বাড়ি সম্পাদকীয় ফিরে দেখা : ২০২০-তে চিরবিদায় নিলেন যাঁরা

ফিরে দেখা : ২০২০-তে চিরবিদায় নিলেন যাঁরা

96
0

 

করোনা মহামারির মধ্যে দিয়ে ২০২০-র শেষ লগ্নে এসে দাঁড়ালেও প্রতিটি মানুষের মনে গেঁথে থাকবে এই বছরটা। বিষাদের ছায়া যেন কার্যত গ্রাস করেছে গোটা ২০২০ সালকেই। ইতিমধ্যেই করোনার কবলে পড়ে বিশ্বজুড়ে মারা গিয়েছেন প্রায় ১৫.৪২ লক্ষ মানুষ। আর মাত্র কয়েকটা দিন পরই শুরু হবে নতুন বছরের পথ চলা। কিন্তু এখনও অব্যাহত করোনার দাপট। এই বছরই আমরা হারিয়েছি বেশ কিছু সেরা ব্যক্তিত্বকে। তাঁদের প্রয়াণে আরও গাঢ় হয়েছে বিষাদের ছায়া।

দেখে নেওয়া যাক বিষাদের এই বছরে কাঁরা পৃথিবীর মায়া ছেড়ে না-ফেরার দেশে চলে গেলেন  :

জানুয়ারি

কোবি ব্রায়ান্ট :  বছরের প্রথম মাসেই প্রয়াত হন বাস্কেটবলের কিংবদন্তী কোবি ব্রায়ান্ট । ২৬ জানুয়ারি  যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত হয়ে মারা যান তিনি।  মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল  ৪১ বছর ।  মার্কিন বাস্কেটবল লীগ এনবিএ’র পাঁচ বারের চ্যাম্পিয়ন ব্রায়ান্ট ছিলেন এক্ষেত্রে সর্বকালের সেরাদের একজন খেলোয়াড়।  তার মৃত্যুতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে শোকের ছায়া নেমে এসেছিল।

ফেব্রুয়ারি

তাপস পাল :  ১৮ ফেব্রুয়ারি হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে প্রয়াত হন বাংলা চলচ্চিত্র জগতের অন্যতম জনপ্রিয় অভিনেতা তাপস পাল। ৬১ বছর বয়সে  জীবনাবসান হয় এই তারকার। অভিনেতার অকাল প্রয়াণে শোকের ছায়া নেমেছিল টলিউডে। ২০০১ সালে তৃণমূল কংগ্রেসের হাত ধরে সক্রিয় রাজনীতিতে পা রাখেন তিনি। পর পর দু’বার বিধানসভা নির্বাচনে জেতেনও তিনি। ২০০৯ এবং ২০১৪ সালে কৃষ্ণনগর লোকসভা কেন্দ্র থেকে সাংসদ নির্বাচিত হন তাপস পাল। প্রাক্তন সাংসদের প্রয়াণে শোকস্তব্ধ হয়ে যায় বাংলার রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গও।

ক্যাথেরিন জনসন :  এ বছরের ২৫ ফেব্রুয়ারি মারা যান নাসার সর্বকালের অন্যতম সেরা গণিতবিশারদ ক্যাথেরিন জনসন । মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ১০১ বছর। কিন্তু বার্ধক্যজনিত কারণে শরীরে একাধিক রোগ বাসা বাঁধলেও জীবনের শেষদিন পর্যন্ত প্রাণ শক্তিতে বলিয়ান ছিলেন ক্যাথেরিন। প্রথম মহাকাশে মানুষ পাঠানোর ক্ষেত্রেও তাঁর অবদান ভোলার নয়। তাঁর জীবনির উপর ভিত্তি করে তৈরি হয় হলিউডের বিখ্যাত ছবি ‘হিডেন ফিগার্স’।

মার্চ

পি. কে. ব্যানার্জি :  দীর্ঘদিন অসুস্থ থাকার পর ২০ মার্চ মৃত্যু হয় কিংবদন্তি ফুটবলার তথা কোচ পিকে ব্যানার্জির। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৮৩ বছর। ভারতের ফুটবলের সর্বকালের অন্যতম সেরা ছিলেন তিনি। যেমন ফুটবলার হিসেবে দাপিয়েছেন ভূ-ভারতের ময়দান, তেমনই কোচ হিসেবে বিদেশের মাটিতে দাঁড়িয়ে কুড়িয়েছেন সম্মান। কিংবদন্তি এই প্রাক্তন ফুটবলারের প্রয়াণে শোকের ছায়া নেমে আসে ফুটবল দুনিয়ায়।

এপ্রিল

জিন ডেইচ  :  এই বছরের ২১ এপ্রিল প্রয়াত হন  সকলের ছোটবেলার সাথী সেই ‘টম এন্ড জেরি’-র স্রষ্টা জিন ডেইচ। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৯৫ বছর। অস্কারজয়ী এই অ্যানিমেশন চলচ্চিত্র নির্মাতার ঝুলিতে রয়েছে ‘পপাই, দ্য সেলার ম্যান’-এর মত বিখ্যাত কার্টুন চরিত্ৰ।

ইরফান খান  :  মাত্র ৫৩ বছর বয়সে প্রতিভাবান অভিনেতা ইরফান খান গত ২৯ এপ্রিল মারা যান। ২০১৮ সাল থেকে তিনি ক্যান্সারের বিরুদ্ধে লড়াই করছিলেন। তাঁর মস্তিষ্কে নিউরো-এন্ডোক্রাইন টিউমার হয়েছিল। পরে,  তিনি কোলন সংক্রমণে আক্রান্ত হয়ে মারা যান। জুরাসিক পার্ক সহ বিশ্ব সিনেমার আঙিনায় একাধিক ছাপ রেখেছেন ইরফান। ভারতীয় সিনে জগতেও ইরফানের অবদান ভোলার নয়। এদিকে অভিনেতার প্রয়াণে দুঃখপ্রকাশ করতে দেখা যায় জুরাসিক পার্ক সিনেমার পরিচালক কলিন ট্রেভরোকেও।

ঋষি কাপুর :  ইরফানের মৃত্যুর একদিন পরই মারা যান প্রবীণ অভিনেতা ঋষি কাপুর। ৬৭ বছর বয়সে ৩০ এপ্রিল প্রয়াত হন বলিউডের বর্ষীয়ান অভিনেতা ঋষি কাপুর। বোন ম্যারো ক্যানসারে আক্রান্ত ছিলেন তিনি।  ১৯৭০ সালে মেরা নাম জোকার ছবিতে প্রথম অভিনয় করেন ঋষি কাপুর। হিরো হিসাবে ঋষি কাপুরের পথচলা শুরু ১৯৭৩ সালে মুক্তি প্রাপ্ত ছবি ববির সঙ্গে। তাঁর মৃত্যুতে শোকের ছায়া নেমে আসে বলিউডে।

মে

মোহিত ভাগেল :  মাত্র ২৭ বছর বয়সে ২৩ মে মারা যান ‘রেডি’ ছবির অভিনেতা মোহিত ভাগেল । তিনি ক্যান্সারে আক্রান্ত ছিলেন। তার মৃত্যুতে বলিউডে নেমে এসেছিল শোকের ছায়া ।

অজিত যোগী : হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে  ২৯ মে প্রয়াত হন ছত্তিশগড়ের প্রথম মুখ্যমন্ত্রী অজিত যোগী। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৭৪ বছর। জননেতা হিসেবে ব্যাপক জনপ্রিয় হলেও একেবারেই অভাবনীয়ভাবে রাজনীতির ময়দানে পা রেখেছিলেন তিনি । তাঁর মৃত্যুতে গভীর শোক নেমে এসেছিল ছত্তিশগড়ের রাজনৈতিক মহলে।   

জুন

ওয়াজিদ খান  :  ১ জুন  প্রয়াত হন সংগীত পরিচালক ওয়াজিদ খান। জনপ্রিয় সাজিদ-ওয়াজিদ জুটির অংশ ছিলেন তিনি।  মাত্র ৪২ বছর বয়সে তিনি মারা যান। করোনা সংক্রমণের ফলে তাঁর কিডনিতে  ইনফেকশন হয় । ওয়াজিদের মৃত্যুতে বলিউডে শোকের ছায়া নেমে এসেছিল

বাসু চট্টোপাধ্যায় :  গত ৪ জুন ‘বাতোঁ বাতোঁ মে’  পরিচালক বাসু চট্টোপাধ্যায় মারা যান। বার্ধক্যজনিত সমস্যায় ভুগছিলেন ৯৩ বছরের এই পরিচালক।

সুশান্ত সিং রাজপুত : ১৪ জুন বলিউডের জনপ্রিয় অভিনেতা সুশান্ত সিং রাজপুতের মৃতদেহ পাওয়া যায় তাঁর বান্দ্রার ফ্ল্যাটে। মৃত্যুকালে অভিনেতার বয়স হয়েছিল ৩৪ বছর। এই মৃত্যুর খবর নাড়িয়ে দিয়েছিল গোটা দেশকে। রীতমতো চমকে উঠেছিল বলিউড থেকে সাধারণ মানুষ ৷ মুম্বই পুলিশ আত্মহত্যা বলে দাবি করলেও তাঁর পরিবারের তরফে খুনের অভিযোগ আনা হয়। শুরু হয় ‘জাস্টিস ফর সুশান্ত’ আন্দোলন। তদন্তে উঠে আসে বলিউডের মাদক যোগের প্রসঙ্গও। সুশান্তের মৃত্যুকে ঘিরে তোলপাড় পড়ে যায় বিনোদন জগতে।

জুলাই

সরোজ খান :  গত ৩ জুলাই জনপ্রিয় নৃত্য পরিচালক সরোজ খান হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যান। বয়স হয়েছিল ৭১ বছর। ৪০ বছরের বেশি সময় ধরে তিনি বলিউডের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। ৩ হাজারের বেশি গানে নৃত্য পরিচালনা করেছেন তিনি। তাঁর নাচের স্টেপ এখনও বলিউডে জনপ্রিয়।  ২০০৫ থেকে ২০১০ সাল পর্যন্ত সরোজ খান একটি টিভি রিয়েলিটি শোয়ের বিচারক ছিলেন।  তাঁর প্রয়াণে শোকস্তব্ধ হয়ে যায় গোটা বলিউড।

এননিও মরিকোন :  গত ৬ জুলাই প্রয়াত হন অস্কারজয়ী সঙ্গীত প্রযোজক এননিও মরিকোন। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৯১ বছর । সঙ্গীতের জগতে মরিকোন দ্বিতীয় সঙ্গীত প্রযোজক,  যিনি অস্কার পুরস্কার জিতেছিলেন। তাঁর মৃত্যুসংবাদে ভেঙে পড়ে গোটা বিশ্ব সঙ্গীতজগৎ।

কমেডিয়ান জগদীপ :  গত ৮ জুলাই প্রয়াত হন কমেডিয়ান জগদীপ । দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন বার্ধক্যজনিত সমস্যায় ভুগছিলেন ৮১ বছরের এই প্রবীণ অভিনেতা। কমেডিয়ান হিসেবে তাঁকে খ্যাতি এনে দেয় ‘ব্রহ্মচারী’  ছবিটি । প্রায় ৪০০-রও বেশি ছবিতে কাজ করা এই শিল্পীর প্রয়াণে সোশ্যাল মিডিয়ায় শোকজ্ঞাপন করেছিলেন বহু তারকা।

আগস্ট

সমীর শর্মা  : গত ৫ আগস্ট ‘হাসি তো ফাসি’ অভিনেতা সমীর শর্মার ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার হয় মুম্বইয়ে তাঁর বাসভবন থেকে। মৃত্যুকাল তাঁর বয়স হয়েছিল ৪৪ বছর। টেলি দুনিয়ায় তাঁর সফর শুরু হয় একতা কাপুরের হাত ধরেই।  তাঁর অকাল প্রয়াণে বিনোদন জগতে নেমে আসে শোকের ছায়া।

জন হিউম  :  এ বছরেই ৬ আগস্ট মারা যান জন হিউম । উত্তর আয়ারল্যান্ডবাসীর কাছে তিনি ছিলেন ভগবানের স্বরূপ। একাধিক সামাজিক কাজের জন্য গোটা বিশ্বব্যাপীই তিনি পৌঁছেছিলেন খ্যাতির শিখড়ে। ১৯৯৮-এর ‘গুড ফ্রাইডে চুক্তি’-এর অন্যতম নায়ক ছিলেন জন হিউম। এই কারণে নোবেল শান্তি পুরস্কারও পেয়েছিলেন হিউম।

নিশিকান্ত কামাত  :  গত ১৭ আগস্ট লিভার সিরোসিসে হায়দরাবাদের একটি হাসপাতালে মারা যান ‘দৃশ্যম’ পরিচালক নিশিকান্ত কামাত। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৫০ বছর । মরাঠি ছবি ডম্বিভালি ফাস্টের সঙ্গে ২০০৫ সালে পরিচালক হিসাবে কাজ করা শুরু করেন নিশিকান্ত। প্রথম ছবিতে ব্যবসায়িক সাফল্যের পাশাপাশি এসেছিল জাতীয় স্বীকৃতি। ২০০৬ সালে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারের আসরে সেরা মরাঠি ছবির পুরুস্কার পেয়েছিল এই ছবি।

সেপ্টেম্বর

এস পি বালাসুব্রহ্মণ্যম  :  গত ২৫ সেপ্টেম্বর চেন্নাইয়ের একটি হাসপাতালে করোনা-সম্পর্কিত জটিলতার কারণে মারা যান জনপ্রিয় গায়ক এস পি বালাসুব্রহ্মণ্যম। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৭৪। দক্ষিণ ভারতের পাশাপাশি বলিউডি ছবিতে একাধিক জনপ্রিয় গান উপহার দিয়েছেন তিনি। অনুরাগারী তাঁকে পাদুম নীলা উপাধি দিয়েছিলেন। বহুমুখী প্রতিভার অধিকারী এসপি বালাসুব্রহ্মণ্যম গায়ক, অভিনেতা, সঙ্গীত পরিচালক হিসাবে কাজ করেছেন দক্ষিণী ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রিতে । নানা ভাষায় তাঁর ৪০ হাজার গান রয়েছে । গত পাঁচ দশক ধরে চুটিয়ে কাজ করে গিয়েছেন তিনি । আর সুরের জাদুতে ভুলিয়ে রেখেছিলেন আসমুদ্রহিমাচলের সমস্ত সঙ্গীতপ্রেমী মানুষকে। তাঁর মৃত্যুতে দেশের সঙ্গীত জগতে নেমে এসেছিল শোকের ছায়া।   

অক্টোবর

এডি ভ্যান হেলেন  : এ বছরের গত ৭ অক্টোবর ৬৫ বছর বয়সে ক্যানসারের কারণে মারা যান বিখ্যাত গিটারবাদক ও ‘ভ্যান হেলেন’  ব্যান্ডের সহ-প্রতিষ্ঠাতা এডি ভ্যান হেলেন। অত্যাধুনিক রক গানের কারণে ১৯৮৪ সালে মার্কিন তালিকায় প্রথম স্থান অধিকার করেন ভ্যান হেলেন ব্যান্ড ।

সিন কনারী : ৩১ অক্টোবর ৯০ বছর বয়সে পৃথিবী থেকে চিরতরে বিদায় নেন   বিশ্বখ্যাত জেমস বন্ড অভিনেতা   সিন কনারী।  ১৯৬২ থেকে ১৯৮৩-এর মধ্যে প্রায় সাতটি ‘বন্ড’ সিনেমায় অভিনয় করেন তিনি। বেশ কিছু কাল ধরেই অসুস্থ ছিলেন  এই স্কটিশ অভিনেতা। মৃত্যুকালে বাহামা দীপপুঞ্জে ছিলেন তিনি। সেখানেই মারা যান তিনি। দ্য আনটাচেবল’-এ আইরিশ পুলিশের চরিত্রে অভিনয়ের জন্য কনারি ১৯৮৮ সালে অস্কার পান। রানির কাছ থেকে নাইট উপাধিও পেয়েছিলেন তিনি।   

নভেম্বর

ফরাজ খান :  গত ৪ নভেম্বর মারা যান মেহন্দি’ অভিনেতা ফরাজ খান । মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৫০। বুকে সংক্রমণের ফলে স্নায়ুজনিত সমস্যায় জর্জরিত ছিলেন তিনি। ১৯৯৬ সালে ‘ফারিব’-এ প্রথম ফারাজকে দেখা যায় নায়ক হিসেবে।  

আসিফ বাসরা  :  ১২ নভেম্বর হিমাচল প্রদেশের ম্যাকলিয়ডগঞ্জের বাসভবন থেকে উদ্ধার হয় ‘পাতাললোক’  অভিনেতা আসিফ বাসরার ঝুলন্ত দেহ। বলিউডের বহু সিনেমায়, অ্যাডে পরিচিত মুখ ছিলেন ৫৩ বছর বয়সী আসিফ বাসরা। নিজের অভিনয়ের গুণে দর্শকদের আপন হয়ে উঠেছিলেন তিনি।

দিয়েগো মারাদোনা  : ২৬ নভেম্বর মৃত্যুর কোলে ঢোলে পড়েন ফুটবলের রাজপুত্র দিয়েগো মারাদোনা । ৬০ বছর বয়সে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যান তিনি।  ১৬ বছর বয়সে আর্জেন্টিনার জুনিয়র টিম থেকে শুরু করেন কেরিয়ার। পরবর্তীতে তাঁর ‘গোল অফ দ্য সেঞ্চুরি’ তাঁকে ইতিহাসের পাতায় চিরস্থায়ী জায়াগা করে দেয়। ১৯৮৬ বিশ্বকাপে মারাদোনার পারফরম্যান্স বিশ্ব ফুটবলের অন্যতম আলোচিত বিষয়। ১৯৯০ বিশ্বকাপেও দুর্দান্ত পারফরম্যান্স দেখান মারাদোনা। ১৯৯৪ বিশ্বকাপেই ফুটবলের সর্বোচ্চ মঞ্চে শেষবার দেখা যায় মারাদোনাকে। বিতর্কের মধ্যেই শেষ হয় তাঁর কেরিয়ার। তাঁর মৃত্যুতে সারা বিশ্বে নেমে আসে শোকের আবহ।

সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায় :   ১৫ নভেম্বর কলকাতার বেলভিউ হাসপাতালে প্রয়াত হন কিংবদন্তী অভিনেতা সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়  । মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৮৫ বছর।  কোভিড পরবর্তী শারীরিক জটিলতায় ভুগছিলেন সৌমিত্রবাবু।  কোনওরকম চিকিৎসায় সাড়া দিচ্ছিলেন না তিনি। ৪০ দিন ধরে লড়াই করার পরও শেষ রক্ষা হল না তাঁর। প্রায় সাত দশকের দীর্ঘ ফিল্ম-কেরিয়ার সৌমিত্রের। সত্যজিৎ রায়ের ‘অপুর সংসার’ দিয়ে তাঁর অভিনয় জীবন শুরু। নাট্যশিল্পী হিসেবেও তিনি বিশিষ্ট। তাঁর কর্মজীবন অবশ্য আকাশবাণীতে শুরু ঘোষক হিসেবে। পরে বাচিক শিল্পী হিসেবেও তিনি ছাপ রাখেন। তাঁর কণ্ঠে রবীন্দ্রকবিতা বা জীবনানন্দ আচ্ছন্ন করে কবিতারসিক বাঙালিকে। বাংলা চলচ্চিত্রের একটা যুগ যেন শেষ হয়ে গেল তাঁর মৃত্যুতে।

ডিসেম্বর

মতিলাল ভোরা : ২১ ডিসেম্বর রাজধানী দিল্লির একটি বেসরকারি হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন বর্ষীয়ান কংগ্রেস নেতা মতিলাল ভোরা। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৯৩। করোনা থেকে সুস্থ হয়ে ওঠার পর তার শরীরে একাধিক অসুস্থতা দানা বেঁধেছিল। অবিভক্ত মধ্যপ্রদেশের দুইবারের মুখ্যমন্ত্রী মতিলাল ভোরা পরবর্তী সময়ে উত্তরপ্রদেশের রাজ্যপালের দায়িত্বভার সামলান। এছাড়াও রাজ্যসভায় চারবারের সাংসদ ছিলেন তিনি। লোকসভার সাংসদ ছিলেন একবার। রাজনৈতিক মহলের মতে গান্ধী পরিবারের খুব ঘনিষ্ঠ ছিলেন মতিলাল ভোরা। 

Loading...