বাড়ি আন্তর্জাতিক ভারতের প্রধানমন্ত্রী ও রেলমন্ত্রীর প্রতি কৃতজ্ঞ বাংলাদেশ : মো. নূরুল ইসলাম সুজন

ভারতের প্রধানমন্ত্রী ও রেলমন্ত্রীর প্রতি কৃতজ্ঞ বাংলাদেশ : মো. নূরুল ইসলাম সুজন

50
0


ঢাকা, ১ আগস্ট ): বর্তমানে ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে যে সুসম্পর্ক রয়েছে, বহু চেষ্টা করেও সেই সম্পর্ক কখনই নষ্ট করা যাবে না। তাছাড়া ভারতের সঙ্গেই বাংলাদেশের বাণিজ্যিক সম্পর্ক বেশি। ভারত ও বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর মধ্যে সম্পর্কও এখন অত্যন্ত আন্তরিক ও নিবিড়। বহুভাষী সংবাদ সংস্থা হিন্দুস্থান সমাচার-এর সঙ্গে বিশেষ সাক্ষাৎকারে এমনই অভিমত পোষণ করেছেন বাংলাদেশের রেলপথ মন্ত্রী মো. নূরুল ইসলাম সুজন। ভারতের পক্ষ থেকে বাংলাদেশ রেলওয়েকে ১০টি লোকোমোটিভ উপহার হিসেবে দেওয়া, বর্তমানে দু’দেশের মধ্যে সম্পর্ক ও উভয় দেশের মধ্যে রেল যোগাযোগ বৃদ্ধি-সহ বিভিন্ন বিষয়ে হিন্দুস্থান সমাচার-এর সঙ্গে একান্ত সাক্ষাৎকারে কথা বলেছেন বাংলাদেশের রেলপথ মন্ত্রী মো. নূরুল ইসলাম সুজন। ভারতের পক্ষ থেকে ১০টি লোকোমোটিভ উপহার দেওয়া প্রসঙ্গে রেলপথ মন্ত্রী বলেন, ভারতের প্রধানমন্ত্রী ও রেলমন্ত্রীর প্রতি সত্যিই কৃতজ্ঞ বাংলাদেশ।

হিন্দুস্থান সমাচার : বর্তমানে ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে সম্পর্ক কেমন?

রেলপথ মন্ত্রী : বর্তমানে বাংলাদেশে রেলে লোকোমোটিভ সল্পতা রয়েছে। বিষয়টি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে জানাই। তিনি বলেন, আগে জানাওনি কেন? আমরা আপাতত ভারত থেকে কয়েকটি লোকোমোটিভ ধার হিসেবে আনতে পারি। এরপরে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা ভারত সফরের সময় মাননীয় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীজীর কাছে ধার হিসেবে ১০টি মিটারগেজ ও ১০টি ব্রডগেজ লোকোমোটিভ চান। আর ভারতের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী সঙ্গে সঙ্গে লোকোমেটিভ উপহার হিসেবে দিতে রাজি হয়ে যান। কিন্তু মিটারগেজ লোকোমোটিভ অনেক পুরানো তাই আমরা আনিনি। কতটা আন্তরিক সম্পর্ক থাকলে এক দেশের প্রধানমন্ত্রী আর এক দেশের প্রধানমন্ত্রীর কাছে ধার চাইতে পারেন। হাজারো চেষ্টা করে এ সম্পর্ক নষ্ট করা যাবে না। আপনাদেরকেও অপপ্রচারকারীদের শনাক্ত করার অনুরোধ করছি।
হিন্দুস্থান সমাচার : ভারতের সঙ্গে রেল যোগাযোগ বাড়াতে কী ধরনের পদক্ষেপের কথা ভাবা হচ্ছে?
রেলপথ মন্ত্রী: ভারতের সঙ্গে আমাদের সবচেয়ে বাণিজ্য সম্পর্ক বেশি। বর্তমানে ভারতের সব রেললাইন ব্রডগেজ। এছাড়া মিটারগেজ এখন বিশেষ কোথাও চলে না। কম প্রশস্ত রেললাইন হওয়ায় রেলের গতি বাড়ানো যায় না এবং মিটারগেজ কোচে যাত্রী ও মালপত্র কম পরিবহন করা যায়। তাই সার্বিক দিক বিবেচনা করে দেশের সমস্ত রেল লাইন ডুয়েল গেজে রূপান্তরিত করা হচ্ছে। অর্থাৎ মিটার ও ব্রডগেজ উভয় ট্রেন চলাচল করতে পারবে। এতে রেলের গতি ও পরিবহন ক্ষমতা বাড়বে এবং ভারতের সঙ্গে রেল যোগাযোগ সহজ হবে। তিনি বলেন, ১৯৬৫ সালে পাকিস্তান-ভারত যুদ্ধের আগে ভারতের সঙ্গে যতগুলি রেল রুট ছিল সেগুলি আবার চালু করা হচ্ছে। এর মধ্যে বেশ কয়েকটি ইতিমধ্যে চালু করা সম্ভব হয়েছে। আর কয়েকটির কাজ চলছে। এছাড়া ভারতের অনুদানে আখাউড়া-আগরতলা নতুন রেল লাইন নির্মাণ করা হচ্ছে। 
হিন্দুস্থান সমাচার: বিরোধীদের মতে, বর্তমান সরকার ভারতের সঙ্গে নতজানু পররাষ্ট্রনীতি নিয়ে চলছে, আপনার কী অভিমত?
রেলপথ মন্ত্রী : একটি বিশেষ রাজনৈতিক দল আছে, যাঁরা ভারত বিরোধী ও সংখ্যালঘুদের বিরুদ্ধে সাম্প্রদায়িকতা ছড়িয়ে রাজনীতি করে। আওয়ামী লীগ বাংলাদেশকে জঙ্গিদের ঘাঁটি হিসেবে ব্যবহার করতে দেওয়ার পররাষ্ট্রনীতিতে বিশ্বাসী নয়। তিনি বলেন, আমরা অকৃতজ্ঞ না। আমরা ভুলিনি ১৯৭১ সালে আমাদের স্বাধীনতা সংগ্রামে মুক্তি যোদ্ধাদের অস্ত্র, প্রশিক্ষণ ও আন্তর্জাতিক মহলে সমর্থনের জন্য ভারতের প্রধানমন্ত্রী কীভাবে চেষ্টা করেছেন। এক’কোটি শরনার্থীকে আশ্রয় দিয়েছেন, আমরা তা ভুলিনি। এমনকি মিত্র বাহীনি হিসেবে ভারতের বহু সৈন্য আমাদের স্বাধীনতা সংগ্রামে প্রাণ দিয়েছেন। এই জন্যই সব-সময় বলি, ভারতের সঙ্গে আমরা রক্তের সম্পর্কে আবদ্ধ।তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের পররাষ্ট্রনীতিতে বিশ্বাসী। জাতির জনক বঙ্গবন্ধু প্রতিবেশীর সঙ্গে সু-সম্পর্ক রাখার যে নীতিতে বিশ্বাসী ছিলেন আমরাও সেই রাজনীতিতে বিশ্বাস করি। জাতির জনকের সেই পররাষ্ট্রনীতিতেই আমরা চলছি। প্রতিবেশী রাষ্ট্রে জঙ্গিবাদ সরবরাহে বিশ্বাসী নই আমরা। যতই চেষ্টা করা হোক জাতির জনকের সেই সৌহার্দের পররাষ্ট্রনীতি থেকে আওয়ামী লীগ তথা বর্তমান সরকারকে সরানো যাবে না। তিনি আরও বলেন, আইএসআই অনেক চেষ্টা চালিয়েছিল বাংলাদেশ-মায়ানমার সীমান্তে ঘাঁটি গড়ার। কিন্তু মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা শক্ত হাতে ব্যবস্থা নেওয়ায় তারা বাংলাদেশের মাটি থেকে সরে যেতে বাধ্য হয়েছে। জননেত্রীর একটাই কথা, বাংলাদেশের মাটি ব্যবহার করে কাউকে কোনও রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে জঙ্গিকর্মকান্ড চালাতে দেওয়া হবে না। মন্ত্রী বলেন, ভারত আমাদের সবচেয়ে কাছের প্রতিবেশী। আমাদের চাল, ডাল, পিঁয়াজ, রশুন, আদা, গরম মশলা, কলকারখানার কাঁচামাল যখন যা লাগে সবই আসে ভারত থেকে। ব্যবসায়ীরা যেখানে কম দামে পাবে সেখান থেকে মালপত্র কিনবে। ভারত থেকে কম দামে পায় বলে তাঁরা সেখান থেকে কেনেন। তাই ভারত বিরোধী অপপ্রচার চালিয়ে সাধারণ মানুষকে বোকা বানানোর রাজনীতি যারা করেন, তাদের চিনতে হবে।
হিন্দুস্থান সমাচার : ভারত থেকে পণ্য পরিবহণে রেল কতটা ভূমিকা রাখতে পারে ?

রেলপথ মন্ত্রী : করোনা প্রকোপের শুরুতে রেলপথ বন্ধ থাকলেও গত দু’মাস ধরে সব পণ্য রেলই পরিবহণ করছে। পার্সে স্পেশাল ট্রেন, কন্টেইনার ট্রেন-সহ সব ধরণের পণ্যই ভারত থেকে রেলের মাধ্যমে আসছে। এখন থেকে ব্যবসায়ীদের চাহিদা মতো ভারতের সঙ্গে সমস্ত ধরনের পণ্যবোঝাই ট্রেন চলাচল করবে। তবে যমুনা নদীর উপরে বঙ্গবন্ধু রেল সেতু না হওয়া পর্যন্ত বঙ্গবন্ধু সেতুর পূর্ব পর্যন্ত ভারত থেকে রেলে পণ্য আনা হবে। আর রেল সেতুর কাজ দু’এক মাসের মধ্যে শুরু হবে। ওই রেল ব্রিজের কাজ শেষ হলে এবং টঙ্গী থেকে আখাউড়া মিটারগেজ লাইন ডুয়েলগেজে রূপান্তরিত হলে ভারতের পশ্চিমাঞ্চল থেকে আগরতলায়ও যে কোন ট্রেন যেতে পারবে।

Loading...