বাড়ি বিনোদন যিশু সেনগুপ্তর উত্তম হওয়ার গল্প

যিশু সেনগুপ্তর উত্তম হওয়ার গল্প

354
0

যিশু সেনগুপ্তর উত্তম কুমার হওয়ার ক্ষেত্র যেন তৈরিই ছিল! আগে উত্তম অভিনীত ‘চিড়িয়াখানা’য় ব্যোমকেশ হয়েছেন, ‘এক যে ছিল রাজা’য় উত্তমের করা চরিত্র করেছেন। তবে এবার আর উত্তমের করা চরিত্র নয়, পর্দায় সত্যি সত্যি উত্তম কুমার হয়ে এলেন অভিনেতা। ছবিটি অভিনেতার বায়োপিক-টায়োপিক নয়। এটা ১৯৭৬ সালে উত্তম কুমারের মহালয়া পাঠ নিয়ে। সে সময় পূজায় রেডিওতে মহালয়া পাঠ ছিল খুবই জনপ্রিয় অনুষ্ঠান। বরাবর মহালয়ার ভোরে ‘মহিষাসুরমর্দিনী’ পাঠ করতেন বীরেন্দ্রকৃষ্ণ ভদ্র। কিন্তু ১৯৭৬ সালে তাঁর বদলে ‘দুর্গা দুর্গতিনাশিনী’ পাঠ করেন উত্তম কুমার। কিন্তু ফেসবুক-টুইটারহীন সেই যুগেও মানুষ সেটা নস্যাৎ করে। প্রতিবাদের মুখে ফিরে আসে বীরেন্দ্রকৃষ্ণর কণ্ঠ। ঘটনাটা নিয়ে সে সময় প্রচুর তর্ক-বিতর্ক হয়েছিল। সেই ঘটনার প্রেক্ষাপট নিয়েই এ ছবি। প্রযোজক প্রসেনজিৎ চ্যাটার্জি। চিত্রনাট্য ও পরিচালনা করেছেন সৌমিক সেন, যিনি নিয়মিত হিন্দি ছবি করেন। ‘গুলাব গ্যাং’ খ্যাত এই পরিচালকের ‘হোয়াই চিট ইন্ডিয়া’ কয়েক দিন আগে মুক্তি পেয়েছে। সৌমিক অনেক দিন এই ছবির চিত্রনাট্য নিয়ে গবেষণা করেছেন। যিশু অবশ্য এসবের কিছুই জানতেন না, সব চূড়ান্ত হওয়ার পর প্রস্তাব আসে তাঁর কাছে। উত্তম কুমারের চরিত্রে তৈরি হলেন কিভাবে? ‘আমার শাশুড়ি অঞ্জনা ভৌমিক উত্তম কুমারের সঙ্গে বেশ কয়েকটি ছবি করেছেন। তাঁর কাছ থেকেই অনেক কিছু জানতে পেরেছি। তবে সত্যি বলতে কি, তিনি কিভাবে হাঁটতেন, কথা বলতেন, সেটা এই ছবির জন্য গুরুত্বপূর্ণ ছিল না। তাঁর মানসিক অবস্থা ফুটিয়ে তোলাটা গুরুত্বপূর্ণ ছিল। আমি তাঁর বাড়িতেও গিয়েছিলাম। তবে সেটা প্রস্তুতির অংশ হিসেবে নয়, তাঁর বাড়িতে প্রমাণ করে আসাটাই ছিল উদ্দেশ্য,’ বলেন অভিনেতা। ছবিতে ১৯৭৬ সালকে তৈরি করা হয়েছে। অভিনেতার কাছে অবশ্য এটা বড় চ্যালেঞ্জ মনে হয়নি, “কলকাতায় পুরনো বাড়ির অভাব নেই, ১৯৭৬ তো খুব বেশি আগের ঘটনা নয়। তবে রেকর্ডিংয়ের যন্ত্রটন্ত্র জোগাড় করতে প্রচুর গবেষণা করতে হয়েছে, অনেক সময় গেছে। আর আগে ‘ব্যোমকেশ’ ও ‘এক যে ছিল রাজা’ পিরিয়ড ছবি ছিল। সেই অভিজ্ঞতা কাজে লেগেছে।” যতটা সহজে বলছেন, কাজটা ততটা সহজ ছিল না। কারণ শুটিংয়ে প্রতিবার শট দিতে খুবই ভয়ে থাকতেন অভিনেতা, ‘উত্তম কুমারের নাম জড়িয়ে আছে, তাই একটু ভয়ে থাকতাম। তা ছাড়া যে সময়ের গল্প, সেই ১৯৭৬ সালের পর মাত্র চার বছর তিনি বেঁচে ছিলেন। শেষ সময়ের মানসিক অস্থিরতা চরিত্রে ফুটিয়ে তোলা জরুরি ছিল।’ ছবিটির শুটিং আরো অনেক আগেই হওয়ার কথা ছিল। এ জন্য চরিত্রের প্রয়োজনে মোটাও হয়েছিলেন যিশু। পরে যদিও ছবিটি পিছিয়ে যায়, কিন্তু যিশুর মোটা হওয়া কাজে লেগে যায়। কারণ সে সময় ‘এক যে ছিল রাজা’ করেছিলেন অভিনেতা, সেখানেও তাঁর মোটা হওয়া দরকার ছিল। যিশু মনে করেন, তিনি উত্তম কুমার চরিত্রে কেমন করেছেন সেটাই নয়, শুভাশিস মুখোপাধ্যায়ের অভিনয় দেখতেও মানুষের হলে যাওয়া উচিত। ছবিতে বীরেন্দ্রকৃষ্ণর চরিত্রে নাকি অবিশ্বাস্য কাজ করেছেন ‘হারবার্ট’ অভিনেতা।

Loading...