বাড়ি রাজ্য প্রধানমন্ত্রীর হাত ধরে অন্ধকারময় ভবিষ্যতের দিকে এগোচ্ছে, মন্তব্য সিপিএম নেতা...

প্রধানমন্ত্রীর হাত ধরে অন্ধকারময় ভবিষ্যতের দিকে এগোচ্ছে, মন্তব্য সিপিএম নেতা সুজন চক্রবর্তীর

36
0

বাঁকুড়া, ২১ সেপ্টেম্বর   :  প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর হাত ধরে দেশে অন্ধকারময় ভবিষ্যতের দিকে এগিয়ে চলেছে বলে মন্তব্য করলেন সিপিএম নেতা ও বিধানসভার বাম পরিষদীয় নেতা সুজন চক্রবর্তী। সোমবার দুপুরে বাঁকুড়া জেলার বড়জোড়া তে সিপিএম লোকাল কমিটির উদ্যোগে আয়োজিত এক মহা মিছিল অংশগ্রহণ করার পর এক বিক্ষোভ সভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে সিপিএমের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য তথা পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার বাম পরিষদীয় নেতা সুজন চক্রবর্তী কঠোর ভাষায় বিজেপি সরকারের সমালোচনা করেন একই সাথে তিনি রাজ্যের শাসক দল তৃণমূলকে চাঁচাছোলা ভাষায় আক্রমণ করেন।তিনি বলেন, বিজেপি শাসিত কেন্দ্রীয় সরকারের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির স্বৈরাচার ইংরেজ শাসনকেও হার মানাচ্ছে। দেশ এক অন্ধকারময় ভবিষ্যতের দিকে এগোচ্ছে।  অন্যদিকে রাজ্যের তৃণমূল সরকার থাকবে না জেনেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রিয় ভাইয়েরা গরিব মানুষের টাকা লুঠছে। । এদিন তিনি সিপিএমের বাঁকুড়ার বড়জোড়া জোনাল কমিটির উদ্যোগে এক মহা মিছিলে অংশ নেওয়ার পর ব্লক অফিস মোড়ে সভামঞ্চে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি বলেন, ইংরেজরা বণিকের ছদ্মবেশে এদেশে এসে মীরজাফরদের সাহায্য নিয়ে দেশের শাসনকর্তা হয়েছিলেন। দেশ এখন সেই পথেই চলছে বিজেপির হাত ধরে। গতকালই রাজ্যসভায় কৃষি বিল পাস করিয়েছে সম্পূর্ণ অন্যায় ভাবে। সারা দেশে আগুন জ্বলছে। পাশাপাশি লকডাউনকে ব্যবহার করে শ্রম আইন বদলের জন্য তিনটি বিল লোকসভায় পেশ করেছে। কেন্দ্রীয় সরকারের এই কৃষি বিল কৃষকের যেমন সর্বনাশ করবে তেমনি শ্রম বিল পাস হলে শ্রমিকদের উপর শোষণ শুরু হবে। এই কৃষি বিলের ফলে পুঁজিপতিদের কথা মত চাষ করতে বাধ্য হবেন কৃষকরা। ইংরেজরা যেমন নীল চাষ করাতে বাধ্য করতো তেমনি এই বিলের ফলে দেশের কর্পোরেট সংস্থাগুলি কৃষিতে লগ্নি করে চাষীকে বাধ্য করাবে তাদের মনমতো চাষ করতে। এতে কৃষক সরকারি সহায়ক মূল্য পাবেন না। লগ্নিকারির ঠিক করে দেওয়া দামে ফসল বিক্রি করতে হবে। অন্যদিকে শ্রম আইন বদলের বিল পাস হলে শ্রমিকদের ঘাড়ে খাড়া ঝুলবে । শ্রমিকরা ধর্মঘট করতে পারবেন না। গণছুটি নিতে পারবেন না।  আন্দোলন বা প্রতিবাদ করলে শ্রমিকের জেল-জরিমানা দুইই হতে পারে। এছাড়াও ৩০০ শ্রমিকের সংস্থায় ছাঁটাইয়ের জন্য মালিককে কোনো অনুমতি নিতে হবে না। সুজন চক্রবর্তীর প্রশ্ন, এটা কি আত্মনির্ভরশীল ভারত গড়ার লক্ষণ? অন্যদিকে রাজ্যের তৃণমূল সরকার থাকবে না জেনেই মমতার ভাইরা গরীবের টাকা লুট করছে। পিকে’র মতন একজন কর্পোরেট ব্যক্তিকে মেন্টর করে এনেছেন। এখন পিকে’র টিমও তৃণমূল নেতাদের কাছে টাকা নিয়ে বিধানসভার টিকিট পাইয়ে দেওয়ার কথা বলছে। যে কারণে টিএমসি নেতারা সরকারি প্রকল্পের টাকা লুঠ করার নেশা ধরিয়ে ফেলেছেন।এদিন দলের কর্মসূচি ছিল মহামিছিলের পর বিডিও অফিসে ডেপুটেশন। এদিন এই মিছিলে তরুণ প্রজন্মের বহু যুবক এবং গরীব খেত মজুরদের জমায়েত ছিল চোখে পড়ার মত। বিডিওর কাছে স্মারকলিপি জমা দিতে যান সিপিআইএম নেতা সুজয় চৌধুরী, বিধায়ক সুজিত চক্রবর্তী, প্রাক্তন সাংসদ সুনীল খাঁ, দলের জেলা সম্পাদক অজিত পতি, কৃষক নেতা যদুনাথ রায়। বিডিও ভাস্কর রায়  স্মারকলিপিটি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠিয়ে দেওয়া হবে বলে জানান।

Loading...