বাড়ি ভ্রমণ পর্যটকদের কাছে স্বর্গতুল্য দার্জিলিং

পর্যটকদের কাছে স্বর্গতুল্য দার্জিলিং

398
0

কলকাতার চিতপুর থেকে রাত ৯টা ৪০ মিনিটে নিউ জলপাইগুড়ি যাওয়ার উদ্দেশে গুয়াহাটি গরীবরথ এক্সপ্রেস ট্রেনে চাপি। প্রায় ১২ ঘণ্টা ট্রেনযাত্রা শেষে জলপাইগুড়ি স্টেশন। এরপর প্রাইভেট কারে দার্জিলিংয়ের উদ্দেশে যাত্রা করি। কয়েক কিলোমিটার যেতেই রাস্তার দুই ধারে সবুজ চা বাগান। লোকজন কম। এরপর শুরু হয় পাহাড়ি পথ। পাহাড়ের বুক চিরে ওপরে উঠছি। মৃদু শীত অনুভূত হচ্ছে। পাহাড়ের পাদদেশে অ্যাজেলিয়া আর গোলাপি, নীল, সাদা বিরাট আকারের ধুতরা ফুল ফুটে আছে। প্রায় তিন ঘণ্টার যাত্রা শেষে দার্জিলিং পৌঁছলাম। হোটেলে খাওয়াদাওয়া সেরে দেখি, মেঘ নেমে এসেছে। কুয়াশার চাদর আমাদের ঢেকে ফেলছে। আবার রোদ চকচক করছে। সমতল থেকে সাত হাজার ১০০ ফুট ওপরে আমরা। বেশ খানিকটা এলাকা নিয়ে ম্যাল। পর্যটকদের কাছে স্বর্গতুল্য। চারদিকে লোহার বেঞ্চ বসানো। সামনে নেপালের জাতীয় কবি ভানু ভক্ত আচারিয়ার পিতলের ভাস্কর্য। প্রায় ২০ ফুট দৈর্ঘ্যের টিভি পর্দায় দার্জিলিংয়ের পর্যটন স্পট দেখানো হচ্ছে। ম্যাল থেকে রাতে হোটেলে ফিরি। ভোররাতে টাইগার হিলে সূর্য ওঠা দেখব বলে যাত্রা করি। দার্জিলিং থেকে ১৩ কিলোমিটার দূরে দুই হাজার ৫৯০ মিটার উঁচু টাইগার হিল। সূর্য ওঠার সময় হিমালয় পাহাড়ের গায়ে ডোরাকাটা দাগ দেখা যায়, এ জন্য নাম টাইগার হিল। হাজার হাজার মানুষ সমবেত হয়েছে। সূর্য উঠার মুহুর্তে কয়েক সেকেন্ডের জন্য পাহাড় সোনারং হয়ে যায়। আমাদের দেখা শেষ হতে না হতেই ঝমঝম করে বৃষ্টি নেমে এল। ফেরার পথে ঘুমবুদ্ধ মনাস্ট্রি দেখি। সেখানে বড় একটি মেটালের গৌতম বুদ্ধের মূর্তি। সকাল ৭টার মধ্যে হোটেলে ফিরে প্রাতরাশ সেরে ট্যাক্সিতে সেভেন পয়েন্টের উদ্দেশে ফের যাত্রা করি। প্রথমে ‘পদ্মজা নাইডু হিমালয়ান জিওলজিক্যাল পার্ক’। এটি মূলত চিড়িয়াখানা। পাহাড়ের ওপর এই চিড়িয়াখানায় আছে দুষ্প্রাপ্য লাল পান্ডা, স্নো লেপার্ড, ব্ল্যাক লেপার্ড, হিমালয়ান নেকড়ে, হিমালয়ান ছাগল, রংবেরঙের পিজেন্ট (এক ধরনের মুরগি)। চিড়িয়াখানার এক পাশে ‘হিমালয়ান মাউন্টেনিয়ারিং ইনস্টিটিউট’। ১৯৫৪ সালে ভারতের প্রথম পর্বত আরোহণ প্রশিক্ষণকেন্দ্র হিসেবে এটি প্রতিষ্ঠিত হয়। প্রথম এভারেস্ট বিজয়ী তেনজিং নোরগে এখানকার প্রশিক্ষক ছিলেন। বিভিন্ন বাহারি ফুল দিয়ে ইনস্টিটিউটটি সাজানো। এর মিউজিয়ামে তেনজিংসহ এভারেস্টজয়ীদের ছবি ও ব্যবহার্য সামগ্রী রয়েছে। চা বাগান ঘুরে পৃথিবীর বিখ্যাত দার্জিলিং চা কিনি। এখান থেকে আসি তেনজিং রকে। চা বাগানের ওপর দিয়ে রক্ষিত নদী পেরিয়ে ঝুলন্ত রোপওয়ে। ১৫০ টাকা টিকিটে আকাশে ভেসে বেড়ানোর সুযোগ। এরপর যাই জাপানিজ পিস মন্দিরে। সাদা মন্দির। চারদিকে ফুলের বাগান। ভেতরে গৌতম বুদ্ধের মূর্তি। দুপুরের পর হোটেলে ফিরে খাওয়াদাওয়া সেরে বিশ্ব ঐতিহ্যের টয়ট্রেনে চাপার জন্য দার্জিলিং স্টেশনে ছুটি। বিকেল ৪টায় এখান থেকে ‘জয় রাইড’ ট্রেন দার্জিলিং-ঘুম-দার্জিলিং পর্যটকদের নিয়ে চলাচল করে। তিনটি বগিতে ৪৫ জন যাত্রী নিয়ে পাহাড়, চা বাগান ডিঙিয়ে চলে। অনেকে দৌড়ে এসে ট্রেনে চাপে। ট্রেন থেকে নেমে পাহাড় ছুঁঁয়ে ফের দৌঁড়ে ট্রেনে চাপে। সে এক অন্য রকম দৃশ্য। কিন্তু ট্রেনের টিকিট পাওয়া কঠিন। কয়েক দিন আগে টিকিট কাটলে ভালো হয়। দুই দিনে দার্জিলিংয়ের সেভেন পয়েন্ট দেখে ঠাণ্ডায় শরীর জুড়িয়ে মেঘ পাহাড়ের দেশকে বিদায় জানাই।

কিভাবে যাবেন

কলকাতা থেকে  ট্রেন ও বাসে নিউ জলপাইগুড়ি। সেখান থেকে মাইক্রো কিংবা ট্যাক্সিতে দার্জিলিং। এখানে ট্যাক্সিতে টাইগার হিল ও সেভেন পয়েন্ট যাওয়া যায়।

Loading...