বাড়ি রাজ্য দেদার বিকোচ্ছে ছোট ইলিশ, পদক্ষেপের আশ্বাস মৎস্যদপ্তরের

দেদার বিকোচ্ছে ছোট ইলিশ, পদক্ষেপের আশ্বাস মৎস্যদপ্তরের

41
0

নিজস্ব প্রতিনিধি, ডায়মন্ড হারবার   এ যেন বজ্র আঁটুনিতে ফস্কা গেরো! সরকারি প্রচার আছে৷ মৎস্যবন্দর ও আড়তগুলোতে নজরদারির জন্য কর্মীও রাখা আছে৷ কিন্তু সবকিছুর পরও খোলা বাজারে রমরমিয়ে বিক্রি হচ্ছে পাঁচ’শ গ্রামের কম ওজনের ইলিশ৷ রবিবার সকালে কাকদ্বীপ ও ডায়মন্ড হারবারের বাজার ঘুরে দেখা গেল তিন’শ থেকে চার’শ গ্রাম ওজনের ইলিশের দাম যাচ্ছে ৬০০ টাকা করে৷ এদিকে বড় ইলিশের দাম গগন চুম্বি হওয়ায় ছোট ইলিশ কিনেই  রসনা তৃপ্ত করছেন মধ্যবিত্তরা৷ পাঁচ’শ গ্রামের কম ওজনের ইলিশ যা মৎস্যজীবী ও মৎস্য ব্যবসায়িদের কাছে ‘পিল ইলিশ’ নামে খ্যাত৷ মূলত এই ‘পিল ইলিশ’ সংরক্ষনের জন্য গত কয়েকবছর ধরে মৎস্য দপ্তরের পক্ষ থেকে ইলিশ ধরার ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করা রয়েছে৷ তারপরেও মরশুমে রমরমিয়ে ছোট ইলিশ বাজারে অবাধে কেনাবেচা হচ্ছে বলে অভিযোগ৷ রাজ্যের অন্যতম ইলিশের বড় আড়ৎ ডায়মন্ড হারবারের নগেন্দ্রবাজার৷ পাইকাররা এই বাজার থেকে নিলামে মাছ কিনে রাজ্য ও রাজ্যের বাইরে বিক্রি করেন৷ খোলা বাজারেও অবাধে ছোট ইলিশ বিক্রির অভিযোগ উঠেছে৷ বিষয়টি নিয়ে জেলা সহ-মৎস্যঅধিকর্তা (সামুদ্রিক) জয়ন্ত প্রধান বলেন ‘ছোট ইলিশ ধরা ও বিক্রি ঠেকাতে দ্রুত পদক্ষেপ করা হবে।সরকার আইন করে ২৩ সেমি দৈর্ঘ্যের কম ইলিশ ধরার উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করলেও কেন ধরা হচ্ছে ছোট ইলিশ?পূবালী বাতাসের সঙ্গে ঝিরিঝিরি বৃষ্টি ইলিশ ওঠার আদর্শ পরিবেশ। কিন্তু  পূবালী বাতাস তেমন না থাকার পাশাপাশি বর্ষা দেরিতে আসায় সমুদ্রে ইলিশের ঝাঁক দেখা মেলেনি। মৎস্যজীবী সংগঠন সূত্রে খবর সমুদ্রে মাছ ধরতে যাওয়ার আগে, ট্রলার মালিকদের কাছ থেকে দাদন (ঋণ)নেন মৎস্যজীবীরা। কিন্তু সমুদ্রে যথেষ্ট পরিমাণে ইলিশ না ওঠায় ঋণ মেটাতে বাধ্য হয়ে ছোট ইলিশ ধরতে হচ্ছে। এদিকে একবার ট্রলার নিয়ে মাছ ধরতে যেতে খরচ পড়ে আনুমানিক ১ থেকে ১.৫ লাখ টাকা। কিন্তু যা মাছ উঠছে তাতে মেরেকেটে ৩০ থেকে ৪০ হাজার টাকার মত ওঠে। ফলে খরচ তুলতে  ইলিশ ধরার নিষেধাজ্ঞা মানতে পারছেন না ট্রলার মালিকরাও। মৎস্যজীবীদের হাত দিয়ে এই ছোট ইলিশ চলে আসছে ডায়মন্ড হারবারের মৎস্য আড়তে। তারপর সেই মাছই পৌঁছে যাচ্ছে খোলা বাজারে।

Loading...