বাড়ি রাজ্য বাঁকুড়া বাঁকুড়ায় থিম ছেড়ে এবার সাবেকি পুজোতে মন উদ্যোক্তাদের

বাঁকুড়ায় থিম ছেড়ে এবার সাবেকি পুজোতে মন উদ্যোক্তাদের

35
0
An Indian Deity : Goddess Durga. The deity made out of clay is adorned with decorative work. The worship during this "Durga Puja Festival" takes place in a temporary shed made out of canvas and bamboo, and is decoarated with colourful cloth.

বাঁকুড়া,  ৪ অক্টোবর: করোনার জের এবার সার্বজনীন দুর্গাপূজায়। বাঁকুড়া জেলার বিগ বাজেটের  পুজো গুলি এবার থিম এর পরিবর্তে সাবেকি পুজো তে মজেছে। বিরাট বিরাট মডেল,প্যান্ডেল আলোকসজ্জাৱ এবার আর দেখা মিলবে না পূজামণ্ডপগুলোতে, থাকবে না কোনও থিমের বালাই। এৱ একটাই কারণ জনজীবনে করোনাভাইরাস এর আতঙ্ক।দীর্ঘ ছয় মাসের অধিক কাল ধরে সারা দেশজুড়ে চলছে করোনা ভাইরাসের দাপট,বহু মানুষ যেমন আক্রান্ত তেমনি চলে গেছে বহু জীবন। এই ভাইরাসকে প্রতিহত করতে বদলে গেছে জীবনযাত্রা। খুব প্রয়োজন না হলে বাইরে বেরোনো যেমন বন্ধ, দোকানপাট হাট বাজার সব ই সীমিত সময়ের মধ্যে, দূরত্ব বজায় রেখে চলাফেরা, মুখে মাক্স স্যানিটাইজার এর ব্যবহার। এই দীর্ঘ সময় স্কুল কলেজ বন্ধ পড়াশোনা এককথায় শিখেয় উঠেছে, ব্যবসা । সাধারণ মানুষের হাতে নেই অর্থ, রোজগারের চিন্তায় আমজনতা এখন আকুল। এই পরিস্থিতিতে পুজো কমিটিগুলি আর ঝুঁকি নিতে নারাজ। সরকারি নির্দেশ মত ভিড় এড়ানোৱ ব্যবস্থা, করোনাভাইরাস এর বিরুদ্ধে যাবতীয় ব্যবস্থা গ্রহণ যেমন একটা বিরাট সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে অপরদিকে মানুষের রুজি-রোজগারের টান পড়ায় পুজো কমিটির তহবিল টান পড়েছে। এই পরিস্থিতিতে কোন পুজো কমিটি আর ঝুঁকি নিতে চাইছে না। তাই থিম পুজো বাদ দিয়ে এবার সাবেকি পুজো তে মন দিতে বাধ্য হয়েছে তারা।বাঁকুড়া শহরের অন্যতম বিগ বাজেটের পুজো হরেশ্বৱ মেলা-ইন্দারাগোড়া সার্বজনীন দুর্গোৎসব কমিটির অন্যতম কর্মকর্তা বিশ্বজিৎ চেল বলেন, করোণা ভাইরাসের কারণে এবার আমরা সাবেকি পুজোতে মন দিয়েছি। ভিড় এড়াতে এটা একটা বড় উপায। পুজোতে আনন্দ উপভোগ করতে এসে ভক্ত-দর্শকদের মধ্যে করোনার সংক্রমণ না ঘটে সেদিকে লক্ষ্য রেখে এবার আমাদের প্যান্ডেল তৈরি হচ্ছে। দূর থেকে প্রতিমা ও মন্ডপ দর্শন করা যায় তার ব্যবস্থা রাখা হচ্ছ।হৱেশ্বর মেলা পুজো কমিটিৱ অন্যান্যবারের বাজেট থাকে প্রায় ১৫থেকে ১৬ লক্ষ টাকা । এবার করোনা পরিস্থিতিতে তাদের বাজেট কমে প্রায় দু লক্ষ টাকা করা হয়েছে। শহরের অন্যতম আর এক বিগ বাজেটের পুজো লালবাজার সার্বজনীন একই পদ্ধতি অবলম্বন করেছে ।পনের লক্ষ টাকার পুজোর বাজেট কাটছাঁট করে এবার আনা হয়েছে তিন লক্ষ টাকায়। পুজো কমিটির সম্পাদক পরেশনাথ দাস মোদক বলেন শুধু পুজো প্যান্ডেলে নয়, এবার সরকারি নির্দেশ মতো বন্ধ রাখতে হয়েছে প্রতিদিন সংগীত অনুষ্ঠান সহ বিভিন্ন অনুষ্ঠান ।আলোকসজ্জা অনেকটা সীমিত করা হয়েছে। করোনার আক্রমণ ঠেকাতে দূরত্ব বজায় রাখার ব্যবস্থা, স্যানিটাইজার এর ব্যবস্থা রাখা হচ্ছে।অন্যতম, বিগ বাজেটের পুজো পুয়াবাগান সার্বজনীন এবার সবুজ বাংলা থিম করে দেবীর আরাধনায় করবে ।সারা বিশ্বকে তথা বাংলাকে করোনার হাত থেকে মুক্ত করতে দেবীর কাছে প্রার্থনা জানানো হবে। তবে অন্যান্যবারের তুলনায় এবার তাদের বাজেট কিছুটা হলেও কম হবে জানালেন পুজো কমিটির সম্পাদক বিদেশ পাত্র।শহরের সবকটি বিগ বাজেটের পুজো উদ্যোক্তারা মোটামুটি ভাবে এবার সাবেকিয়ানা ফিরে যেতে চাইছে। শুধুমাত্র করোনা আতঙ্ক নয় করোনাৱ জেৱে প্রত্যেক পুজো কমিটি গুলির তহবিলের টান পড়বে এই আশঙ্কা থেকেই আগাম সর্তকতা হিসাবে এই পদক্ষেপ এমনটাই ধারণা আমজনতার।

Loading...