বাড়ি কলকাতা রত্না থাকলে শোভন কিছুতেই তৃণমূলে নয়, ফের সরব বৈশাখী

রত্না থাকলে শোভন কিছুতেই তৃণমূলে নয়, ফের সরব বৈশাখী

215
0

কলকাতা, ২১ জানুয়ারি : রত্না (চট্টোপাধ্যায়) থাকলে শোভন চট্টোপাধ্যায় কিছুতেই তৃণমূলে থাকবেন না। প্রশ্নের উত্তরে স্পষ্ট জানিয়ে দিলেন শোভন–বান্ধবী বৈশাখী বন্দ্যোপাধ্যায় |  এদিকে, বৈশাখী বন্দ্যোপাধ্যায়ের পদত্যাগপত্র গ্রহণ করলেন না শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়। মঙ্গলবার বৈশাখী ও পার্থবাবুর সঙ্গে এ ব্যাপারে কথা বলতে মন্ত্রীর টালিগঞ্জের বাড়িতে যান। সূত্রের খবর, সেখানে কলকাতার প্রাক্তন মেয়র শোভন চট্টোপাধ্যায়ের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়েও কথা হয়েছে দু’জনের। 
বছর দুই ধরেই তাঁদের দাম্পত্য জীবনের বিভিন্ন ঘটনা ঘিরে একের পর এক খবর উঠে আসে। প্রাক্তন মেয়র শোভন চট্টোপাধ্যায়ের ও তাঁর স্ত্রী রত্না চট্টোপাধ্যায়ের দাম্পত্য সংকটের কারণ হিসাবে বারবার বৈশাখী বন্দ্যোপাধ্যায়কেই নিশানা করেছেন শোভন পত্নী। এই দাম্পত্য কলহে শেষমেশ চলে আসে রাজনীতির রঙ। নিজের পদ খোয়ান প্রাক্তন মেয়র। স্ত্রী ও সন্তানদের থেকে দূরে থাকতে শুরু করেন বলে বহুবার শোভন চট্টোপাাধ্যায়ের বিরুদ্ধে অনুযোগ, ক্ষোভ উগড়ে দেন স্ত্রী রত্না। বৈশাখী এ দিন প্রশ্নের উত্তরে বলেন, “রত্না সম্পর্কে এটা খুব স্পষ্ট। শোভন বিষয়টি তৃণমূল নেত্রীকে জানিয়েও দিয়েছেন। এক মঞ্চ কিছুতেই দু’জন ভাগ করবেন না।“ 
অনেক দিন ধরেই মিল্লি আল আমিন কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের পদ নিয়ে টালবাহানার চলছিল| শিক্ষামন্ত্রীর বাসভাবনে গিয়েও বারবার বিষয়টি সম্পর্কে তাঁকে অবহিত করান  শোভন চট্টোপাধ্যায়ের বান্ধবী বৈশাখী বন্দ্যোপাধ্যায়। অবশেষে ১৭ ডিসেম্বর ওই পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয় বৈশাখী বন্দ্যোপাধ্যায়কে। যদিও একে ঠিক সরিয়ে দেওয়া বলতে নারাজ ছিলেন বৈশাখী বন্দ্যোপাধ্যায়। কারণ তিনি নিজেই ওই পদ থেকে অব্যাহতি চেয়ে ইস্তফাপত্র শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়কে ইমেল করেছিলেন। ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের পদ থেকে তাঁকে সরিয়ে দেওয়া হলেও ইস্তফা গ্রহণের প্রাপ্তিস্বীকারও অবশ্য করা হয়নি।

এর পর এক গুচ্ছ অভিযোগ নিয়ে শিক্ষামন্ত্রীর কাছে নিজের ইস্তফা পত্র নিয়ে হাজির হন তিনি। পদত্যাগ পত্রের শুরুতেই একগুচ্ছ অভিযোগ জানিয়েছিলেন শিক্ষামন্ত্রীকে। যার প্রধান বিষয়ই হল ধর্মীয় কারণে কোনও ব্যক্তিকে অহেতুক হয়রানি না করা হয় তা দেখা দরকার প্রশাসনের। পাশাপাশি তিনি কলেজে আর্থিক দুর্নীতিরও এদিন অভিযোগ করেন। সেসময় অবশ্য বৈশাখী বন্দ্যোপাধ্যায়ের ইস্তফাপত্র গ্রহণ করেননি পার্থ চট্টোপাধ্যায়। শিক্ষামন্ত্রী একটি উচ্চপর্যায় তদন্তের আশ্বাস দিয়েছিলেন। সেই কারণেই সেসময় তাঁর ইস্তফা তিনি গ্রহণ না করে তদন্ত ও তার ফলাফল পর্যন্ত অপেক্ষা করতে অনুরোধ করেন। যদিও বৈশাখী বন্দ্যোপাধ্যায় তারপর থেকেই সেভাবে কলেজমুখো হননি।এ ব্যাপারে পার্থবাবু বলেন, “আমাদের মধ্যে আজ কোনও রাজনৈতিক বৈঠক হয় নি। কলেজে বৈশাখীর সমস্যার বিষয়টি নিয়ে তদন্ত হচ্ছে। যতক্ষণ তা না হবে, আমি তো কোনও সিদ্ধান্ত নিতে পারব না! তাই ওনার পদত্যাগপত্র গ্রহণ করিনি। কেন করব? সাক্ষাতে কেউ যদি সমাধানসূত্র বার করতে চান, আমি সব সময় আছি। 
 গত  ১৪ আগস্ট দিল্লিতে গিয়ে বিজেপি-তে নাম লেখান শোভন-বৈশাখী| কিন্তু দলের একাংশের অসহযোগিতার অভিযোগে ২২ আগস্ট বিজেপি থেকে তাঁরা বেরিয়ে আসার কথা ঘোষণা করেন| বিজেপি রাজ্য নেতৃত্বের উপর ‘চরম ক্ষুব্ধ’ বৈশাখী জানান, ‘‘যে কাজ করার মানসিকতা নিয়ে নতুন দলে এসেছিলাম, তাতে কোথাও তাল কাটল। এই দলে আমার পথচলা আজই শেষ হবে নাকি আগামী দিনে এই দলে কাজ করতে পারব, সেটা আগামীই বলে দেবে’’। এর পর ২৯ আগস্ট দু’জনই যান কালিঘাটে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়িতে| সেখানে তাঁরা দলনেত্রীর ফোটা নেন| এর পর শোনা যাচ্ছিল শোভন বাবু ফের তৃণমূলে ফিরবেন| আবার বিজেপি নেতৃত্ব চাইছে তাঁকে কলকাতার পুরভোটে দলের কান্ডারী করতে|
শোভনবাবু কি তৃণমূলে ফিরছেন? মন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাত্কারের পর আজ এই প্রশ্নের উত্তরে বৈশাখী বলেন, “সেটা উনি আর দল ঠিক করবে। আদৌ ফিরবেন কি না, ফিরলে কবে ফিরবেন তাঁর জানা নেই।“ 
কলকাতা পুরসভার ভোট নিয়ে দামামা বাজতেই, শোভন চট্টোপাধ্যায়ের নাম ফের বিজেপি নেতাদের আলোচনায়। বিজেপির নবনির্বাচিত রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ জানিয়েছেন প্রাক্তন মেয়র শোভন চট্টোপাধ্যায়ের কথা গুরুত্ব দিয়ে ভাবছে বিজেপি। অন্যদিকে বৈশাখী বন্দ্যোপাধ্যায় সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন, তিনি চান পুরনির্বাচনে সক্রিয় হোন শোভন চট্টোপাধ্যায়। এই প্রশ্নের উত্তরে বৈশাখী বলেন, “জল্পনা যখন হচ্ছে, তার ভিত্তি আছে বই কী! এই সঙ্গে বলেন, যিনি লড়বেন তিনিই সিদ্ধান্ত নেবেন। শোভনবাবু সক্রিয় নেতা ছিলেন। আমি ছিলাম দলের একটি শাখা সংগঠনে। আমার সঙ্গে একটা কলেজের সম্পর্ক ছিল। দেখা যাক! সময়ই সব কিছু বলবে|“ 

Loading...