বাড়ি অন্যান্য লকডাউন পরিস্থিতিতে লেখাপড়ায় মনঃসংযোগ করার পরামর্শ শিক্ষাবিদদের

লকডাউন পরিস্থিতিতে লেখাপড়ায় মনঃসংযোগ করার পরামর্শ শিক্ষাবিদদের

99
0

কলকাতা, ২৯ মার্চ : করোনার হাত থেকে পড়ুয়াদের রক্ষা করতে প্রশাসনের তরফ থেকে আগেই বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়গুলি। এমন পরিস্থিতিতে কিভাবে একজন পড়ুয়া নিজের ওপর মনোনিবেশ করবেন সেই বিষয়ে দিক নির্দেশ করেছেন বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ ও গৌড়বঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন উপাচার্য অচিন্ত্য বিশ্বাস।  রবিবার হিন্দুস্থান সমাচারের  প্রতিনিধিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে অচিন্ত্য বাবু বলেন এমন পরিস্থিতিতেও পড়াশোনার অভ্যেসটা বজায় রাখা খুবই প্রয়োজন। লেখাপড়ায় মনঃসংযোগ করলে পড়ুয়াদের মধ্যে করোনা আতঙ্ক কম হবে। বাড়িতে বসেই সহপাঠীদের মধ্যে একটি হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ তৈরি করে নিলে সেখানে অনায়াসে গ্রুপ স্টাডি করা সম্ভব। কার, কোথায় অসুবিধা হচ্ছে এই হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপের মাধ্যমে সহপাঠীদের মধ্যে তা বোঝার একটা সুযোগ তৈরি হবে। এই গ্রুপের মধ্যেই তথ্য, দৃষ্টিকোণ এবং নোটসের আদান প্রদান হলে আখেরে উপকৃত হবে পড়ুয়ারা। পাশাপাশি শিক্ষকদের সঙ্গে যদি পড়ুয়ারা যোগাযোগ স্থাপন করে ফোনের মাধ্যমে তাহলে শিক্ষকেরাও আতঙ্কের পরিবেশ থেকে কিছুটা নিজেদের মনকে অন্যদিকে স্থানান্তর করতে পারবে। অনলাইনে লেখাপড়া সম্পর্কে বলতে গিয়ে তিনি বলেন, কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়েরগুলির উচিত পড়ুয়াদের জন্য অনলাইন পাঠক্রম চালু করা। একই কথা বলেছেন ওয়েব কুটার সাধারণ সম্পাদক কেশব ভট্টাচার্য। তিনি এই প্রতিবেদককে জানিয়েছেন, পশ্চিমবঙ্গের একাধিক জায়গায় অনলাইন ক্লাসের ব্যবস্থা করা হয়েছে। এছাড়াও পাঠ্যসূচি ও বিষয়ভিত্তিক আলোচনা অনলাইনে পাওয়া যাচ্ছে। সেই অনুযায়ী লেখাপড়া করলে পড়ুয়ারা সুবিধাজনক জায়গায় পৌঁছিয়ে যাবে পরবর্তী সময়ে।  যে অবকাশ পড়ুয়ারা পেয়েছে লেখাপড়ার মাধ্যমে তার পূর্ণ সদ্ব্যবহার করা উচিত কারণ যখন কলেজে ও বিশ্ববিদ্যালয় খুলবে তখন পড়ুয়ারা এবং অধ্যাপকেরা পাঠ্যসূচির চাপের মধ্যে থাকবে। ফলে এখন থেকে লেখাপড়া করলে ভাল হয়। তার মতে সিটি কলেজের (প্রাতঃ), যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকটি বিভাগ, উত্তর ২৪ পরগনার এপিসি কলেজে অনলাইনের মাধ্যমে লেখাপড়ার ব্যবস্থা চালু করেছে। তিনিআশঙ্কা প্রকাশ করেছেন করোনা পরিস্থিতি কেটে গেলে হয়তো সেমিস্টার গুলোর পরীক্ষা বিভিন্ন কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় অনলাইনের মাধ্যমে নিতে পারে। মফস্বল ও গ্রামাঞ্চলে অনলাইনের মাধ্যমে এখনো যে পরিকাঠামো গড়ে ওঠেনি সেই বিষয়টিও প্রতিবেদককে জানান তিনি।  অসমের বিজনি কলেজের বাংলার অধ্যাপিকা ড. উর্মিলা পোদ্দার জানিয়েছেন, ইতিমধ্যেই সেখানে অনলাইনের মাধ্যমে লেখাপড়া শুরু হয়ে গিয়েছে। লকডাউন  পরিস্থিতিতে শ্রীরামপুর কলেজের অর্থনীতি বিভাগের প্রথম বর্ষের ছাত্র অর্ণব ভট্টাচার্য এই প্রতিবেদককে জানিয়েছেন যে ২২ শে মার্চ থেকে লকডাউন এর জন্য কলেজের ক্লাস পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গিয়েছে। আগামী ১৫  এপ্রিল পর্যন্ত কলেজ বন্ধ থাকবে। এই সময় গল্পের বই পড়ে, ছবি এঁকে এবং পড়াশোনা করে সময় কেটে যাচ্ছে তার। কলেজ ও কোচিং দুটোই বন্ধ থাকার কারণে পুরনো পড়াগুলোই ঝালাই করছে সে। তার দাবি আর কয়েক দিনের মধ্যে স্থানীয় কোচিং সেন্টারগুলো অনলাইনে ক্লাস নিতে শুরু করবে।  মুর্শিদাবাদের শ্রীপত সিং কলেজের পরিবেশ বিজ্ঞানের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্রী রিতিকা দত্ত জানিয়েছেন, লকডাউন এর জেরে লেখাপড়ার খুবই ক্ষতি হয়েছে। লেখাপড়া যে একটা স্বাভাবিক ছন্দ ছিল তা এই আতঙ্কের পরিবেশে বিঘ্নিত হয়েছে। কলেজ বন্ধ হয়ে যাওয়ার কারণে প্র্যাকটিকেল এবং থিউরিটিক্যাল ক্লাসগুলো পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গিয়েছে। কোচিং সেন্টারে যাওয়ার কোন ব্যবস্থা নেই। আর এমন পরিস্থিতিতে নিজেকেই লেখাপড়া করে যেতে হচ্ছে কোনরকম সহায়তা ছাড়া। কারণ সেখানে অনলাইনে লেখাপড়ার কোন রকম ব্যবস্থা নেই।    উল্লেখ করা যেতে পারে, বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের তরফ থেকে আগেই গোটা ভারতে সমস্ত বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজগুলোতে করোনা  পরিস্থিতির কারণে বন্ধ করে দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন রাজ্যের রাজ্য সরকার ও সর্বশেষে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি পূর্ণ লকডাউনের ঘোষণা করেন।  যার জেরে এখন একপ্রকার স্তব্ধ হয়ে গেছে দেশের শিক্ষাব্যবস্থা। ফলে এখন অনলাইনে লেখাপড়াই সবথেকে বড় ভরসা। 

Loading...