বাড়ি প্রথম পৃষ্ঠা মমতা সরকারের পূর্ণাঙ্গ বাজেট ২০২০

মমতা সরকারের পূর্ণাঙ্গ বাজেট ২০২০

466
0

   সোমবার দ্বিতীয় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সরকারের শেষ পূর্ণাঙ্গ বাজেট পেশ করছেন অর্থমন্ত্রী অমিত মিত্র । বাংলা এখন সারা দেশের মডেল, গুড গভর্নেন্সের মাধ্যমে সামাজিক সুরক্ষা নিশ্চিত করেছে । বাংলায় আর্থিক বৃদ্ধির ১০.৪ শতাংশে পৌঁছেছে যা জাতীয় গড়ের দ্বিগুণ। ‘ভারতে শিল্পে বৃদ্ধির হার ২০১৯-২০ সালে বাংলায় শিল্পোৎপাদনে বৃদ্ধির হার ৩.৮ শতাংশ। গোটা দেশের তুলনায় পাঁচ গুণ বেশি। কোথায় গেল মোদী সরকারের মেক ইন ইন্ডিয়া।’ বাজেটে কেন্দ্রের সমালোচনা করেন অর্থমন্ত্রী তিনি বলেন, দেশ চরম দুরবস্থার মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে |এদিনের বাজেটে রাজ্যের উন্নয়নের ফিরিস্তি তুলে বলেন, বাংলা প্রথম ক্ষুদ্র শিল্পে, বাংলার প্রথম গ্রামীণ গৃহ নির্মাণে, সংখ্যালঘুদের স্কলারশিপে, বাংলা প্রথম ই-টেন্ডারিংয়ে, বাংলা প্রথম ইজ অব ডুইং বিজনেসে। তাঁর দাবি, গ্লোবাল বিজনেস সামিটে পাঁচ বছরে বিশাল বিনিয়োগ এসেছে। বড় শিল্পের ক্ষেত্রে ৪.৪৫ লক্ষ টাকার বিনিয়োগ বাস্তবায়িত হয়েছে।  তিনি জানান, সমবায় ব্যাঙ্ক থেকে ২ লক্ষ ৪৩ হাজার ৪১৯ কোটি টাকা ঋণ দেওয়া হয়েছে ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্পের জন্য। ১ হাজার ১২০ কোটি টাকা বকেয়া কর আদায় হয়েছে। এখনও ২৫ হাজারের বেশি এই ধরনের মামলা পড়ে রয়েছে। তাঁর ঘোষণা, ৩১ মার্চের মধ্যে আবেদন করলে এককালীন ২৫ শতাংশ দিয়ে ভ্যাট, জিএসটি সংক্রান্ত বিবাদ নিষ্পত্তি করা যাবে। যারা এই সুযোগ নিতে পারবেন না তারা এপ্রিল থেকে ৫০ শতাংশ (ছটি কিস্তিতে) দিয়ে বিবাদ নিষ্পত্তি করতে পারবেন। ৩১ মার্চ ২০২০-এর মধ্যে মোটর ভেহিকেল আইনে সমস্ত জরিমানা জমা দিলে ৫০ শতাংশ মুকুব করার প্রস্তাব। এদিন কৃষি আয়কর সম্পূর্ণ ছাড়ের প্রস্তাব দিয়েছেন তিনি ।এদিনের বাজেটে দেশের জিডিপির হার নিয়ে সমলোচনা করে তিনি বলেন, ভারতের জিডিপির হার তলানিতে | বিগত ৮ বছরে দেশের জিডিপি বৃদ্ধির হার নেমেছে | পরিকল্পিত, উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ভাবে চক্রান্ত চলছে | ভারতকে বিভাজনের পথে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে | ভারতের চেয়ে বাংলার জিডিপি বৃদ্ধির হার দ্বিগুণ | বাংলার জিডিপি বৃদ্ধির হার ১০.৪ শতাংশ | তিনি জানান, ২২, ২৬৬ কোটি বিদেশী বিনিয়োগ এসেছে বাংলায়, বাজেটে সাফল্যের কথা তুলে ধরলেন অমিত মিত্র। রাজ্য বাজেটে পরিবহনের ক্ষেত্রে বড় ছাড়ের প্রস্তাব ঘোষণা করেন অর্থমন্ত্রী । মোটর ভেইক্যালসে সমস্ত জরিমানা মকুব।হাজার টাকা পেনশনের দেওয়ার ঘোষণা বাজেটে | তপশিলি জাতির প্রবীণদের জন্যে ‘বন্ধু’ প্রকল্পের ঘোষণা বাজেটে | এই প্রকল্পে তপশিলি জাতির প্রবীণদের জন্য মাসে ১০০০ টাকা করে ভাতা দেওয়া হবে । যারা অন্য কোনও পেনশন পান না, তারা এই সুবিধা পাবেন।  এই খাতে আগামী আর্থিক বছরে ২৫০০ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব। অসংগঠিত শ্রমিক পরিবারের জন্যেও সামাজিক সুরক্ষা ঘোষণা হয় এদিনের বাজেটে ।   

বিনামূল্যে মিলবে সামাজিক সুরক্ষা। আগে পিএফ-এর জন্য শ্রমিকদের দিতে হত ২৫ টাকা। রাজ্য দিত ৩০টাকা। এখন থেকে পুরোটাই রাজ্য সরকার দেবে। দেড় কোটি পরিবার এর সুবিধা পাবে।’গত আর্থিক বছরে রাজ্যে ৯ লাখ ১১ হাজার মানুষের কর্মসংস্থান হয়েছে বলে দাবি করে এদিনের বাজেটে ‘কর্মসাথী প্রকল্পের প্রস্তাব দেন অর্থমন্ত্রী অমিত মিত্র । তাঁর  ঘোষণা, ‘এই প্রকল্পে প্রতিবছর ১ লক্ষ বেকার যুবক যুবতীদের কর্মসংস্থান নিশ্চিত করা হবে। এর জন্য ২লক্ষ টাকা পর্যন্ত ঋণ দেওয়া হবে। আগামী অর্থবর্ষে ৫০০ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব।’বাজেটে ‘চা সুন্দরী’ প্রকল্পের প্রস্তাব। চা বাগানে কর্মরত গৃহহীনদের জন্য আবাসনের ব্যবস্থা করা হবে। এ ছাড়া চা বাগানগুলিতে আয়কর সম্পূর্ণ মকুব করা হচ্ছে।’ছোট ও মাঝারি শিল্পের জন্য ‘বাংলাশ্রী’ প্রকল্পের প্রস্তাব।এদিন তিনি জানান, ‘ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পের ৪৯টি ক্লাস্টার বেড়ে হয়েছে ৫৪৫। আগামী তিন বছরে আরও ১০০টি ক্লাস্টার গড়ে তোলা হবে। ২০১৯-এর ১ এপ্রিল থেকে যে সংস্থা কাজ শুরু করেছে তারাও এর সুবিধা পাবে। এর জন্য আগামী অর্থবর্ষে বরাদ্দ ১০০কোটি টাকা।’ বকেয়া মামলার নিষ্পত্তির জন্য একাধিক ফাস্ট ট্র্যাক কোর্টের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে এই বাজেটে । যেখানে ৯০ দিনের মধ্যে মামলার নিষ্পত্তি হবে।”পারিবারিক জমি একত্রিত করার ক্ষেত্রে স্ট্যাম্প ডিউটি ৪.৫% থেকে কমিয়ে ০.৫% করার প্রস্তাব।’এদিনের বাজেটে শিক্ষার ক্ষেত্রে বড় ঘোষণা, গত আট বছরে বিশ্ববিদ্যালয়ের সংখ্যা ১২টি থেকে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪২টি বলে জানিয়ে অর্থমন্ত্রী ঘোষণা করেন, আগামী দু’বছরে রাজ্যে আরও তিনটি বিশ্ববিদ্যালয় তৈরি হবে । আগামী অর্থবর্ষে এ জন্য ৫০ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে।’‘হাসির আলো’ প্রকল্পে রাজ্যে  সম্পূর্ণ বিনামূল্যে বিদ্যুৎ দেওয়ার প্রস্তাব । যারা তিন মাসে ৭৫ ইউনিটের মধ্যে বিদ্যুত খরচ করেন তারাই এই সুবিধা পাবেন |  মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের লেখা কবিতা পড়ে বাজেট শেষ করলেন অমিত মিত্র।    

Loading...