বাড়ি কলকাতা রাস্তাঘাটে যত্রতত্র ব্যবহৃত পিপিই কিট ,উদ্বেগ প্রকাশ পরিবেশবিদদের

রাস্তাঘাটে যত্রতত্র ব্যবহৃত পিপিই কিট ,উদ্বেগ প্রকাশ পরিবেশবিদদের

43
0

কলকাতা, ২ আগস্ট : শহর কলকাতাজুড়ে করোনার বাড়বাড়ন্ত অব্যাহত। প্রতিদিন লাফিয়ে বাড়ছে আক্রান্তের সংখ্যা। কিন্তু এরই মধ্যে মহানগরের রাজপথে যত্রতত্র পরে থাকতে দেখা যাচ্ছে ব্যবহার করা পার্সোনাল প্রটেক্টিভ ইকুইপমেন্ট(পিপিই কিট), মাস্ক এবং দস্তানা। ফলে তার জেরে করোনা সংক্রমণ ছড়িয়ে যাওয়ার পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। এ বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে পরিবেশবিদরা। বিশিষ্ট পরিবেশবিদ সুমিতা বন্দোপাধ্যায় জানিয়েছেন, চিকিৎসকদের তরফ থেকে একাধিকবার বলা সত্বেও দেখা যাচ্ছে যে শহরের যত্রতত্র পড়ে রয়েছে ব্যবহার করা পার্সোনাল প্রটেক্টিভ ইকুইপমেন্ট। ফলে এর থেকে সংক্রমণ বৃদ্ধি হওয়ার প্রবণতা তৈরি হয়েছে। গোষ্ঠী সংক্রমণ এবং বাতাসে করোনা ভেসে থাকার যেসব সম্ভাবনার কথা বলা হচ্ছে সেখানে দাঁড়িয়ে জনস্বাস্থ্য- এ উদাসীনতার কোনও জায়গা নেই। সম্প্রতি রবীন্দ্র সরোবর চত্বরের ঠিক বাইরে ব্যবহার করা পার্সোনাল প্রটেক্টিভ ইকুইপমেন্ট রাস্তায় পড়ে থাকতে দেখা গিয়েছে। প্রাতঃভ্রমণকারীরা দেখেছে। এই ব্যবহৃত বর্জ্যগুলি সরিয়ে নেওয়ার দায়িত্ব পৌর সংস্থার।কিন্তু প্রশাসনের উদাসীনতা চোখে পড়ছে। পরিবেশবিদ বিশ্বজিৎ মুখোপাধ্যায় জানিয়েছেন, এ বিষয়ে পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য রাজ্য সরকারকে একাধিকবার চিঠি দেওয়া হয়েছিল। রাস্তাঘাটে যত্রতত্র ব্যবহৃত পার্সোনাল প্রটেক্টিভ ইকুইপমেন্ট পড়ে থাকার পাশাপাশি এখন বহু করোনা রোগী নিজের বাড়িতে হোম কোয়ারান্টিনে রয়েছেন। তাদের বাড়ির দৈনন্দিন বর্জ্য পরিষ্কার করার কোন উদ্যোগ পৌরসভার তরফ থেকে নেওয়া হচ্ছে না। একই ছবি রাজ্যের বিভিন্ন জেলায় দেখা গিয়েছে। কেন্দ্রীয় দূষণ নিয়ন্ত্রণ পর্ষদ যে দিক নির্দেশ জারি করেছে তা আদৌ কতটা মেনে কাজ করছে পৌরসভাগুলি তাতে যথেষ্ট সন্দেহ রয়েছে। এমনকি সাফাই কর্মীদের দুরবস্থা চোখে পড়ার মতো। খুবই সামান্য একটা মাস্ক পরে তারা সাফাই কাজ করছে। এখনো পর্যন্ত হোম কোয়ারান্টিনে থাকা করোনা রোগীদের বাড়ি থেকে কত কিলোগ্রাম বর্জ্য উদ্ধার করা গিয়েছে সেই পরিসংখ্যান পৌরসভা দিতে পারেনি। প্রতিটা পৌরসভায় সাফাই কর্মীদের ওপর নির্যাতন চলছে। মুখ খুললেই চাকরি কেড়ে নেওয়া হবে এমন হুমকিও দেওয়া হচ্ছে। রাস্তাঘাটে যথেচ্ছ ব্যবহৃত পার্সোনাল প্রটেক্টিভ পার্সোনাল প্রটেক্টিভ ইকুইপমেন্টগুলি পড়ে থাকার বিষয়ে বলতে গিয়ে সার্ভিসেস অফ ডক্টরস ফোরামের সাধারণ সম্পাদক ডাঃ সজল বিশ্বাস জানিয়েছেন, পার্সোনাল প্রটেক্টিভ ইকুইপমেন্ট এমন উপাদান দিয়ে তৈরি যেগুলিতে করোনাভাইরাস সর্বাধিক এক সপ্তাহ পর্যন্ত সক্রিয় থাকতে পারে। ফলে রাস্তায় যদি এইভাবে এই ব্যবহৃত পার্সোনাল প্রটেক্টিভ ইকুইপমেন্টগুলি পড়ে থাকে তাতে সংক্রমণ ছড়াবে  এই বর্জ্যগুলিকে দ্রুত নষ্ট করার পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে প্রশাসনকে।বর্তমান পরিস্থিতিতে প্রশাসনের বায়োমেডিকেল ওয়েস্ট ডিসপোজাল সিস্টেম পুরোপুরি ব্যর্থ হয়ে পড়েছে। বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলিকে দায়িত্ব দিলেও তারা কাজ ঠিক ভাবে করছেন না।উল্লেখ করা যেতে পারে, শহর কলকাতায় ব্যবহৃত মাস্ক সংগ্রহ করার জন্য বিভিন্ন সড়কের মোড়ে হলুদ রঙের বিন বসিয়েছে কলকাতা পৌরসভা। কিন্তু পার্সোনাল প্রটেক্টিভ ইকুইপমেন্ট যেহেতু হাসপাতালে সর্বাধিক ব্যবহৃত হয়। সেহেতু এগুলো কি নষ্ট করার দায়িত্ব হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের। আর নজরদারি চালানোর দায়িত্ব প্রশাসনের।  সম্প্রতি কলকাতার ময়দান চত্বরে ব্যবহৃত  পার্সোনাল প্রটেক্টিভ ইকুইপমেন্ট পড়ে থাকতে দেখা যায়।একই ছবি দেখা গিয়েছে বেহালা চৌরাস্তায় অবস্থিত এপেক্স নার্সিংহোমের সংলগ্ন এলাকায়।এ বিষয়ে বিক্ষোভ দেখায় স্থানীয় বাসিন্দারা। এর আগে উত্তর কলকাতা আরজিকর হাসপাতাল সংলগ্ন এলাকাতেও ব্যবহৃত হওয়া পার্সোনাল প্রটেক্টিভ ইকুইপমেন্ট রাস্তার উপর পড়ে থাকতে দেখা গিয়েছে।

Loading...