বাড়ি কলকাতা ব্যাঙ্ক প্রতারণার অভিযোগে গ্রেফতার ৪

ব্যাঙ্ক প্রতারণার অভিযোগে গ্রেফতার ৪

124
0

কলকাতা, ১৫ জানুয়ারি :  ভুয়ো ন্যাশনাল সেভিংস সার্টিফিকেট জমা দিয়ে ৪০ লক্ষ টাকার ব্যাঙ্ক জালিয়াতি । সেই ব্যাঙ্কের সঙ্গেই প্রতারণা করার অভিযোগ উঠল । ঘটনায় নির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্তে নামে পুলিশ । গ্রেফতর করা হয়েছে ৪ জনকে । ধৃতদের কাছ থেকে উদ্ধার হয়েছে প্রচুর সংখ্যক ভুয়ো ন্যাশনাল সেভিংস সার্টিফিকেট ও কিষাণ বিকাশপত্র । ঘটনায় ডাকবিভাগ কিংবা ব্যাঙ্কের কেউ জড়িত আছে কিনা তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ । ধৃতদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে ।

গোয়েন্দাদের ধারণা, জালিয়াতি চক্রের পিছনে কোন ব্যাঙ্ক কর্মী অথবা ডাক বিভাগের কর্মীর থাকার সম্ভাবনা রয়েছে ।পুলিশ জানিয়েছে, ধৃতদের নাম প্রশান্ত মণ্ডল, নবকুমার মিথিয়া, প্রদীপ চক্রবর্তী ও কৌশিক রায়চৌধুরী । ২০১৭ সালে যোধপুর পার্কের জয়পুর অ্যান্ড বিকানির ব্যাঙ্কের শাখায় ঋণের অনুমোদন হয় ৷ মুদির দোকান আধুনিক করার নাম করে তারা ৬০টি ন্যাশনাল সেভিংস সার্টিফিকেট জমা দেয় তারা । ব্যাঙ্ক কর্তৃপক্ষের কাছে দক্ষিণ ২৪ পরগনার ফলতার বাসিন্দা প্রশান্ত মণ্ডল ৬০ টি ন্যাশনাল সেভিংস সার্টিফিকেট দেখান । প্রতিটির মূল্য এক লাখ টাকা । অর্থাৎ ৬০ লাখ টাকা জমা করতে চেয়ে ব্যবসা বাড়ানোর জন্য ৪০ লাখ টাকা ঋণ করেছিল প্রশান্ত । ঋণ পাওয়ার পর থেকেই বেপাত্তা হয়ে যায় সে ।
২০১৮ সালে একটি রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্কের জওহরলাল নেহেরু রোডের শাখায় যায় চার অভিযুক্ত । ন্যাশনাল সেভিংস সার্টিফিকেট জমা দেয় । প্রত্যেকটির মূল্য এক লক্ষ টাকা । ওই শংসাপত্রের বদলে মোট ৪০ লক্ষ টাকা ঋণ নেয় তারা । কিন্তু প্রায় বছরখানেক কেটে যাওয়ার পরও ঋণের টাকা মেটায়নি তারা । এর মধ্যে বদলি হয়ে নতুন ব্যাঙ্ক ম্যানেজার ওই শাখায় আসেন । ব্যাঙ্ক কর্তৃপক্ষ খোঁজখবর নিতে শুরু করে । ম্যানেজারের প্রচেষ্টায় ওই শংসাপত্রগুলো যাচাই ও পরীক্ষা করা হয় । তখনই দেখা যায় যে, সেগুলো জাল । অথচ যখন এই শংসাপত্রগুলো যাচাই করা হয়েছিল তখন সেগুলি আসল বলেই রিপোর্ট এসেছিল ব্যাঙ্কের কাছে । ফলে এর পিছনে জালিয়াতি চক্র রয়েছে সেই বিষয়ে নিঃসন্দেহ হন ব্যাঙ্ক আধিকারিকরা ।
ব্যাঙ্কের পক্ষ থেকে এই বিষয়ে শেক্সপিয়র সরণি থানায় অভিযোগ দায়ের করা হয় । অভিযোগ দায়ের করেন স্টেট ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়ার জোনাল অফিসের ডিভিশনাল ম্যানেজার সুদীপ কুমার চৌবে । তদন্ত শুরু করেন লালবাজারের গোয়েন্দারা । প্রথমে ফলতা থেকে প্রশান্ত মণ্ডলকে গ্রেফতার করা হয় । তার নামেই নেওয়া হয়েছিল ঋণ । এর পর কলকাতা ও দমদম থেকে ধরা পড়ে বাকিরা । তাদের বাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে ন্যাশনাল সেভিংস সার্টিফিকেট উদ্ধার হয় । যার মূল্য ১০ হাজার টাকা করে । এছাড়া উদ্ধার হয় কিষাণ বিকাশপত্র । যার একেকটির মূল্য ৫০ হাজার টাকা । এগুলো দেখিয়ে ফের নতুন ভাবে অন্য একটি ব্যাঙ্কে  জালিয়াতি করার ছক কষেছিল এই চক্রটি । ধৃতদের জেরা করে এই চক্রের অন্য মাথাদের ধরার চেষ্টা চলছে বলে জানিয়েছে পুলিশ । তাঁর অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত শুরু করে পুলিশ ৷ গোয়েন্দারা মনে করছেন স্টেট ব্যাঙ্ক অব জয়পুর বিকানির, যোধপুর পার্ক শাখাটি তুলনামূলকভাবে ফাঁকা হওয়ার কারণে প্রতারণায় সুবিধা হয়‌েছে ।

Loading...