বাড়ি দেশ নয়াদিল্লিতে মণিপুরের তরুণী-হেনস্তার দায়ে গ্রেফতার অভিযু্ক্ত

নয়াদিল্লিতে মণিপুরের তরুণী-হেনস্তার দায়ে গ্রেফতার অভিযু্ক্ত

89
0

নয়াদিল্লি, ২৬ মার্চ : মণিপুরের জনৈক তরুণীর মুখে পানের পিক ছুঁড়ে মারা এবং তাঁকে ‘করোনা ভাইরাস’ বলে ব্যঙ্গ করে উত্ত্যক্ত করার অপরাধে অবশেষে গ্ৰেফতার হয়েছে অভিযুক্ত। বৃহস্পতিবার বিজয়নগর থানা সূত্রে জানা গেছে, গতকাল তাকে সন্দেহের বশে আটক করা হয়েছিল। জিজ্ঞাসাবাদের ভিত্তিতে অভিযুক্তকে নির্দিষ্ট ধারা বলে গ্রেফতার করা হয়েছে। তবে তদন্তের স্বার্থে ধৃতের নাম প্রকাশে গররাজি থানা কর্তৃপক্ষ। 
গত রবিবার প্রধানমন্ত্রী আহূত ১৪ ঘণ্টার ‘জনতা কাৰ্ফু’র দিন রাত সাড়ে ৯-টা নাগাদ ঘটনাটি ঘটেছিল। এদিন সকাল ৭-টা থেকে রাত ৯-টা পৰ্যন্ত ছিল ‘জনতা কাৰ্ফু’। কাৰ্ফু শেষ হওয়ার আধঘণ্টা পর দিল্লির বিজয়নগর এলাকায় মুদির দোকান থেকে প্রয়োজনীয় সামগ্ৰী কিনতে হস্টেল থেকে সঙ্গীদের নিয়ে বের হয়েছিলেন ২৩ বছরের তরুণী। তখন বাইক-আরোহী জনৈক দুষ্কৃতী তাদের পথরুদ্ধ করে ‘করোনা ভাইরাস’ বলে ব্যঙ্গ করে উত্ত্যক্ত করছিল। এতে তরুণীটি রেগে গেলে অভিযুক্ত ওই ব্যক্তি তাঁর মুখে পিক ছুঁড়ে মারে। বিষয়টি সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়ে। স্বাভাবিকভাবেই চারদিকে নিন্দার ঝড় ওঠে। এমন-কি দিল্লির মুখ্যমন্ত্ৰী অরবিন্দ কেজরিওয়াল এবং অসমের সাংসদ প্রদ্যুৎ বরদলৈয়ের নজরে পড়েছে ঘটনাটি। মুখ্যমন্ত্রী কেজরিওয়াল শীঘ্র অভিযুক্তকে গ্ৰেফতার করতে পুলিশের কাছে জোড়ালো দাবি তুলেছিলেন। 
অসমের কংগ্ৰেস নেতা তথা সাংসদ প্ৰদ্যুৎ বরদলৈ তাঁর ফেসবুক পেজে এই ঘটনার নিন্দা করেছেন। তিনি লিখেছেন, ‘করোনা ভাইরাসের প্ৰাদুর্ভাবে গত কয়েকদিনে উত্তর-পূৰ্বাঞ্চলের ছেলেমেয়েদের দিল্লি এবং অন্যান্য প্ৰান্তে বর্ণবৈষম্যের হেনস্তার সম্মুখীন হতে হচ্ছে। আশা করি আমাদের শিক্ষিত সমাজের হস্তক্ষেপে এই বিপৰ্যয় কাটিয়ে ওঠা সম্ভব হবে।’ 
এর আগে উত্তরপূৰ্বীয়দের দেশের বিভিন্ন প্ৰান্তে ‘মোমোজ’, ‘চাউমিন’ অথবা ‘নেপালি’ বলে খ্যাপিয়ে উত্ত্যক্ত করত একাংশ বিকৃতমনস্ক মানুষ। এখন নোভেল করানো ভাইরাসের প্ৰাদুৰ্ভাবে এই সমস্যা আরও বেড়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। এবার উত্তর-পূর্বাঞ্চলের লোকজন দেখলেই ‘করোনা ভাইরাস’ বলে খ্যাপিয়ে উত্ত্যক্ত করা হচ্ছে। এখানেই না থেমে উত্তরপূৰ্বীয়দের নিয়ে হাস্যকর ভিডিও তৈরি করে সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করা হচ্ছে।
উল্লেখ্য, উত্তর-পূৰ্বাঞ্চলের অরুণাচল প্ৰদেশের বাসিন্দা, কেন্দ্ৰীয় ক্ৰীড়ামন্ত্ৰী কিরেন রিজিজুও এ ধরনের ঘটনাবলির কথা শুনেছেন। এ সব ঘটনাকে নিত্য নৈমিত্তিক ঘটনা বলে সমালোচনা করেছেন খোদ কেন্দ্রীয় মন্ত্রী রিজিজু। সম্প্রতি তিনি তাঁর টুইট হ্যান্ডলে লিখেছেন, করোনা ভাইরাসের প্ৰভাবে দেশের বিভিন্ন জায়গায় সংগঠিত কিছু কিছু অপ্রীতিকর ঘটনা প্ৰকাশ্যে এসেছে যা সংস্কৃতির অভাব এবং মূৰ্খতার পরিচয়ই তুলে ধরা হচ্ছে। বিষয়টি নিয়ে নৰ্থ-ইস্ট ডিভিশনের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। এ ব্যাপারে কড়া পদক্ষেপ নিতে পরামৰ্শ দেওয়া হয়েছে, টুইটে লিখেছেন মন্ত্রী কিরেন রিজিজু। 
এদিকে মণিপুর স্টুডেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি শাইখাম শিংখেই সংগঠিত ঘটনার তীব্র নিন্দা করে দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করেছেন। বৃহস্পতিবার এখানে সাংবাদিকদের কাছে তাঁর প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে শাইখম বলেন, ‘এটা আর কিছু নয়, উত্তরপূৰ্বীয়দের বিরুদ্ধে বর্ণবৈষম্য। এ ধরনের ঘটনা আগেও সংগঠিত হয়েছে, এখনও হচ্ছে। তবে ইদানীংকালে তা একটু বেশি হচ্ছে। গতকাল আমি বাজারে যাচ্ছিলাম, একটি ছোট ছেলে আমাকে ‘করোনা’ বলে ব্যঙ্গ করেছে।’ 
তিনি আরও বলেন, ‘‘দেশের বিভিন্ন জায়গায় যখন কোরিয়া, চিন, থাইল্যান্ড থেকে মানুষজন আসেন, তখন তাদের বলা হয় ‘ওহ্, এঁরা তো বিদেশি।’ অথচ উত্তরপূৰ্বীয়দের বেলায় আমাদের কত ধরনের মন্তব্য হজম করতে হয়। উত্তরপূৰ্বীয়দের সঙ্গে বিমাতৃসুলভ আচরণ করা হয়।’’ অভিযোগ তুলেন মণিপুরি ছাত্র নেতা শাইখাম। 
শাইখাম শিংখেইয়ের বক্তব্য, এমনিতে তাঁদের বহু সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়। বিভিন্ন জনের কাছ থেকে অভাব অভিযোগ আসছে। বহু মণিপুরের তরুণ-তরুণীকে এখানকার বাড়িওয়ালারা বাড়ি ছাড়ার জন্য চাপ দিচ্ছেন। করোনার প্ৰাদুৰ্ভাবের পর থেকে তাঁদের সমস্যা যেন আরও বেড়ে গেছে। বিষয়টি মন্ত্রী কিরেন রিজিজুর নজরে নেওয়া হয়েছে। তিনি সমস্যার সমাধানে সচেষ্ট বলে জানান শিংখেই। 

Loading...