বাড়ি সম্পাদকীয় মাওবাদীদের চেয়ে ভয়ঙ্কর বিজেপি বলছেন নেত্রী মমতা

মাওবাদীদের চেয়ে ভয়ঙ্কর বিজেপি বলছেন নেত্রী মমতা

43
0


রবীন্দ্রকুমার শীল
মাওবাদীদের চেয়ে ভয়ঙ্কর হচ্ছে বিজেপি দল বলেছেন তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় । পুরুলিযার একটি জনসভায তিনি বলেছেন, বিজেপি সবাইকে বন্দি করে রেখে দিয়েছে । যাদের বন্দি করে রেখে দিয়েছে তাদেরকে কারাগার ভেঙে বের হযে আসার ডাক দিলেন তিনি। মঙ্গলবার পুরুলিযার দলীয সভায তাঁর নতুন স্লোগান সামনে এসে উপস্থিত হল ‘বিজেপির কারাগার, ভেঙে করো চুরমার’। বিজেপি এমন একটি শক্তিশালী দল যে যেখানেই বিজেপি একবার ঢুকে গিয়েছে সেখান থেকে তাদেরকে বের করা একেবারে মুশকিল। তার একটি মাত্র কারণ হল আরএসএস। আরএসএস-এর আর্শিবাদ নিযে বিজেপি দলটা চলে। বিজেপির সঙ্গে আরএসএসের একটি অলিখিত চুক্তি রয়েছে। সেই অলিখিত চুক্তিটা হচ্ছে আরএসএসের লোকেরা বিজেপিতে ঢুকে নেতা পদে অধিষ্ঠিত হয়ে থাকেন। বিজেপিতে এখন যারা নেতৃত্ব দিচ্ছেন তারা সবাই আরএসএসের লোক। আরএসএসকে সবাই ভয় পায় । কংগ্রেস থেকে শুরু করে কাশ্মীরের ন্যাশনাল পার্টির নেতারা পর‌্যন্ত আরএসএসকে ভয় পায় । তার একটি মাত্র কারণ হচ্ছে আরএসএস একটি শক্তিশালী সংগঠন যাদের লক্ষ্য হচ্ছে ভারতের হিন্দু রাষ্ট্র নির্মাণ করা। মুসলিমদের জন্য পাকিস্তান সৃষ্টি হয়েছে। কিন্তু হিন্দুদের জন্য এখনও পর‌্যন্ত কোনও রাষ্ট্র তৈরি হয়নি। সেই কারণে আরএসএসের মূল লক্ষ্য হচ্ছে ভারতে হিন্দু রাষ্ট্র নির্মাণ করা। কাশ্মীরের বিচ্ছিন্নতাবাদীদের একেবারে নিকেশ করে দেওযার শপথ গ্রহণ করেছে আরএসএস। আরএসএস এখন বিজেপিকে সামনে রেখে তাদের মূল আদর্শের দিকে এগিয়ে চলার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে। রাজনৈতিক ক্ষমতা দখল করতে বিজেপি সক্রিয ভূমিকা পালন করতে শুরু করে দিয়েছে । সেই আরএসএস পরিচালিত রাজনৈতিক দল বিজেপিকে পরাস্ত করা সম্ভব নয় । তার একটি মাত্র কারণ হচ্ছে আরএসএস একটি শৃঙ্খলিত দল। ফলে বিজেপিকে সবাই ভয় পায় । কংগ্রেস দলের পূর্বতন নেতারা আরএসএসকে নিষিদ্ধ সংগঠন হিসাবে ঘোষণা দিয়েছিল। বেশ কযে বছর আরএসএস ভারতবর্ষে নিষিদ্ধ সংগঠন হিসাবে থাকে। কিন্তু তারপরে এই নিষিদ্ধ করার চিন্তাধারাকে ্প্রত্যাহার করে নেওযা হয। তখন থেকেই আবার আরএসএস সারা ভারতবর্ষে সক্রিয হযে উঠতে শুরু করে দিয়েছে। আরএসএসই বিজেপিকে শক্তিশালী দলে পরিণত করেছে। ্প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী অমিত শাহ এবং ্প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং আরএসএসের লোক। ফলে বিজেপিকে কেন্দ্র করে আরএসএসের লোকেরা রাজনীতিতে ্প্রবেশ করতে শুরু করে দিয়েছে। আরএসএসের চিন্তার বিকাশ দেখতে পাওয়া যাচ্ছে বিজেপি দলের মধ্যে দিযে আরএসএসের সভাপতি মোহন ভকত বিজেপিকে নির্দেশ দিয়ে থাকেন। আবার আরএসএসের লোকেরা স্বদেশি জাগরণ মঞ্চ এবং বিশ্ব হিন্দু পরিষদ গঠন করেছে। রথ যাত্রার ্প্রস্তুতি গ্রহণ করছিলেন আরএসএ দলের নেতারা।
রথ যাত্রা করে ভারতের রাজনীতির অধিকারকে ছিনিয়ে নিয়ে এসেছিলেন লালকৃষ্ণ আদবানি। লালকৃষ্ণ আদবানির ৱুদ্ধিই বিজেপিকে সরকারি ক্ষমতা পাইযে দেয় । তারপরে এসেছেন রাজনাথ সিং। তিনি আবার মোদিপন্থী। লোকসভার নির্বাচনের সময লালকৃষ্ণ আদবানিকে ্প্রধানমন্ত্রীর মুখ করে লড়াই করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছিল বিজেপি দল। তখন এনডিএ জোটে ছিল সমাজবাদী পার্টি থকে শুরু করে বেশ কয়েকটি আঞ্চলিক রাজনৈতিক দল। কিন্তু আরএসএসের সভাপতি রাজনাথ সিং সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছিলেন মোদিকে ভারতের ্প্রধানমন্ত্রীর মুখ করে নির্বাচনে লড়াই করা হবে। গুজরাতের মুখ্যমন্ত্রী তখন খুবই নাম। কারণ শিল্পপতিদের সবচেযে পচ্ছন্দের তালিকা রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব হিসাবে স্থান লাভ করেছেন নরেন্দ্র মোদি। তিনি রাজনীতির ম্যাজিক জানেন। কীভাবে কূটকৌশল অবলম্বন করে ক্ষমতা দখল করে নিয়ে হয এটা ভালো করেই ৱুঝতে পারেন। সেই কারণে রাজনাথ সিং ইচ্ছা ্প্রকাশ করেছিলেন মোদিকে ভাবী ্প্রধানমন্ত্রী হিসাবে সামনে রেখে বিজেপি নির্বাচনী লড়াই করবেন। মোদির পক্ষে বিপুল ভোট পড়েছিল। কেন্দ্রের ক্ষমতা দখল করে বিজেপি। সেই সমযে এনডিএ জোট থেকে বের হযে আসেন সমাজবাদী পার্টি থেকে শুরু করে ্প্রায বেশ কটি পার্টি। শরদ পাওযার মোদির বিরোধিতা করেছিলেন। কিন্তু রাজনাথ সিং যেভাবে গোঁ ধরে বসেছিলেন তাতে তাকে এতটুুকুও হেলানো সম্ভব হয়নি। ফলে বিহারের মুখ্যমন্ত্রী নীতীশ কুমার থেকে শুরু করে বেশ কযেটি রাজনৈতিক দল এনডিএ থেকে বের হযে গিয়েছিল। বিহারের মুখ্যমন্ত্রী নীতীশ কুমার মোদি বিরোধী পন্থী ছিলেন। তিনি লালকৃষ্ণ আদাবানিকে ্প্রধানমন্ত্রী করার পক্ষে সাওযাল করেছিলেন। কিন্তু রাজনাথের কাছে তাকে পরাস্ত হতে হয় । রাজনাথ সিং মোদিকে ্প্রধানমন্ত্রী করে দিয়েছিলেন। মোদির ্প্রধান লক্ষ্য হচ্ছে ভারতের হিন্দুদের অধিকারকে ফিরিয়ে নিেয় আসা। এইখানেই মোদির সঙ্গে অন্য রাজনৈতিক দলের বিরোধ। ভারতের সমস্ত রাজনৈতিক দলই চায ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্র। কিন্তু মোদি চান ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্র বলে কোনও কিছু হয় না। ভারতে হিন্দুরা তাদের অধিকার হারাচ্ছে। হিন্দুরা উদারন্থী বলে তারা অধিকার হারাতে শুরু করে দিয়েছে। হিন্দুদের এই উদারতার সুযোগ গ্রহণ করছে বেশ কযেটি কট্ট্র ধর্মীয সংগঠন। তাদেরকে শাযে্তা করতেই এখন মোদি পদক্ষেপ গ্রহণ করতে শুরু করে দিয়েছেন। কাশ্মীরটা যে অবস্থায ছিল সেখান থেকে কাশ্মীরকে উদ্ধার করার একটি মাত্র উপায হচ্ছে কাশ্মীরকে কেন্দ্র শাসিত অঞ্চলে পরিণত করা। এটা সাহসের সঙ্গে করে দেখিযে দিয়েছেন ্প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। কাশ্মীরের বিচ্ছিন্নতাবাদীরা যে তাস নিযে খেলা করতে শুরু করে দিয়েছিল তাকে একেবারে রুদ্ধ করে দিলেন ্প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। কাশ্মীরকে পাকিস্তানের দিকে চলে যাওযার হুমকি দেখাতো সেখানকার রাজনৈতিক নেতারা। সেই সব রাজনৈতিক নেতাদের গ্রেফতার করা হল দেশদ্রোহিতার কারণে। ন্যাশনাল পার্টির নেতা ফারুখ আব্দুল্লা থেকে শুরু করে মুফতি মহম্মদকে গ্রেফতার করলেন কেন্দ্রীয সরকার। এতে ক্ষিপ্ত হযে গেল সবাই। কংগ্রেস থেকে শুরু করে ভারতের সমস্ত বিজেপি বিরোধী রাজনৈতিক দলের নেতার এক যোগে চিত্কার করতে শুরু করে দিল। কিন্তু ্প্রধানমন্ত্রী তার সিদ্ধান্ত থেকে একটুও নড়লেন না। তিনি কাশ্মীরের ভারত বিরোধী নেতাদের শাযে্তা করার পথটাকে আরও মসৃন করে তুলতে শুরু করে দিলেন। কাশ্মীরের এখন ফারুখ আবদুল্লা, মুফতি মহম্মদের কোনও ক্ষমতা নেই। কাশ্মীর নিযে পাকিস্তান এখন আর কোনও কথা বলতে পারছে না। কাশ্মীর ছিল পাকিস্তানের বিদেশ নীতি। কাশ্মীরের গণভোট নিযে বারবার পাকিস্তান রাষ্ট্রপুঞ্জের সাধারণ সভায ভারতের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ গ্রহণ করতে ্প্রত্যক্ষ ভূমিকা পালন করে চলছিল। সেই পথটাকে একেবারে রুদ্ধ করে দেওযার ফলে ক্ষিপ্ত হযে উঠতে শুরু করে দিয়েছে। তারা এখন সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে যে ভারতের অভ্যন্তরে বেশ কিছু স্থানে বিস্তর গণ্ডগোল পাকাবে। কিন্তু সেটা করতে পারছে না। কারণ ভারতের নিকাপত্তা ব্যবস্থা একেবারে অটুট। পাকিস্তানের গুপ্তচর সংস্থা আইএসআই চুপ করে বসে নেই। তারাও ভারত বিরোধিতায অংশ গ্রহণ করতে সক্রিয ভূমিকা পালন করতে শুরু করে দিয়েছে। ভারতকে আর্থিক দিক দিযে দুর্বল করে দেওযার লক্ষ্য নিযে এগিযে চলতে শুরু করে দিয়েছে পাকিস্তানের গুপ্তচর সংস্থা আইএসআই। ভারতের নির্বাˆচনের ওপরে ্প্রভাব বিস্তার করার চেষ্টা করছে বলে জানতে পারা গিয়েছে। বিজেপি দল এবারে চেষ্টা করছে বাংলাকে অধিকাৰ করে নেওযার। বাংলার রাজনৈতিক অধিকার করে নিলে বিজেপি দল গোটা পূর্ব ভারতটাকে পরিচালনা করতে সুবিধা হবে বলে মনে করছে। সেই কারণে মোদির লক্ষ্য হচ্ছে বাংলায় বিজেপি শাসন ্প্রতিষ্ঠা করা। বিজেপি দলের মূল লক্ষ্য হচ্ছে গোটা পূর্ব ভারতের যে সমস্যা রয়েছে বিশেষ করে সীমান্ত সমস্যা তার সমাধান করা। বিজেপির সবচেযে বড় কথা তার ইস্তাহারকে সমানে রেখে লড়াই করে যেটা একমাত্র বাম দলের মধ্যে বেশ খানিকটা দেখতে পাওয়া যয়। বিজেপি দলটা ব্যক্তিগত দল নয়। বিজেপি দলটা সমষ্টিগত দল। সেখানে ব্যক্তিপূজো দেখতে পাওয়া একেবারে অসম্ভব। কিন্তু দেশে বেশ কযেটি শক্তিশালী রাজনৈতিক দল রয়েছে তারা ব্যক্তি পুজোর ওপরে বিশ্বাস করে। তাˆর কারণ একজনের ওপরে নির্ভর করে গোটা দলটা পরিচালিত হয় । পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভার ভোটকে কেন্দ্র করে বিজেপির বিরুদ্ধে তোপ দাগতে শুরু করে দিয়েছেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায। তিনি বিজেপি দলের বিরুদ্ধে দোষারোপ করতে শুরু করে দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, বিজেপি দলটা দেশে লোকেদের ধরে কারগারে ঢুকিযে দিয়েছে। কারাগার ভেঙে বের হযে আসতে হবে। ্প্রথমে নোটবন্দি, তারপরে গণতন্ত্র বন্দি, সংখ্যালঘুদের বন্দি করছে। মহাতো, কুম্ভকার থেকে শুরু করে বাউরিদের বন্দি করছে। ্প্রত্যেকে বন্দি করছে। মিডিয়াকে বন্দি করছে। সংবাদমাধ্যমকে বন্দি করছে। কেউ কিছু করলে গুলি করে মরে ফেলা হচ্ছে। দাঙ্গা বাধিয়ে দিচ্ছে। এদিকে মুখ্যমন্ত্রীর কথার পাল্টা জবাব দিযেেন বিজেপি দলের নেতা মুকুল রায়। তিনি বলেছেন, পশ্চিমবঙ্গের মানুষকে তো কারাগারে নিক্ষেপ করেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় । রাজ্যের তৃণমূল কংগ্রেসের বিরুদ্ধে মুখ খুললেই বা রাজনীতি করলেই সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে বিরোধী দলের কর্মীদের মার থেকে হয়। মিথ্যা মামলায জেলে যেতে হয়। ্প্রচার মাধ্যমের তালিকয় ভয় দেখানোর ্প্রসঙ্গে বেশ কয়েকটি সংবাদপত্রের নাম রয়েছে। তারা বিজেপি দলের আসন সংখ্যা বেশি করে দেখানো হচ্ছে। তৃণমূল কংগ্রেসের আসন কমিয়ে দেখানো হয়। এদিকে কংগ্রেস নেতারা অধীর চৌধুরী পর‌্যন্ত বলেছেন, পশ্চিমবঙ্গের ্প্রচার মাধ্যমগুলো শাসক দলের পক্ষে রায দিতে শুরু করে দিয়েছে। পাশাপাশি বিজেপির জযগান করতে শুরু করে দিয়েছে। কংগ্রেস দলটা হচ্ছে একটি ধর্মনিরপেক্ষ দল। এই দল কোনও সময়ে ধর্মকে সামনে রেখে লড়াই করে না। তৃণমূল কংগ্রেসের নেত্রী ধর্মনিরপেক্ষের কথা বললেও তিনি বহু সময়ে ধর্মকে সমানে রেখে রাজনৈতিক ফায়দা তোলার চেষ্টা করেছেন। কংগ্রেস দল ধর্ম নিযে একটি কথাও বলে না। ধর্ম হচ্ছে মানুষের ব্যক্তিগত অধিকার। কে কোনও ধর্ম পালন করবে সেটা তাদর ওপরে নির্ভর করে কংগ্রেস দল কারোর ধর্ম নিযে একটি কথাও বলে না। ভারতের মতো দেশে সবার নিজের ধর্ম পালন করার অধিকার দিয়ে থাকে। সেখানে সরকার কোনও রকমভাবে হস্তক্ষেপ করতে পারে না। বিজেপি দল ধর্ম নিযে রাজনীতি করে। তারা পরিস্কার করে বলে দিয়েছে হিন্দু ধর্মের জযে দিকে পা বাড়িযে থাকবে। পরিস্কার করে বলে দিয়েছে হিন্দু ধর্মকে রক্ষা করতে বিজেপি সব সমযে সক্রিয। বিশ্ব হিন্দু পরিষদ মনে করে হিন্দুরা ক্রমশ সংখ্যালঘিষ্ঠ হতে শুরু করে দিয়েছে। হিন্দুদের অধিকারকে রক্ষা করাই হচ্ছে তাদের লক্ষ্য। বিজেপি দল এই নীতিকে সমর্থন করে।

Loading...