বাড়ি কলকাতা প্রধানমন্ত্রীকে চিঠিতে জনস্বাস্থ্য বিজ্ঞানকে কাজে লাগানোর আর্জি

প্রধানমন্ত্রীকে চিঠিতে জনস্বাস্থ্য বিজ্ঞানকে কাজে লাগানোর আর্জি

48
0

কলকাতা, ২ জুন  :  জনস্বাস্থ্য ব্যবস্থা উন্নয়নের দাবিতে মঙ্গলবার সার্ভিস ডক্টরস ফোরামের পক্ষ থেকে দশ দফা দাবি নিয়ে প্রধানমন্ত্রীকে একটি চিঠি প্রেরন করা হয়।
      “করোনা সংক্রমনের হাত থেকে দেশবাসীকে রক্ষা করতে আজ সরকারের সবার আগে উচিৎ ভগ্নপ্রায় জনস্বাস্থ্যকে ঢেলে সাজানো। সার্ভিস ডক্টরস ফোরামের সাধারণ সম্পাদক ডা:সজল বিশ্বাস এই মন্তব্য করে লিখেছেন, “দেশে বতর্মানে মাত্র ৭ % উপস্বাস্থ্যকেন্দ্র, ১২% প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্র এবং ১৩% কমিউনিটি স্বাস্থ্যকেন্দ্র ইন্ডিয়ান পাবলিক হেলথ্ স্ট্যন্ডার্ড অনুযায়ী পরিচালিত হয়। উপস্বাস্থ্যকেন্দ্র এবং গ্রাম ও শহরের তৃণমূল স্তরে  জনস্বাস্থ্য সমস্যা যেমন সংক্রামক ও অসংক্রামক রোগ প্রতিরোধে ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য নির্দিষ্ট কোনও স্বাস্থ্যকর্মী বরাদ্দ নেই।এই স্তরে রয়েছে কেবল মহিলা স্বাস্থ্যকর্মী ও আশা। যারা মূলত মা ও শিশু স্বাস্থ্য দেখভালের জন্যই নিয়োজিত। 
ব“র্তমানে এই পরিষেবায় চাপ এতটাই বেড়েছে যা নিয়েই এই স্তরের কর্মীরা ব্যতিব্যাস্ত। ফলে গ্রাম ও শহর উভয় ক্ষেত্রেই জনস্বাস্থ্য ভীষনভাবে উপেক্ষিত। তার উপরে সরকার করোনা নিয়ন্ত্রণে জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ, এপিডেমোলজিস্ট, ভাইরোলজিস্টদের নিয়ে কোনো বিশেষজ্ঞ কমিটিই তৈরি করেনি – নেওয়া হয়নি কোন মতামতও। ফলে দির্ঘদিন অপরিকল্পিত লকডাউনের জেরে সাধারণ মানুষ জেরবার হলেও করোনা সংক্রমনের হার আজ কেবল উর্ধ্বগামীই নয় তা আজ ভয়ঙ্করতম রূপ নিচ্ছ। 
“দেশে অনেক পরে করোনার অনুপ্রবেশ ঘটা স্বত্বেও ইতিমধ্যে সংক্রমনের হারে বিশ্বে ভারত সপ্তম স্থানে চলে এসেছে। ইতিমধ্যে করোনা নয় এমন অনেক রোগের প্রাদুর্ভাব বাড়ছে। দীর্ঘদিন অপারেশন, কেমোথেরাপী, টীকাকরন বন্ধ থাকার ফলে মানুষ সমস্যায় পড়ছেন। অন্যান্য রোগের মহামারি হওয়ার সম্ভাবনাও বেড়ে যাচ্ছে।আবার করোনা ও করোনা বহির্ভূত স্বাস্থ্যপরিষেবা একসাথে দেওয়ার পরিকাঠামোও নেই। বর্তমানে দেশে সরকারি হাসপাতালের শয্যা সংখ্যা রয়েছে ১৮২২ জন জনসংখ্যা পিছু মাত্র ১ টা। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার গাইড লাইন অনুযায়ী থাকার কথা ৪.৯ টি অর্থাৎ আরও ৫ গুন বেশি বেড থাকলে কেবল করোনা নয় এমন রোগের নূন্যতম চিকিৎসা দেওয়া যেতো। করোনা আসার পরে এই চাহিদা বেড়েছে আরো বহুগুন।বর্তমানে সরকারি ক্ষেত্রে ১১,০৮২ জন মানুষ পিছু মাত্র ১ জন ডাক্তার রয়েছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা অনুযায়ী থাকার কথা এর ২৫ গুণ বেশি। করোনা পরিস্থিতিতে এই চাহিদা আরো বহুগুণ বেড়ে গেছে। তাই সংগঠনের পক্ষ থেকে  করোনা রোগীর চিকিৎসার জন্য আলাদা স্বাস্থ্যপরিকাঠামো এবং ডাক্তার নার্স স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগেরও দাবি জানানো হয়। অবিলম্বে কেন্দ্রীয় স্তরে জাতীয় করোনা নিয়ন্ত্রণ কর্মসূচি চালু করার দাবি সহ ১০ দফা দাবি কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে পেশ করা হয় এবং যার প্রতিলিপি রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীর নিকটও প্রেরণ করা হয়।“

Loading...