বাড়ি রাজ্য nadia ফেসবুকে গুজব ছড়ানোয় গ্রেফতার হওয়া দুই যুবকের পুলিশ হেফাজত।

ফেসবুকে গুজব ছড়ানোয় গ্রেফতার হওয়া দুই যুবকের পুলিশ হেফাজত।

97
0

নিজস্ব সংবাদদাতা, নবদ্বীপ। সোশ্যাল মিডিয়ায় কোয়ারান্টিন সেন্টার কে নিয়ে গুজব ছড়ান এবং লকডাউন উপেক্ষা করার অভিযোগে গ্রেফতার হওয়া দুই যুবক কে দুদিনের পুলিশ হেফাজতের নির্দেশ দিল নবদ্বীপের আদালত। পুলিশ জানায়, পুলিশ হেফাজত পাওয়া দুই যুবকের নাম ঝন্টু দত্ত ও বাবুসোনা সাহা। তাদের বাড়ি নবদ্বীপ পৌরসভার ১৬ নম্বর ওয়ার্ডের সরকার পাড়া এলাকায়। পুলিশ সূত্রের খবর ১৬ নম্বর ওয়ার্ডের সরকার পাড়ায় একটি ফ্লাট বাড়িকে পরিযায়ী শ্রমিকদের জন্য কোয়ারান্টিন সেন্টার হিসাবে ঘোষণা করে পৌরসভা। এই কথা জানতে পেরে তীব্র ক্ষোভে ফেটে পড়েন এলাকাবাসী। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছায় স্থানীয় পুলিশ। পাশাপাশি সেখানে পৌঁছান পৌরসভার এক্সকিউটিভ অফিসার অমিতাভ ভট্টাচার্য। এলাকাবাসী পুলিশ ও পৌর প্রতিনিধি কে সামনে পেয়ে চরম বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করে। পুলিশ ও পৌর প্রতিনিধি বিক্ষোভকারীদের বোঝাবার চেষ্টা করেও ব্যর্থ হয়। বিক্ষোভকারী জনতা কোনও কিছুই মানতে রাজি নন। তাদের একটাই দাবি এখানে কোনও ভাবেই কোয়ারান্টিন সেন্টার করতে দেওয়া হবে না। প্রায় একঘন্টা বিক্ষোভ চলার পর তখনকার মতো রণে ভঙ্গ দেন বিক্ষোভকারীরা। ওইদিন সন্ধ্যায় বাসিন্দারা রাস্তার দুদিকে বাঁশ ও টিন দিয়ে ঘিরে দেয়। যাতে কোনও গাড়ি ওই এলাকায় ঢুকতে না পারে। মঙ্গলবার দিনভর ওই এলাকা কে টিন ও বাঁশ দিয়ে অবরুদ্ধ করে রাখেন বাসিন্দারা। সন্ধ্যায় পুলিশ গিয়ে টিন ও বাঁশ সরিয়ে দিলেও কোনও অপ্রতিকর ঘটনা ঘটেনি। গোল বাঁধে এরপরই। পুলিশ হেফাজত পাওয়া ঝন্টু দত্ত ও বাবুসোনা সাহা তাদের ফেসবুকে কোয়ারান্টিন সেন্টার নিয়ে গুজব ছড়িয়ে দেয়। যার জেরে এলাকা সহ নবদ্বীপ শহরজুড়ে তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। বিষয়টি নজরে আসতেই তদন্ত শুরু করে নবদ্বীপ থানার পুলিশ। মঙ্গলবার গভীর রাতে সরকার পাড়ার বাসিন্দা অভিযুক্ত দুই যুবক কে তাদের বাড়ি থেকে গ্রেফতার করে পুলিশ। বুধবার অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ভারতীয় দণ্ডবিধির ৫০৫-বি এবং  ডিজাস্টার ম্যানেজমেন্ট আইনে ১৪৩,১৪৫, ১৮৮ ও ২৮৩ ধারায় মামলা রুজু করে আদালতে পাঠিয়ে তদন্তের স্বার্থে পাঁচ দিনের পুলিশ হেফাজতের আবেদন জানায়। আদালত ধৃতদের পাঁচ দিনের বদলে দুদিনের মঞ্জুর করে।

Loading...