বাড়ি কলকাতা লকডাউন পরোক্ষে ছেলেবেলা ফিরিয়ে দিচ্ছে বিশ্বখ্যাত শিক্ষাবিদকে

লকডাউন পরোক্ষে ছেলেবেলা ফিরিয়ে দিচ্ছে বিশ্বখ্যাত শিক্ষাবিদকে

91
0

কলকাতা, ২৩ মার্চ : এই লকডাউন যেন আমাকে ছেলেবেলায় ফিরিয়ে নিয়ে যাচ্ছে।  সোমবার একথা বললেন ৭৫-উর্দ্ধ আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন শিক্ষাবিদ নিখিল রঞ্জন ব্যনার্জী। তাঁর কথায়, “ভারি ভারি বইয়ের পাশে ছেলেবেলার বই— যেন একটা সুন্দর সমতা, মধুর সামঞ্জস্য“। 

টানা ১৬ বছর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের সেনেটের সদস্য ছিলেন। শিবপুরের বেঙ্গল ইঞ্জিনিরিং অ্যান্ড সাইন্স ইউনিভার্সিটির প্রথম উপাচার্য হন ২০০৪-এ। এখন কেন্দ্রীয় মানব সম্পদ উন্নয়ন মন্ত্রকের ‘ন্যাশনাল বোর্ড অফ অ্যাক্রিডিটেশন’- এর অন্যতম পরামর্শদাতা। ‘হিন্দুস্তান সমাচার’-কে তিনি জানান, “লকডাউনে অন্য সময়ের চেয়ে পড়ার সময়টা বেশি পাচ্ছি। কিছু সিরিয়াস বই পড়ছি। প্রদীপ নারায়ণ ঘোষ কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিন এবং যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ছিলেন। তিনি তাঁর অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে লিখেছেন ‘শুভ-অশুভের যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়‘। সাহসী লেখক। এটা পড়ছি।  যাদবপুরের মেকানিকাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের অধ্যাপক সমীর সাহা লিখেছেন ‘ইঞ্জিনিয়ারিং এডুকেশন ইন ইন্ডিয়া— পাস্ট প্রেসেন্ট অন্ড ফিউচার‘। এটাও ভালো লাগছে। এর প্রেক্ষিত অনেকটাই জানা ছিল। এতে শিবপুর কলেজের অবদান গ্রথিত করেছেন। ন্যাশনাল কাউন্সিল অফ এডুকেশন, রূঢ়কি—এগুলোর কথাও আছে। 
ছোটবেলায় নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়ের টেনিদা চরিত্রটা আমার খুব প্রিয় ছিল। সেই লেখা এবং সত্যজিৎ রায়ের লেখা বইও পড়ছি! ছেলেবেলায় থাকতাম হুগলির গ্রামে। বাড়িতে বাবা কলকাতা থেকে ‘শিশুসাথী’ পুজোবার্ষিকী নিয়ে আসতেন। বাবা নিজেও ছিলেন নিষ্ঠাবান সাহিত্যসেবী। ১৯৭৪ থেকে আমৃত্যু ‘নবারুন‘ নামে পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন। প্রথমে পত্রিকা ছিল ত্রৈমাসিক। পরে হল ষান্মাসিক। ওর শারদীয় সংখ্যা বাঁধানো রয়েছে। মাঝেমাঝে সেগুলি নামিয়ে পড়ছি। পুরনো বন্ধুদের লেখা, সেই সঙ্গে ছেলেবেলাকে খুঁজে পাওয়া। লকডাউন না হলে বোধ হয় এতটা সুযোগ পেতাম না।“

Loading...