বাড়ি অন্যান্য দুর্গাপুজোর আকাশ মেঘাচ্ছন্ন, ব্যাপক বাজেট কমানোর পথে উদ্যোক্তারা

দুর্গাপুজোর আকাশ মেঘাচ্ছন্ন, ব্যাপক বাজেট কমানোর পথে উদ্যোক্তারা

42
0

কলকাতা, ১৪ জুলাই  : করোনার সংক্রমণ এবং তার জেরে তৈরি হওয়া পরিস্থিতিতে দুর্গাপুজোর আকাশ এতটাই মেঘাচ্ছন্ন যে, ছোট-বড় সব উদ্যোক্তাকেই ব্যাপক হারে বাজেট কমানোর পথে হাঁটতে হচ্ছে। প্রায় ৯৯ শতাংশ উদ্যোক্তাই ঠিক করে রেখেছেন, খরচ বাঁচাতে থিম ছেড়ে ফিরে যাবেন সাবেক পুজোয়। 

ছয় দশকের ওপর অঙ্গাঙ্গীভাবে পুজোর সঙ্গে যুক্ত অশোক মিত্র বেশ কিছুকাল ধরে বেলেঘাটা মেন রোড ও সিআইটি রোডের সংযোগস্থলের ‘নবমিলন’-এর মূল কর্তা। এই প্রতিবেদককে জানালেন, এবার এই পুজোর বয়স হল ৯৩। আমাদের বাজেট এমনিতে প্রতি বছয় ১৫-২০ লক্ষ টাকার মধ্যে থাকে। ৬-৭ টা গেট, বেশ কিছু ব্যানার থাকে। এ বছর আমি বলে দিয়েছি ১২ আনা কাটছাঁট করতে হবে। যা অবস্থা লোকের কাছে চাঁদা বা বিজ্ঞাপন চাইব কি করে?
এমনই এক উদ্যোক্তা বললেন, “একটি স্পনসরও জোগাড় হয়নি। এক ধাক্কায় তাই বাজেট একেবারে কমিয়ে দিতে হয়েছে। বাজেট এত কমছে জানলে নাম খারাপ হয়। তাই আপাতত চুপচাপ থাকার সিদ্ধান্ত হয়েছে।” তাঁর মতে, “যে কোনও সংস্থাই বিজ্ঞাপন দেয় লোকে দেখবে বলে। দুর্গাপুজো সেই লোক দেখানোর বড় আসর। কিন্তু করোনার জন্য যদি লোকই না হয়, বিজ্ঞাপন দেবে কে?”
এক উদ্যোক্তা বাজেট ৮০ লক্ষ টাকা থেকে মাত্র পাঁচ লক্ষে নামিয়ে এনেছেন। কেউ জলসা ও ভোগের আয়োজন বাতিল করেও বুঝতে পারছেন না, কুলিয়ে ওঠা যাবে কি না! শহরের সব চেয়ে ‘বড় পুজো’ করে বিখ্যাত উদ্যোক্তারাও এবার একেবারে ছোট কিছু করেই নিয়মরক্ষা করতে চাইছেন। দক্ষিণ কলকাতার কোটি টাকা বাজেটের একটি পুজোর কর্তারা আবার ভাবছেন, ব্যাঙ্ক থেকে নিজেরাই মোটা টাকার ঋণ নেবেন!
দীর্ঘদিনের পুজো উদ্যোক্তা তথা একডালিয়া এভারগ্রিনের প্রধান, রাজ্যের মন্ত্রী সুব্রত মুখোপাধ্যায় যদিও বললেন, “থিমের পুজোর টাকা তুলতে এবার ভাল মতোই ভুগতে হবে। কিন্তু আমাদের চিন্তা নেই। সাবেক পুজো ছেড়ে আমরা কোনও দিনও ওই ভাবে টাকা খরচের পথে হাঁটিনি।” তাঁদের ৭৭তম বছরের পুজো নিয়ে তাঁর আরও দাবি, “অনেকে ভাবছেন, পুজো হবে কি না! আমি বলছি, পুজো হবেই। পুজো করার জন্য জেলে যেতেও রাজি আছি। আমাদের বড় ভোগ হয়। দরকার হলে সেই ভোগ বাদ দেব। কিন্তু পুজো করবই।” 
দক্ষিণ কলকাতার নামী পুজো চক্রবেড়িয়া সর্বজনীন দুর্গোৎসবের সভাপতি অসীম কুমার বোস এবং সাধারণ সম্পাদক গোরা রায়চৌধুরী এই প্রতিবেদককে জানান, ২০১৮ র বাজেট ছিল ২৫ লাখ এবং প্রতিমা শিল্পী ছিলেন স্বর্গীয় শ্রী অরুণ পাল। ২০১৯ এর বাজেট ছিল ৩০ লাখ এবং প্রতিমা শিল্পী ছিলেন সুশান্ত পাল এবং সুব্রত কর্মকার। এবারেও অবশ্যই পূজো হবে কিন্তু আকারে ছোট এবং সব সরকারি বিধিনিষেধ মেনে। প্রতিমার কাজ চলছে, শিল্পী পূর্নেন্দু দে।

Loading...