বাড়ি দেশ বিজেপির ইস্তাহারকে গণতন্ত্রের উচ্ছ্বাস বলে অভিহিত করলেন প্রধানমন্ত্রী

বিজেপির ইস্তাহারকে গণতন্ত্রের উচ্ছ্বাস বলে অভিহিত করলেন প্রধানমন্ত্রী

236
0

নয়াদিল্লি, ৮ এপ্রিল : বিজেপির ইস্তাহারের মধ্যে দিয়ে গণতন্ত্রের প্রকৃত উচ্ছ্বাস প্রকাশ পেয়েছে। সোমবার রাজধানী দিল্লিতে ইস্তাহার প্রকাশ অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে আত্মপ্রত্যয়ের সঙ্গে এমনই জানালেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। 
এদিন প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিজেপির সঙ্কল্প পত্রের (ইস্তাহার) মূল ভিত্তিই হচ্ছেই একই দিকে এক লক্ষ্যে এগিয়ে চলা। এই ইস্তাহারে ৭৫টি অঙ্গীকার করা হয়েছে। যা নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সম্পন্ন করা হবে। ভারতের উন্নয়নমুখী নীতিগুলিকে সমাজের বহুস্তরে নিয়ে যাওয়ার জন্য কঠোর ভাবে চেষ্টা চালিয়ে গিয়েছে বর্তমান সরকার। আমাদের নীতিগুলির মধ্যে বহুমাত্রিকতা নিয়ে আসার চেষ্টা করেছি। যাতে পরিস্থিতি অনুযায়ী সেই নীতিগুলি বাস্তবায়িত হতে পারে। জাতীয়বাদ এবং ঐক্য বর্তমান সরকারের কাছে গুরুত্বপূর্ণ বলে অভিহিত করে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী বলেন, ২০১৯ সালের লোকসভা নির্বাচনে জাতীয়তাবাদ, একতা এবং সুরক্ষাই ২০১৯ লোকসভা নির্বাচনে দল বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছে। 
দেশের বিভিন্ন জায়গায় জলাভাব সমস্যার প্রসঙ্গে বলতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী বলেন, পানীয় জলের অভাব বর্তমান সময়ে ভারতের সব চেয়ে বড় সমস্যা। জলের উৎসগুলিকে যাতে পর্যাপ্ত পরিমাণে ব্যবহার করা যায়, তার জন্য নতুন সংস্থা গড়ে তোলা হবে। সমাজের সকল স্তরের মানুষেরা যাতে স্বক্ষম হয়ে ওঠে এবং পানীয় জলের স্থায়ী জলের উৎসের সুবিধা পায় তার জন্য সচেষ্ট হবে সরকার। তামিলনাডুতে জলাভাব তীব্র আকার ধারণ করেছে। 
এদিন প্রধানমন্ত্রী প্রতিশ্রুতি দেন, ক্ষমতায় এলে উত্তরপ্রদেশের জন্য নতুন লক্ষ্য স্থির করা হবে। সে রাজ্যে উন্নয়নকে গণআন্দোলনে পরিণত করা হবে। স্বচ্ছ ভারত অভিযান সম্পর্কে বলতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, জনগণের যোগদানের ফলেই এই অভিযান সফল হয়েছে। স্বচ্ছতা এখন গণআন্দোলনে পরিণত হয়েছে। সরকার একা এটা করতে পারত না। স্বচ্ছ ভারত অভিযানের সাফল্যের জন্য সংবাদমাধ্যম এবং দেশের যুব সম্প্রদায়কে ধন্যবাদ জানান প্রধানমন্ত্রী। 
দলীয় ইস্তাহার প্রসঙ্গে বলতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিগত পাঁচ বছরে সরকার চালানোর সাফল্যতা এবং অভিজ্ঞতা থেকেই ২০১৯ সালের লোকসভা নির্বাচনের ইস্তাহারের মূল অনুপ্রেরণা। কেন্দ্রীয় সরকারের উদ্দেশ্য প্রসঙ্গে বলতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ভাল, সহজ, দায়বদ্ধ, কর্তব্যপরায়ণ প্রশাসন দেওয়াটাই লক্ষ্য। প্রযুক্তিকে ব্যবহার করে সমাজের নিচুতলাতেও যাতে উন্নয়ন পৌঁছয়ে দেওয়া যায় সেদিকে অনেক কাজ করা হয়েছে। 
প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, ২০৪৭ সালে ভারতের স্বাধীনতার ১০০ বছর পূরণ হবে। সেই সময় ভারত যাতে উন্নত রাষ্ট্রে পরিণত হয়, সেটাই আমার লক্ষ্য। আসন্ন পাঁচ বছর অর্থাৎ ২০১৯ থেকে ২০২৪ সালই হচ্ছে সেই স্বপ্ন পূরণ করার মূল ভিত্তি। 
আসন্ন লোকসভা নির্বাচনে জনগণের অবদানের কথা উল্লেখ করে নরেন্দ্র মোদী বলেন, জনগণের ভোটের জন্য ২০১৪ সালে শক্তিশালী এবং নির্ণায়ক সরকার কেন্দ্রে গঠিত হয়েছিল। পাঁচ দশকের পরিবারতান্ত্রিক শাসনে যে খামতি তৈরি হয়েছিল। তার বেশির ভাগই বিগত পাঁচ বছরে পূরণ করা হয়েছে। আসন্ন সময় আরও বেশি গতিতে কাজ করে যাবে কেন্দ্রীয় সরকার। আগামী পাঁচ বছর খুবই গুরুত্বপূর্ণ সময় বলে চিহ্নিত করে নরেন্দ্র মোদী বলেন, আগামী পাঁচ বছর খুবই গুরুত্বপূর্ণ সময়। কারণ ২০২২ সালে ভারতের স্বাধীনতার ৭৫ বছর পূরণ করা হবে। আমরা যাতে স্বাধীন পরিবেশে নিশ্বাস নিতে পারে তাঁর জন্য বহু নারী ও পুরুষ নিজেদের জীবনের বলিদান দিয়েছিলেন। তাঁদের স্বপ্নগুলিকে পূরণ করাটা আমাদের পবিত্র কর্তব্য ।

Loading...