বাড়ি প্রথম পৃষ্ঠা মুখ্যমন্ত্রীর তৈরি করোনা-কমিটির সারবত্তা নিয়ে প্রশ্নে সাড়া

মুখ্যমন্ত্রীর তৈরি করোনা-কমিটির সারবত্তা নিয়ে প্রশ্নে সাড়া

53
0

কলকাতা, ১৫ জুলাই  :  করোনার আবহে মুখ্যমন্ত্রীর তৈরি কমিটির কার্যকরিতা নিয়ে প্রশ্ন তুললেন সম্পাদক-জাতীয়তাবাদী নেতা রন্তিদেব সেনগুপ্ত। ফেসবুকে এ ব্যাপারে সাড়া মিলেছে বিস্তর। 
রন্তিদেব লিখেছেন, “করোনা আক্রান্ত হয়ে বিনা চিকিৎসায় মানুষ মারা যাচ্ছেন এই রাজ্যে। মৃতদেহ পড়ে থাকছে শহরের রাস্তায়। এই পরিস্থিতিতে আমার তিনটি অতি সরল প্রশ্ন। এক , করোনা পরিস্থিতির মোকাবিলায় একটি গ্লোবাল অ্যাডভাইজারি কমিটি গঠন করেছিলেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্ৰী। অভিজিত বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়ের মতো নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদকে রাখা হয়েছিল সেই কমিটিতে। কোটি টাকা খরচ করে কাগজে বিজ্ঞাপন দিয়ে সেই কমিটির কথা ঘোষণা করা হয়েছিল। আমি জানতে চাইছি সেই কমিটির কি এখনো অস্তিত্ব আছে। যদি থাকে তাহলে এই পরিস্থিতিতে কমিটির বক্তব্য কী ? আর এতদিন করোনা মোকাবিলায় এই কমিটি কী মহার্ঘ পরামর্শ দিয়েছে। দুই , কোটায় ডাক্তারি পাশ করা যে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক করোনা পরিস্থিতির শুরুতে রাজ্য সরকারের অন্যতম উপদেষ্টা সেজে লম্ফঝম্প শুরু করেছিলেন তিনি এখন কোথায়। এ পরিস্থিতিতে তারই বা বক্তব্য কী। তৃতীয়ত , নিজের রাজ্যের মানুষকে যিনি চিকিৎসা পরিষেবা ঠিকমতো দিতে পারেন না , যার শাসনকালে বিনা চিকিৎসায় মানুষ রাস্তায় মারা যায় , তাকে বাংলার গর্ব বলব কেন ?“

৬ ঘন্টায় এই পোস্টে লাইক, শেয়ার ও মন্তব্য যথাক্রমে ১১৫, ২৬, ২২। ভাস্কর ভট্টাচার্য লিখেছেন, “সেটা যিনি বিজ্ঞাপন দিচ্ছেন নিজে বলছেন।জনগণের টাকায়।“ তনুজা টক্রবর্তী লিখেছেন, “এই কমিটিতে আরও একজন স্বনামধন্য ডা:ছিলেন/আছেন, প্রেসক্রিপশন লেখার  অধিকার কেড়ে নিয়েছিল কোর্ট  (অনুরাধা সাহাকে  ভুল চিকিত্সায় মেরে ফেলার জন্য)। 
প্রলয় ভট্টাচার্য লিখেছেন, “আর সেই অডিট কমিটি ? সেটা কোথায় গেল ? মিথ্যে বলে, চমক দিয়ে, রাস্তায় গোল দাগ দিয়ে, নিজে মাইকে প্রচার করে মানুষকে অল্প দিনের জন্যে বিভ্রান্ত করা যায়। কিন্তু এক সময় সবকিছু ই ঝোলা থেকে বেড়িয়ে পড়ে।স্বাস্থ পরিসেবা অত সহজ জিনিস নয়। এই যে এত সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালের ঢাক পেটানো হয় , সেগুলো কোথায় গেল ? সুপার স্পেশালিটি হাসপাতাল বলতে কি বোঝায়, সেটা উনি জানেন কি? সাড়া রাজ্যে ক’জন সুপার স্পেশালিটি ডাক্তার আছেন ? তাদের ক’জন সরকারী চাকরী করে না ? এ ছাড়াও এই ধরণের হাসপাতালে যে ধরণের প্রশিক্ষিত স্বাস্থ কর্মী ও পরিকাঠামো দরকার, তাই আছে কি ? নেই। একেবারেই নেই।নাই থাকতে পারে। কারণ সে ধরণের পরিকাঠামো ও স্বাস্থ কর্মী র সাড়া দেশেই খুব অভাব। নেই যখন,তাহলে এই সব সাধারণ হাসপাতাল গুলোকে সুপার স্পেশালিটি হাসপাতাল বলা হচ্ছে কেন ? সাড়া রাজ্যে। এই ধরণের একটি মাত্র সরকারী হাসপাতাল আছে, যেটাকে আমরা এসএসকেএম হসপিটাল বলে জানি। সেখানেও অনেক কিছুর অভাব আছে। সেটাকে আগে ভালো ভাবে চালান না। কেন শুধু শুধু বড় বড় নাম দিয়ে স্বাস্থ সম্পর্কে মানুষ কে বিভ্রান্ত করছেন ? মানুষ কে এত বোকা ভাবেন কেন ?
মিহির কুমার ঘোষ লিখেছেন, “যিনি  সব বিরোধী শক্তিকে নানান ভাবে খর্ব করতে পেরেছেন এবং উচ্চপদস্থ পুলিশ ও প্রশাসনিক আধিকারিকদের (বাঙালি – অবাঙালী সব অফিসারদেরই) নীতিবোধ ও আত্মসম্মানবোধ ত্যাগ বা বিসর্জন করাতে পেরেছেন “মা মাটি মানুষের” সেই বিশ্ববরেন্য (?) নেত্রীকে  আমরা “বাংলার গর্ব” হিসেবে গণ্য করতেই পারি তাঁর অসীম ক্ষমতা ও বুদ্ধিমত্তার জন্য !!! আমি অন্ততঃ তাঁর বহুমুখী বিরল প্রতিভার সমযোগ্য কাউকে দেখিনি আজ পর্যন্ত।”

Loading...