বাড়ি কলকাতা লকডাউনে গাঢ় হয়েছে বইয়ের অনিরুদ্ধ-অভীকের প্রেম

লকডাউনে গাঢ় হয়েছে বইয়ের অনিরুদ্ধ-অভীকের প্রেম

65
0


কলকাতা, ২৪ মা. : ওঁদের একজন বিশিষ্ট ইঞ্জিনিয়র, অপরজন শিক্ষাবিদ। দু’জনেরই নেশা বই পড়া। লকডাউন? তাতে হয়েছেটা কী? বই তো রয়েছে! বই থাকলে আর কিছু চাই নাকি? ১৮৬৯ সালে ক্যাথলিন ও মায়ার একটা সুন্দর কবিতা লিখেছিলেন ‘অ্যান্ড স্টেড হোম‘ নামে।  তার শুরুটা ছিল এ রকম— “অ্যান্ড পিপল স্টেড হোম/অ্যান্ড রেড বুকস অ্যান্ড লিসনড/ অ্যান্ড রেস্টেড অ্যান্ড এক্সারসাইজড/ অ্যান্ড মেড আর্ট অ্যান্ড প্লেড।” সাতসকালে বন্ধুদের হোয়াটসঅ্যাপে কবিতাটা শেয়ার করলেন একটি নামকরা সংস্থার প্রেসিডেন্ট ভারতবিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ার অনিরুদ্ধ বসু। অনেকের জানা নেই বই তাঁর পরম বন্ধু। লকডাউন এই বন্ধুত্বের বাঁধন আরও দৃঢ় করেছে। অনিরুদ্ধবাবু জানালেন, সবে শেষ করেছেন এই প্রতিবেদকের কাছ থেকে নেওয়া  তথাগত রায়ের ‘যা ছিল আমার দেশ’। এখন কোন বই পড়ছেন? প্রশ্নের উত্তরে জানালেন, এরপর একে একে পড়েছি মন্টেক সিং আলুওয়ালিয়ার ‘ব্যাকলেস’, আর্চি ব্রাউনের ‘রাইজ অ্যান্ড ফল অফ কমিউনিজম’। এক বন্ধু দিয়েছেন বাগবাজারের ইতিহাস ও ঐতিহ্যের উপর বিশালাকার সেই মূল্যবান বইটি। যেগুলি পড়ছি সেগুলি শেষ করে ওটা ধরব। যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের তুলনামূলক সাহিত্যের অধ্যাপক এবং পশ্চিমবঙ্গের পাঠ্যপুস্তক কমিটির চেয়ারম্যান, কবি-প্রাবন্ধিক অভীক মজুমদার। এই প্রতিবেদককে বলেন, “সাধারণত ব্যস্ততায় পড়াশোনা যথেষ্ট সুযোগ পাযই না। লকডাউন হওয়ার পর সুযোগটা অনেক বেশি হয়েছে। এলমহার্সট একটা বই লিখেছিলেন ‘পোয়েট এন্ড প্লাওম্যান‘। মনীষী এলমহার্সট রবীন্দ্রনাথের সঙ্গে কাজের অভিজ্ঞতার কথা ওই বইয়ে বিদ্ধৃত করেছেন বইটি অনুবাদের দায়িত্ব পেয়েছি। সেই কাজে এখন হাত দিয়েছি। বাংলার এক মনীষী অক্ষয়কুমার দত্তের দুশো বছর নিয়ে আলোচনা হচ্ছে। মন দিয়ে পড়বো তাঁর লেখা ‘ভারতবর্ষীয় উপাসক সম্প্রদায়‘। প্রায় দেড়শ বছর আগে তিনি বইটির প্রথম সংস্করণ লিখেছিলেন।  অনেকদিন ধরে এটি পড়ার অপেক্ষায় আছি। 

Loading...