বাড়ি রাজ্য মালদা বিয়ের মাত্র দু’দিনের মাথায় অষ্টাদশী দম্পতির ঝুলন্ত দেহ

বিয়ের মাত্র দু’দিনের মাথায় অষ্টাদশী দম্পতির ঝুলন্ত দেহ

25
0

মালদা, ০৯ ফেব্রুয়ারি ।  বিয়ের মাত্র দু’দিনের মাথায় রহস্যজনক অবস্থায় অষ্টাদশী দম্পতির ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার করলো পুলিশ। মঙ্গলবার দুপুরে এই ঘটনাকে ঘিরে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে ইংরেজবাজার থানার কোতোয়ালি এলাকায়। কি কারনে ওই দম্পতি এই অস্বাভাবিক মৃত্যুর ঘটনাটি ঘটেছে তা নিয়ে তদন্ত শুরু করেছে সংশ্লিষ্ট থানার পুলিশ। মৃতের  পরিবার এই ঘটনার পিছনে কি কারণ রয়েছে তা ভেবে উঠতে পারছেন না। যদিও ওই নবদম্পতির রহস্য মৃত্যু নিয়ে এখনো পরিষ্কার ভাবে কিছু জানতে পারি নি তদন্তকারী পুলিশ কর্তারা । তবে পুলিশের প্রাথমিক অনুমান গলায় ফাঁস জড়িয়েই একসাথেই স্বামী-স্ত্রী দুজনেই আত্মঘাতী হয়েছেন।
এদিন দুপুর বারোটা নাগাদ ছেলের বাড়ির শোবার ঘর থেকেই ওই দুজনের দেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এরপর মৃতদেহ দুটি ময়নাতদন্তের জন্য মালদা মেডিকেল কলেজের মর্গে পাঠানোর ব্যবস্থা করে পুলিশ।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, মৃত দুইজনের নাম নির্মল সাহা (২০) এবং প্রিয়াঙ্কা মন্ডল (১৮)।  নির্মলের বাড়ি কোতুয়ালি এলাকায় এবং প্রিয়াঙ্কার বাড়ি মুর্শিদাবাদ জেলার ফারাক্কা থানা এলাকায় । দুদিন আগেই প্রিয়াঙ্কাকে বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে বিয়ে করেছিল নির্মল বলে জানতে পেরেছে পুলিশ । পেশায় ফাইবার মিস্ত্রি ছিল নির্মল সাহা।  দুদিন আগে বিয়ে করে কোতোয়ালির নিজের বাড়িতে উঠেছিল স্ত্রীকে নিয়ে নির্মল।  আর তারপরে এমন কি ঘটনা ঘটলো, যাতে করে নবদম্পতিকে আত্মহত্যার পথ বেছে নিল, সেই বিষয়টি ভাবিয়ে তুলেছে তদন্তকারী পুলিশ কর্তাদের।
মৃত নির্মলের মা নিয়তি সাহা পুলিশকে জানিয়েছেন,য় দুদিন আগেই বাড়ির একমাত্র ছেলে ফারাক্কার ওই মেয়েটিকে বিয়ে করে নিয়ে আসে।  এজন্য ছেলেকে একটু বকাবকি করা হয়েছিল। ওকে বলেছিলাম পছন্দ থাকলে পরিবারের সবাইকে জানাতে পারতো। তাহলে ধুমধাম করে বিয়ে দেওয়া যেত। কিন্তু হঠাৎ করেই দুদিন আগে ফারাক্কার ওই মেয়েকেই পালিয়ে বিয়ে করে বাড়িতে নিয়ে আসে ছেলে নির্মল । তারপর আর কোন কথা হয় নি।
মৃত যুবকের মা নিয়তি দেবী আরও বলেন, মঙ্গলবার সকালে আমি কাজে বেড়িয়েছিলাম। বাড়িতে স্বামী নব সাহাও ছিল না । ছেলে এবং পুত্রবধূ ছিল বাড়িতে । এদিন দুপুরে ছেলের বন্ধুরা নতুন বউকে দেখতে আসে। তখনই তারা দেখে বাইরে থেকে বাড়ির দরজা বন্ধ। অনেক ডাকাডাকি করার পর দরজা না খোলায় জানালা দিয়ে ওরা দেখতে পাই যে ঘরের সিলিংয়ে দুজনে ঝুলছে। এরপরই খবর দেওয়া হয় পুলিশকে । পাড়া-প্রতিবেশী দরজা ভেঙে ছেলে ও পুত্রবধূর দেহ উদ্ধার করে। হঠাৎ করে কেন এমন ঘটনা ঘটলো, কিছুই বুঝে উঠতে পারছেন না পরিবারের লোকেরা।
পুলিশ জানিয়েছে,  এই ঘটনার ব্যাপারে মৃত প্রিয়াঙ্কার মণ্ডলের ফারাক্কার বাড়িতে খবর দেওয়া হয়েছে। দুটি দেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মেডিকেল কলেজে পাঠানোর ব্যবস্থা করা হয়েছে। কিন্তু হঠাৎ করে বিয়ের দুদিনের মাথায় ওই নবদম্পতি কেন আত্মহত্যা করতে গেল , তানিয়েও ধোঁয়াশা হয়েছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট হাতে আসার পরেই মৃত্যুর প্রকৃত কারণ বলা যাবে জানিয়েছে পুলিশ। পাশাপাশি পুরো ঘটনাটি নিয়ে তদন্ত শুরু করেছে ইংরেজবাজার থানার পুলিশ।

Loading...