বাড়ি বিনোদন “ভারি ঘুঙুরটা খুঁজে পেয়েছি“— সোনালী চৌধুরী

“ভারি ঘুঙুরটা খুঁজে পেয়েছি“— সোনালী চৌধুরী

201
0

কলকাতা, ২৫ এপ্রিল : সিনেমায় অভিনয়  বছর কুড়ি বয়সে। ২০০২ থেকে ২১টি ছবিতে অভিনয়।  এছাড়াও  ১৫টি টিভি সিরিয়াল, দুটি জনপ্রিয় চ্যানেলে রিয়েলিটি শো— সব মিলিয়ে সোনালী চৌধুরী নবীন প্রজন্মের কাছে অতি পরিচিত একটি নাম। নৃত্যশিল্পী হিসেবেও প্রতিষ্ঠা পেয়েছেন। 
বেহালা চৌরাস্তার কাছে তিন তলা বাড়ি। গাছ- গাছালি ঘেরা প্রকৃতিবান্ধব পরিবেশ। লকডাউনে বাপের বাড়িতেই কাটাচ্ছেন সোনালী (কুচু)। ফুটবলার স্বামী রজত ঘোষদস্তিদার থাকেন গর্ফায়। ‘হিন্দুস্থান সমাচার’-কে সোনালি জানালেন, আসলে আমার দিদি বেহালায় কাছেই থাকেন।  ও-ই বাবা-মা’র মূল দেখাশোনা করে। ও ছেলের কাছে বেঙ্গালুরু গিয়ে আটকে পড়েছে। আমাকে তাই থাকতে হয়েছে এখানে। 
লকডাউনে শুরু থেকে বন্দি। জানালেন, ১৭ মার্চ শেষ শুটিং ছিল। রাত ১২ টায় প্যাকআপ হল। সেই যে বাড়ি এসেছি, আর বার হইনি।  সয়য় কাটছে কীভাবে? অভিনেত্রীর জবাব, “প্রথম দুদিন তো ঘুমিয়েই কাটালাম। বিশ্রামের এ রকম সুযোগ তো হয়না! তারপর একে একে আলমারি ঘেঁটে দেখলাম এমন প্রচুর জামাকাপড় রয়েছে, যেগুলো ব্যবহারই করিনি। ঠিক করলাম, লকডাউন কাটলে ঠিক জায়গায় দান করে দেব। 
সোনালি বলেন, “গত এক মাসে অনেক পুরনো ছবি গুছিয়ে রাখলাম। বিভিন্ন পত্র-পত্রিকায় সাক্ষাৎকার নানা সময়ে প্রকাশিত হয়েছে। এগুলি ছড়িয়ে ছিটিয়ে ছিল। একে একে সংগ্রহ ও সঙ্কলন করলাম। ভারী ঘুঙুরটা খুঁজে পেয়েছি। ছোটবেলা থেকেই কত্থক নাচতাম। ওতে ওই ঘুঙুর পড়তাম। এখন কেউ এটা নাচেনা। আসলে লোকের চাহিদা এখন বদলে গিয়েছে। বছর আট ধরে ঘরে এক কোনে পড়ে ছিল। ধুলো ঝেড়ে যত্ন করে তুলে রাখলাম। লকডাউনের মাঝেই ১লা বৈশাখ ফেসবুক লাভে নাচলাম। প্রচুর লাইক এসেছে।  আমার এখন ইচ্ছে হচ্ছে এই নাচের ব্যাপারটা ভালোমতো অনুশীলন করব।  তখন কাজে লাগবে। 
সারা দিনের রুটিন কীরকম? সোনালির জবাব, “বরাবরই দেরীতে ঘুম থেকে ওঠার অভ্যাস।  তারপর নাচের মহড়া, শুটিংয়ে যাওয়ার প্রস্তুতি— এভাবেই মোটামুটি চলে সাধারণ দিনগুলি। কিন্তু লকডাউনে সময় দিচ্ছি বাড়ির বাগানে। নারকেল, আম, সুপুরি, বেলফুল— নানা ধরনের গাছ।  এগুলির পরিচর্যা করছি। কোকিলের মনোরম ডাক শুনছি। বই পড়ছেন? সোনালি জানান, “বেশ ক‘টি সম্প্রতি পড়লাম।  মনি ভৌমিক এর লেখা ‘হ্যালো আইনস্টাইন‘।  বিজ্ঞানীর জীবনের আপাত অজানা অনেক কিছু জানলাম।“ 
লকডউন সম্পর্কে আপনার সংক্ষিপ্ত মতামত কী? সোনালি বললেন, “খুব খারাপ লাগছে পরিযায়ী শ্রমিকদের দুর্দশা দেখে। সবার কাছে, সবচেয়ে প্রিয় হল নিজের ঘর।  শ্রমিকরা দূর দূর থেকে হেঁটে ফেরার চেষ্টা করেছেন। অনেকে পেরেছেন অনেক পারেননি। আমাকে বড় নাড়া দিয়েছে এটা।“

Loading...