্দ্রের বঞ্চনার অভিযোগ করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, এর আগে এত নিষ্ঠুর, সর্বগ্রাসী সরকার দেখতে পাওযা যাযনি। এদিন ্প্রায় ্প্রতিটি অনুষ্ঠানে কেন্দ্রীয় সরকার রাজ্য সরকারকে কীভাবে বঞ্চিত করেছে তার ব্যাখ্যা করেন। তিনি বলেন, ্প্রধানমন্ত্রী দেওযা তথ্যের মধ্যে ভুল রয়েছে। তিনি দলীয সভা করতে এসে মিথ্যা কথা বলতে শুরু করে দিয়েছেন। পশ্চিমবঙ্গে চল্লিশ শতাংশ দারিদ্র কমিয়েছে। এই তথ্য রাজ্য সরকারের নয়। এই তথ্য দিয়েছে কেন্দ্রীয সরকার। যারা দিল্লি থেকে এসে মিথ্যা কথা বলে তাদের এটা জানা উচিত। হলদিয়ায় এসে ্প্রধানমন্ত্রী যেসব কথা বলে গিয়েছেন এবারে তার পাল্টা জবাব দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী বিধানসভায়। বিধানসভায ্প্রধানমন্ত্রীর বত্তৃ্তার তথ্যগুলি খতিয়ে দেখে তারা জবাব দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। ্প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, রাজ্য থেকে কৃষকেরা সরাসরি পঁচিশ লক্ষ কৃষক আবেদন করেছিল। রাজ্য সরকার মাত্র ছয হাজার তালিকা পাঠায়। তাও তাদের ব্যাঙ্ক ব্যাঙ্ক তথ্য দেয়নি। ফলে কেন্দ্র চাইলে টাকা দিতে পারেনি। ্প্রধানমন্ত্রীর এই তথ্য সঠিক নয়। বাংলায নির্বাচন আসছে। সেই কারণে এই সব ভুলভাল তথ্য দিযে রাজনৈতিক ্প্রচার চালানো হচ্ছে। পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভার নির্বাচনকে সামনে রেখে বাংলাকে নিশানা করা হচ্ছে। মুখ্যমন্ত্রী এদিন বলেন, বিজেপির নিজস্ব পোর্টাল রয়েছে। কেন্দ্রীয সরকারের নিজস্ব পোর্টাল রয়েছে। সেখানে একুশ লক্ষ কৃষকের নাম নথিভুক্ত করা হয়েছে। তার মধ্যে সাড়ে ছয লক্ষ কৃষকদের তথ্য যাচাই করতে বলা হয়েছিল। রাজ্য সরকার ইতিমধ্যে আড়াই লক্ষ কৃষকদের নাম যাচাই করে পাঠিযে দেওযা হয়েছে। আমফান দুর‌্যোগের সময় ্প্রধানমন্ত্রী বলেছিলেন, এক হাজার কোটি টাকা অগ্রিম দেবেন। তা দওযা হল বিপর‌্যয মোকাবিলা খাতে রাজ্যের ্প্রাপ্য টাকা থেকে। বিধানসভার বাজেট বিতর্কে যোগদান করেনি বিজেপি। রাজ্য সরকারের দিকে আঙুল তুলে বিজেপির সভাপতি দিলীপ ঘোষ বলেছেন, রাজ্যে তিযাত্তর লক্ষ এই সুবিধা পেতে পারে। তাদের তথ্য যাচাই করার অধিকার রাজ্যের। আপনারা কৃষক বন্ধু সাহায্য দিন না। আপনাদের সাহায্য দিতে কেন্দ্রীয সরকার তো বাধা দেযনি। কেন্দ্রীয় ্প্রকল্পে বাধা দিচ্ছে কেন? দিলীপ ঘোষ আরও বলেছেন, শ্বেতপত্র দিক রাজ্য সরকার। কেন্দ্রীয সরকার কত টাকা দিয়েছে তা শ্বেতপত্রে ্প্রকাশ করুক। তাহলে সব কিছু ্প্রকাশ হয়ে পড়বে। কেন্দ্রীয় সরকারকে এখন কাঠগড়ায দাঁড় করিযে দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে। আসলে কেন্দ্রীয সরকারের সইয়য়তা সব সময়ে থাকা ্দরকার । রাজ্য কেন্দ্রীয সরকারের মধ্যে একটা সমন্বয থাকার দরকার। সেটা করা হচ্ছে না। এদিন বিধানসভায দাঁড়িয়ে তিনি ভিন্ন চিহ্ন দেখিয়ে ্প্রমান করে দেওযার চেষ্টা করলেন যে তৃণমূল কংগ্রেস আগামি দিনে নির্বাচনে জয়ী হযে ক্ষমতায় ফিরছে। ষোড়শ বিধানসভার শেষ দিন ছিল এই দিন। এদিন ্প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যকে তুলে ধরে কিছুর জবাব দেওয়ার চেষ্টা করলেন মুখ্যমন্ত্রী। এবরে মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্যের মধ্যে দিযে বিদাযে সুরে সঙ্গে সঙ্গে ্প্রত্যাবর্তনের ভাবনাও ্প্রকাশ পেয়েছে। রেওযাজ মাফিক বিধানসভার পোর্টিকোতে গ্রুপ ছবির তোলার ব্যবস্থা করা হয়েছিল বিদাযী বিধাযকদের জন্য। বিরোধীদের ্প্রতি ধারাবাহিক অমর‌্যাদা এবং গণতান্ত্রিক রীতি নীতি লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলে ছবি পর্বে শামিল হননি বাম ও কংগ্রেস দলের বিধায়কেরা। ছবি তোলার আসরেই ভি দেখিয়ে ্প্রত্যয ৱুঝিযে দেন মুখ্যমন্ত্রী। তৃণমূল কংগ্রেসের কর্মচারি ফেডারেশন থেকে মুখ্যমন্ত্রীকে ফুলে তোড়া দেওয় হয় একুশে ফিরে আসার জন্য। সেই ফুলে তোড়া নিযে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বলেন, আমরা সব সমযে ্প্রত্যয়ী ।
এদিন বাজেটের বিতর্কে এসে পড়েছিল একুশের ভোটের কথা। বিরোধীদের মূল সুর হচ্ছে ভোটের দিতে তাকিয়ে এবারে রাজ্য সরকার বাজেট পেশ করেছে। রাজ্য সরকারের এই বাজেটকে নির্বাচনী বাজেট বলে উল্লেখ করেছেন বিরোধী দলের নেতারা। বিরোধী বিধাযকদের দিযে লক্ষ করে মুখ্যমন্ত্রী এদিন বলেছেন, কেউ কেউ বলেছেন, আমরা মাত্র কযেদিন রয়েছে। একুশে আমরা এমন জয লাভ করবো যে জোট ভোট সকলেই টের পাবে। বিধানসভার অন্তিমপর্বে ধন্যবাদ জ্ঞাপন পর্ব ছিল। সেখানে পরিষদীয় মন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায সকলকে শুভেচ্ছা জানিযে মুখ্যমন্ত্রীর বসার জাযগায ইঙ্গিত দিতে বলেন, এই আসনে মমতা বন্দ্যোপাধ্যাযকেই আবার দেখতে চাই। সেই সূত্র ধরে কংগ্রেসের বিধাযক কারা বিদায নেবেন, কারা আবার আসবেন সব ঠিক করবেন বাংলার মানুষ। ধন্যবাদ জানিযে আমাদের যন্ত্রণার কথা বলে যাচ্ছি। বাম পরিষদীয দল নেতা সুজন চক্রবর্তী বলেন, আক্ষেপ যে টানা চোদ্দ দিনের বেশি অধিবেশন পাওযা গেল না। সময পাওযা গেলে আরও কিছু তথ্য উত্থাপন করা যেত। ফরওযার্ড ব্লক বিধাযক রামেজর আফশোস তাঁর ছোটবেলায ঘটে যাওযা পারিবারিক ট্র‌্যাজেডির ্প্রসঙ্গ তুলে তাঁকে বিধানসভায ব্যক্তিগত আক্রমণ করা হলেও তা ঠেকানো যায়নি। সব শুনে স্পিকার বিমান বন্দ্যোপাধ্যায় মন্তব্য করেছেন, মনে হচ্ছে স্পিকারকে ধন্যবাদ দেওযা উচিত কিনা তাই নিয়ে বিতর্কসভা বসালে ভালো হয় । বিধানসভার শেষ পবে একাধিক বেঞ্চ থেকে শুতে পাওযা গেল এবারের নির্বাচনে খেলা হবে। যা নিযে বিজেপি সভাপতি দিলীপ ঘোষ বলেন, আমরা ক্রিকেট, ফুটবল সব খেলাই জানি। তবে ডিফেন্ডার, স্ট্রাইকার সব আমাদের দিকে চলে এসেছে। ভযঙ্কর খেলার কথা ওরা বললে আমরাও বলছি ্প্রযোজন হলে হকি স্টিক নিযে খেলাতে নামতে পারি। এই সবের ফাঁকে বিধাযক সুব্রত সুবতর মুখোপাধ্যায বলেন, একটু জয শ্রী রাম বলে দাও। বিজেপির বিধাযক মনোজ টিগ্গা বলে উঠলেন, আপনি তো আমার হযে বলে দিলেন দাদা। এদিন রাজ্যে ্প্রায তিপান্নটি ্প্রকল্পের উদ্বোধন করলেন মুখ্যমন্ত্রী। তার মধ্যে কযেটি আবার শিলান্যাস করলেন। মুখ্যমন্ত্রী এদিন বলেছেন, যেসব ্প্রকল্পগুলি উদ্বোধন করা হযেে তাকে বাস্তবাযিত করতে গেলে বাহাত্তর হাজার কোটি টাকা দরকার। এই সব ্প্রকল্পতে তিন লক্ষ উনত্রিশ হাজার কর্মসংস্থান হবে বলে মুখ্যমন্ত্রী উল্লেখ করেন। রাজ্যে ভোটের দামামা বেজে গিয়েছে। পর‌্যবেক্ষক দলের মন্তব্য যে কোনও দিন ভোটের নির্ঘন্ট ঘোষণা হযে যেতে পারে। সেই কারণে মুখ্যমন্ত্রী হাতে থাকা ্প্রকল্পের উদ্বোধন করতে শুরু করে দিয়েছেন। বিরোধী দলের নেতারা বলতে শুরু করেছেন, মুখ্যমন্ত্রী এত ্প্রকল্পের উদ্বোধন করেছেন এর মধ্যে কোনগুলি বেঁচে থাকবেˆ আর কোনগুলি মারা যাবে তা রাজ্য সরকারই বলতে পারবে। রাজ্যের হাতে এত টাকা নেই যে সব ্প্রকল্পকে বাস্তবাযিত করা সম্ভব। এই সব ্প্রকল্পের মধ্যে বেশ কিছু চমক রয়েছে। ভোট চমক বলা যেতে পারে। ভোটের চমক দিতে পারেন মুখ্যমন্ত্রী। এতকাল ধরে চমক দিযে ভোট পেযে এসেছেন তিনি। এবারেও আরও বেশি করে চমক দিতে শুরু করে দিয়েছেন। এবারে তৃণমূল কংগ্রেসকে বিজেপির বিরুদ্ধে লড়াই করতে হবে। বিজেপি ক্রমশ পশ্চিমবঙ্গে শক্তিশালী ্প্রতিপক্ষ হযে দেখা দিতে শুরু করে দিয়েছে। জয শ্রীরাম ক্রমশ শক্তিশালী হচ্ছে। মুখ্যমন্ত্রী এদিন ঘোষণা করেছেন, ্প্রাক্তন খেলোযাড়দের মাসিক এক হাজার টাকা পেনশন দেওয়া হবে। এছাড়াও বিশেষজ্ঞ কমিটির সুপারিশ অনুযাযী নতুন খেলোযাড়দের স্পনসর করবে রাজ্য। ক্লাবগুলোকে অর্থ বরাদ্দ নিযে সমালোচনা হয়েছিল। সে ব্যাপারে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ক্লাবগুলি রক্তদান শিবির থেকে শুরু করে সামাজিক কর্মসূচি পালন করে থাকে। সেই কারণে দুর্গাপুজোর সমযে পুজো কমিটিগুলিকে অর্থ সাহায্য করে থাকি।
ভোট মুখী বাংলার রাজনৈতিক তর্জা শুরু হযে গিয়েছে সংসদে। সংসদে রাষ্ট্রপতির ভাষনে জবাবী বক্তব্য রাখতে গিয়েছে ্প্রধানমন্ত্রী বাংলায গণতন্ত্রের অবক্ষযে কথা যেমন বলেছেন তেমনি বিজেপি নেত্রী লকেট চট্টোপাধ্যায পিসি ভাইপোকে নিশানা করে অভিযোগ তুলেছেন। পরে সাংবাদিক বৈঠকে তৃণমূল কংগ্রেসের সাংসদেরা বলেছেন, নিজেদের ব্যর্থতা ঢাকতে এখন নজর অন্য দিকে ঘুরিযে দেওযার চেষ্টা করা হচ্ছে। রাজ্যসভায় ্প্রধানমন্ত্রী মোদি ডেরেক ও’ব্রায়েনের কথা টেনে বলেন, গণতন্ত্র নিযে অনেক উপদেশ দেওযা হয়েছে। ডেরেক ও’ব্রায়েনের কথা শুনছিলাম। খুবই বড় বড় শব্দ ব্যবহার করা হয়েনে। বাক স্বাধীনতা ভয দেখানো ইত্যাদি। এইগুলি মোদি সরকারের দিকে তাক করে বলা হয়েছে । জম্মু কাশ্মীরে ভয দেখানোর ঘটনা ঘটেছে, নাগরিকত্ব আইন আনা হচ্ছে এমনকী কৃষক আন্দোলন দমনের চেষ্টা করা হচ্ছে। ্প্রধানমন্ত্রীকে আক্রমণের সূত্র ধরেই এদিন তৃণূল কংগ্রেসকে আক্রমণ করেছেন লকেট চট্টোপাধ্যায় । ্প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, কিসান সম্মান নিধি সুবিধা বাংলার চাষিরা না পাওযায ফলে বাংলার দরিত্র কৃষকেরা আর্থিক দিক দিযে অসুবিধায পড়েছে। ্প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, দশ কোটি কৃষক লাভবান হযেে এতে। পশ্চিমবঙ্গ রাজনীতির খপ্পড়ে না পড়লে এর সংখ্যা আরও বৃদ্ধি পেত। লকেট চট্টোপাধ্যায বলেন, কেন্দ্রীয় ্প্রকল্প রাজ্যে গেলেই নাম পাল্টে যায়। অস্তোদয যোজনা থেকে হয়েছে খাদ্যসাথী। স্বচ্ছ ভারত থেকে হয়েছে নির্মলা বাংলা। তিনি অভিযোগ করেন চুরির জন্য কেন্দ্রের পাঠানো চাল রাজ্যবাসীর পাতে আসে খারাপ চাল। চুরি বিদ্যা পিসি ভাইপো ভালো রপ্ত করেছে। ডিলিট থেকে শুরু করে এমবিএ ডিগ্রি তার ্প্রমাণ। তিনি দাবি করেন , পশ্চিমবঙ্গে তোলাবাজ কে, গোরু চোর, কযলা চোর কে? লকেট নিজেই উত্তর দেন, ভাইপো। লকেটের বক্তব্যের তখন হাসির রোল ট্রেজারি বেঞ্চে।

Loading...