বাড়ি ভ্রমণ মেঘ-পাহাড়ের দেশ মেঘালয়

মেঘ-পাহাড়ের দেশ মেঘালয়

219
0

মনে হবে কোনো এক মেঘের দেশে এসেছেন। হাত বাড়ালেই মেঘ। প্রতি মুহূর্তে মেঘ, গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি ও ঠান্ডা হওয়া এসে আপনাকে ভিজিয়ে দেবে। যেন পুরো এলাকাকে মেঘে ঘিরে রেখেছে। প্রত্যেক পাহাড়ের ভাঁজে ভাঁজেও মেঘ। এ জন্য বিশ্ব কবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর এই রাজ্যের নাম রাখেন মেঘালয়। এতক্ষণ যে কথা বললাম তা উত্তর-পূর্ব ভারতের সেভেন সিস্টার রাজ্যগুলোর মধ্যে অন্যতম অনিন্দ্য সুন্দর মেঘালয়ের। এই মেঘালয়কে নিয়ে অনেকে গান ও কবিতাও লিখেছেন। কেউ কেউ মেঘালয়কে রূপের রাজা বলে নাম দেন। মেঘালয়ের শিলংয়ের উচ্চতা সমুদ্রপৃষ্ট থেকে ৫ হাজার ৬ ফুট। পাহাড়, ঝরনা আর পাহাড়ি লেক মিলে শিলং প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে ভরপুর। শুধু সৌন্দর্য নয়, মেঘালয় নামের মধ্যে রয়েছে মাহাত্ম্য। মেঘের আলয়, মানে মেঘের বসত যেখানটায়। পাহাড়ের কোলে মেঘের নিত্য খেলা আর জলপ্রপাতের গর্জনের সঙ্গে অপরূপ মেঘালয় ঘুরতে হবে সৌন্দর্য পিপাসু মন নিয়ে। এ ছাড়া খাসিয়া, গারো ও স্থানীয় বাসিন্দাদের জীবনযাপন এবং সংস্কৃতি, ঐতিহ্য শিলংকে দিয়ে বাড়তি রূপ। শিলং শহর থেকে ৫৬ কিলোমিটার দূরে চেরাপুঞ্জি। ২৫ কিলোমিটার পথ এগোলেই প্রথমে চোখে পড়ল মকডক সেতু। সেতুর পাশে ডাউন সিং সায়েম ভিউ পয়েন্ট। এই পয়েন্টে বসে অপরূপ সৌন্দর্য দেখা যায়। পাহাড়গুলো যেন সাজিয়ে রাখা হয়েছে। এরপর মজমাই গুহা, নহখালিকাই ঝরনার ভিউ পয়েন্ট, সেভেন সিস্টার ঝরনার ভিউ পয়েন্টসহ চেরাপুঞ্জিতে অসংখ্য দর্শনীয় স্থানে রয়েছে। চেরাপুঞ্জি অর্থ কমলালেবুর দ্বীপ। সেখানে কমলা ও পান-সুপারি চাষ হয় বেশি। বিশ্বের সবচেয়ে বেশি বৃষ্টিপাত অঞ্চল হিসেবে পরিচিত চেরাপুঞ্জি। শিলং শহরে দর্শনীয় স্থানের মধ্যে রয়েছে, উমিয়াম লেক, হেরিটেজ, ইউলিয়ামসন, ডন বস্কো জাদুঘর, বিমানবাহিনী জাদুঘর, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের স্মৃতিবিজড়িত বাড়ি, বিসপ অ্যান্ড ব্যাডন ঝরনার ভিউ পয়েন্ট, শিলং পিক, এলিফ্যান্ট ফলস বা হাতির ঝরনা। এ ছাড়া রয়েছে ক্লিন ভিলেজ, লিভিং রোড সেতু, ক্যারেংছড়ি ঝরনা, লাইট লুমগিরি, ডাবল ডেকার জীবন্ত শেকড়ের সেতু।

Loading...