বাড়ি সম্পাদকীয় পৃথিবীকে রক্ষা করতে বৃক্ষরোপন

পৃথিবীকে রক্ষা করতে বৃক্ষরোপন

547
0

রবীন্দ্র কুমার শীল


দূষণ মুক্ত পৃথিবী এবং বিশ্বকে দূষণ থেকে রক্ষা করতে গেলে দরকার হচ্ছে সৱুজাযান

ধরনী যত বেশি সৱুজ হবে ততই  ্প্রাকৃতিক ভারসাম্যকে রক্ষা করা সম্ভব| সেটা না করতে পারলে কিন্তু আগামি দিনে পৃথিবী একটি ভযাবহ স্থানে পেঁছে যাওযা শুধু সমযে অপেক্ষা| পৃথিবীতে যেভাবে দ্রুত উষ্ণতা বৃদ্ধি পেতে শুরু করে দিযেে তাতে উত্তর গোলার্ধে জমাট বরফ গলতে শুরু করেছে| এভারেস্টের বরফ পর‌্যন্ত জমাট বাধছে না| কাশ্মীর, শিলং, লাদাক, হিমালযে ৱুকে বরফ জমছে না|  সমুদ্রের জল ক্রমশ বৃদ্ধি পাচ্ছে| আযলা থেকে শুরু করে বিভিন্ন ্প্রাকৃতিক ভযাবহ দুর‌্যোগ দেখা যাচ্ছে| মানুষ ্প্রাকৃতিক দুর‌্যোগের মোকাবিলা করার জন্য উদ্যোগ নিলেও এই ধরনের ভযাবহ ্প্রাকৃতিক দুর‌্যোগের কাছে বড় বেশি অসহায|  কিন্তু ইথিওপিযান সরকার এখন থেকে গাছ লাগাতে শুরু করে দিযেে| সেখানকার ্প্রতি স্বেচ্ছাসেবীরা একদিনে ্প্রায ৫৩৫ মিলিযন বৃক্ষ রোপন করে বিশ্ব রেকর্ড স্থাপন করেছে| এবারে বিজ্ঞানীরা চিন্তা করতে শুরু করেছে বিশ্বের বিভিন্ন স্থানে ওক ট্রিলিযান নতুন বৃক্ষরোপন করা সম্ভব হবে|  বিজ্ঞানভিত্তিক উপাযে কীভাবে এবং কোন কোন স্থানে গাছ লাগালে ্প্রাকৃতিক অবস্থান ভালো হতে পারে তা নিযে তাদের দেশের বিজ্ঞানীরা রীতিমতো গবেষণা করতে শুরু করে দিযেে| বিশ্বের সমস্ত দেশ যখন ্প্রাকৃতিক ভারসাম্য এবং দূষণকে রোধ করার কোনও সঠিক পরিকল্পনা গ্রহণ করতে পারছে না তখন কিন্তু ইউথুপিযান সরকার চুপ করে বসে নেই| তারা কিন্তু বিশ্বকে সুবজাযন করতে শুরু করে দিযেে| পিছিযে থাকছে না| সেখানকার ভূপৃষ্ঠকে রক্ষায বৃক্ষরোপন জরুরী বলে মনে করছে ইউথুপিযান সরকার| তারা ্প্রতিটি নাগবিকদেৰ গাছ লাগানো বাধ্যতামূলক করে দিযে আইন চালু করেছে| স্কুল কলেজ এবং বিশ্ববিদ্যালযে ছাত্ররা ্প্রথম এবং ্প্রধান কর্মসূচি হল সময পেলে বৃক্ষ রোপন| এমনকী অফিসের কর্মীদের বাধ্যতামূলকভাবে বৃক্ষরোপন করতে হবে| সৱুজাযান করার দিকে একটি বিশাল পদক্ষেপ গ্রহণ করে চলেছে ইউথুপিযান সরকার| এর ফলে সেখানে যে সব স্থানে কোনও সৱুজ ছিল না সেখানে সৱুজের সমাবেশ দেখতে পাওযা সম্ভব হচ্ছে|বৃক্ষরোপন একটি জরুরী পরিসেবার মধ্যে ফেলে দেওযা হযেে| 


 বিশ্বের বৃহত্তম দেশগুলো যখন উষ্ণাযন নিযে বৈঠকের পর বৈঠক করে চলেছে তখন কিন্তু বেশ কিছু দেশ বিশ্বকে রক্ষা করার জন্য দেশকে সুবজাযন করতে বলিষ্ঠ উদ্যোগ নিযেে|  ্প্রতি বছরই ্প্রায এক মিলিযন গাছ তারা লাগিযেে তাদের দেশে| বহু স্থানে যেখানে কোনও সৱুজ নেই সেখানে বেশি করে বৃক্ষ রোপন করেছে| নদীর জলধারাকে ্প্রবাহিত করার পথ তৈরি করে দিযেে| ৱুঁজে যাওযার নদীর পথকে উদ্ধার করে জলস্রোতকে স্বাভাবিক রাখা হযেে| ্প্রায বিশ বছর ধরে এই ্প্রচেষ্টা চালিযে যাচ্ছে এই দেশটি| গ্রীন হাউস গ্যাস উত্পাদন করতে এই দেশের বলিষ্ঠ পদক্ষেপকে স্বাগত জানিযেে সারা বিশ্ববাসী| গত ৮ আগস্ট ২০১৯ সালে একটি বিশেষ রিপোর্ট থেকে জানতে পারা যায যে ২৩ শতাংশ সৱুজ আসে কৃষি ব্যবস্থা এবং বনাঞ্চল থেকে| অ্যাগ্রো ফরেস্টির ওপরে বেশি করে জোর দেওযা হচ্ছে| এর ফলে খাদ্য সুরিক্ষত করা থেকে শুরু করে বাযোডাইভারসিটি এবং আবহাওযাকে নিযন্ত্রণ করা সম্ভব হযেে| 
বনাঞ্চল বৃদ্ধি করার দিকে বেশি করে মনোযোগ দিযেে ইথিওপিযান সরকার| ইথিওপিযান সরকারের উদ্যোগের দিকে তাকিযে বিশ্বের বহু দেশ এখন সৱুজাযন করার দিতে বেশি করে মনোযোগী| অতীত থেকে যদি আমরা সংরক্ষণ করার ব্যবস্থা করতাম তাহলে কিন্তু আজকে এই ভযাবহ পরিস্থিতির সম্মুখে পড়তাম না| কিন্তু আমরা সব জেনেও সৱুজ বনাঞ্চল থেকে শুরু করে জলাশয এবং বহু নদনদীর ্প্রবাহকে বন্ধ করে দেওযার চেষ্টা করেছি| ্প্রকৃতির ওপরে খবরদারি করতে গিযে আমরা বিপদের সম্মুখীন হচ্ছি| এখন  ্প্রতিটি রাষ্যর চাইছে বিশ্বে বন এবং জমি সংরক্ষণ রক্ষা করার ক্ষেত্রে সবাইকে অংশীদারি করে নিযে পরিবেশ রক্ষায সমালি করা| উন্নযন চাই| কিন্তু সেটা পরিবেশকে রক্ষা করে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে হবে| বনাঞ্চলকে রক্ষা কৰে সৱুজাযানের সিদ্ধান্তকে অগ্রাধিকার দেওযা চাই| 
বনাঞ্চল রক্ষা করার সিদ্ধান্ত ঃ ইকো সিস্টেমের মধ্যে দিযে বনাঞ্চল, জলাশয সহ বিভিন্ন ্প্রাকৃতিক স্থানকে রক্ষা করার নীতি গ্রহণ করার ্প্রযোজন| সেটা শুধু মুখের কথার মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখলে চলবে না| তার জন্য ্প্রতিটি সরকারকে কঠোর আইন ্প্রণযন করতে হবে| সৱুজ ধ্বংস করা মানেই হল পৃথিবীকে ধ্বংসের একটি ধাপের দিকে এগিযে দেওযা| সৱুজকে রক্ষা করতে ্প্রযোজন হলে ফৌজদারি আইন ্প্রণযন করতে হবে| ্প্রাকৃতিক ভারসাম্যকে রক্ষা করার একটি নৈতিক কর্তব্য বলে গ্রহণ করা উচিত ্প্রতিটি নাগরিকের| বিশ্ব নাগরিকদের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি করার লক্ষ্য নিযে এগিযে যেতে হবে| 
নতুন গাছ লাগানোর কোনও ্প্রযোজন হবে না

গভীর বনাঞ্চলে যদি ইকো সিস্টেমের নীতি বা পদ্ধতি গ্রহণ করা যায| গভীর বনাঞ্চলে সেখানকার গাছের বীজ থেকে নতুন গাছের সৃষ্টি হয| শুধু দরকার সঠিক পর‌্যবেক্ষণ| বনাঞ্চল বৃদ্ধি করার জন্য উপযুক্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে হবে|  বনাঞ্চলকে রক্ষা করার জন্য ্প্রতি রাষ্ট্রকে দৃঢ় পদক্ষেপে এগিযে আসতে হবে| কৃষি ব্যবস্থার ওপরে বেশি করে জোর দিতে হবে| কৃষি ব্যবস্থাই্প্রকৃতি রক্ষার কারিগর| এর নাম দেওযা যেতে পারে- ‘ফারমার  ম্যানেজড ন্যাচারাল রেস্টরেশন’| কৃকদরে বপন পদ্ধতিকে যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত  বলে গ্রহণ করা হযেে| যেসব স্থানে গাছ হয না সেখানে কৃষকেরা জমিকে উর্বর করে বৃষরোপন করার উপযোগী করে তুলতে পারে| কোন জমিতে বীজ থেকে যদি গাছ জন্মগ্রহণ না করতে পারে তাহলে কিন্তু কৃষকেরা সেই জমিকে উপযুক্ত করতে বিশেষ পদ্ধতি অবলম্বন করে গাˆছ লাগানোর উপযুক্ত পরিবেশ তৈরি করতে সক্ষম| অনুর্বৰ জমিকে উর্বর জমিতে পরিণত করতে সক্ষম একমাত্র কৃষকেরা| তারা মাটি চেনে এবং মাটিকে উর্বর করার পদ্ধতি জানে| জমির সঙ্গে চাষির সম্পর্ক নিবিড়| তাই তাদেরকে কোনও সমযে উপেক্ষা করা যায না| 
আন্তর্জাতিক ্প্রাকৃতিক সংরক্ষণ ইউনিযন এখন এগিযে এসেছে আগামি দিনে পৃথিবীকে কীভাবে রক্ষা করা এবং বৃক্ষ সংরক্ষণ পদ্ধতি গ্রহণ করা সম্ভব| জার্মান সহ ৫৯টি রাষ্ট্ৰ, বেসরকারি ্প্রতিষ্ঠানসহ বিভিন্ন নেচার সংরক্ষণ সংস্থা ১৭০ মিলিযন হেক্টরে ২০২০ সালের মধ্যে বৃষ রোপন করবে| দশ বছর বাদে ২৩০ মিলিযন হেক্টর জমিতে সংরক্ষণ করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে| এছাড়া পৃথিবীর বহু স্থান বাছাই করা হচ্ছে যেগুলোকে সংরক্ষণের আওতায নিযে আসা সম্ভব| এমন সব গাছ লাগানোর সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হযেে যারা ্প্রাকৃতিক ভারসাম্য এবং দূষণ ্প্রতিরোধ করতে সক্ষম| বহু গাছ রযেে পৃথিবীর ভূপৃষ্টে ভূমিকম্পকে রোধ করার ক্ষমতা রাখে| সেই সব গাছ বেশি করে লাগানোর সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে জাপান সরকার| ফলে আজকে জাপানে ভূমিকˆম্প কম| 

টেকনিক্যাল কর্তব্যের চেযে বনাঞ্চলকে রক্ষা করা একটি সামাজিক কর্তব্যের মধ্যে পড়ে| রুগ্ন গাছকে রক্ষা করা এবং তাকে বাঁচিযে রাখার উদ্যোগ এখন নাগরিকদের নিজের থেকে গ্রহণ করতে হবে| তানজানিযা এ ব্যাপারে সাফল্য অর্জন করতে সমর্থ হযেে| চিন সরকার দীর্ঘকালীন বৃক্ষরোপন করার পদ্ধতি গ্রহণ করা ফলে আজকে তারা তার সুফল উপভোগ করছে| 

বোতলবন্ধি চিন্তাধারাকে বহিস্কার করতে হবে ঃ

যুগের সঙ্গে তাল মিলিযে আমাদের চলতে হবে| আমরা এখন ্প্রাকৃতিক ভারসাম্য এবং দূষণের করালগ্রাসের মধ্যে পড়ে গিযেি| সেখান থেকে উদ্ধার পেতে গেলে আমাদের যেসব অতীত বদ্ধ চিন্তাভাবনা রযেে তাকে দ্রুত ত্যাগ করে আগামি দিনে কীভাবে কোনও ্প্রদ্ধতি গ্রহণ করে ব্যবহার করলে পৃথিবীর পরিবেশকে রক্ষা করা সম্ভব তা খতিযে দেখতে হবে| এ ব্যাপারে বেশ কযেটি দেশ উদ্যোগ গ্রহণ করতে শুরু করে দিযেে| ব্রাজিল দেশে ঘন ্প্রাকৃতিক স্থানে চাষবাস করার জন্য উদ্যোগ গ্রহণ করলে সেখানে বিক্ষোভ দেখা দিতে শুরু করেছে| ব্রাজিল দেশের কৃষকেরা এর ্প্রতিবাদ করেছে| জমির ওপরে ম্যানেজমেন্ট অধিকার কৃষকদের দেওযার কথা নিযে ভাবনা চিন্তা শুরু হযে গিযেে বিশ্বে| ্প্রায ১ বিলিযন ছোট চাষিরা পৃথিবীর ধারক বলে স্বীকার করে নেওযা হযেে| তাদের হাতে জমি রক্ষা করা এবং চাষবাস করার উপযোগী করে তোলার জন্য যন্ত্র এবং আর্থিক সহাযতা দেওযার কথা নিযে ভাবনা চিন্তা করতে শুরু করে দিযেে ্প্রতিটি রাষ্ট্র| সেই কারণে চাষিদের উপযুক্ত ্প্রশিক্ষণ দেওযার ব্যবস্থা করা হচ্ছে| বেসরকারি এবং সরকারি ক্ষেত্রে এই ধরনের উদ্যোগ নেওযা হচ্ছে| জানা গিযেে  ইকো সিস্টেম রেস্টোরেশনই পারে ্প্রায ১০ মিলিযন ডলার নিযে আসতে| এর ফলে চাষির আযে মধ্যে দিযে ফাইন্যান্স শিল্প গড়ে তোলা সম্ভব| 


রাষ্ট্রপুঞ্জ এবারে ইকো-সিস্টেমের ওপরে বেশি করে জোর দিচ্ছে| আগামি ২৩ সেপ্টেম্বর  রাষ্ট্রপুঞ্জে ‘ইউএন ক্লাইমেট অ্যাকশন সামিট’ সম্মেলন শুরু হচ্ছে| সেখানে ইউএন এর জেনারেল অ্যাসেম্বলি একটি ্প্রস্তাবনা পাশ করিযে নেওযা হবে-‘ইউএন ডিকেড অন ইকো সিস্টেম রেস্টোরেশন’- ২০২০ এবং ২০২১ সালের জন্য| আমরা অতি অবশ্য এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানাবো|  ্প্রতি বছর ্প্রায বিলিযন নতুন গাছ লাগানো বাধ্যতামূলক যা ভবিষ্যতে আমাদের পৃথিবী রক্ষা পাবে| ্প্রাকৃতিক দুর‌্যোগ থেকে শুরু করে দূষণ ্প্রতিরোধ করা সম্ভব হবে| সুস্থ এবং সবল বাযু ্প্রবাহিত হওযা সম্ভব হবে এই ধরনীতে| সচেতনা বৃদ্ধি করার ওপরে জোর দেওযা এখন থেকে শুরু হযে গিযেে|  

Loading...