বাড়ি বিনোদন দুই পরিচারিকার কাজ পুরোটাই করতে হচ্ছে : মাধবী মুখোপাধ্যায়

দুই পরিচারিকার কাজ পুরোটাই করতে হচ্ছে : মাধবী মুখোপাধ্যায়

187
0

কলকাতা, ১ এপ্রিল : ‘লেক উইন্ডোস’-এর দোতলা-র ফ্ল্যাটে এখন আমি সারাদিন একেবারে একা। এমনিতে আমার দু’জন পরিচারিকা আছে। কিন্তু লকডাউনের প্রথম থেকেই এই কমপ্লেক্সের ৭২টি ফ্লাটের প্রায় প্রতিটিতেই সতর্কতার জন্য কাজের লোকেরা আসছে না। আমরা আবাসিকরা এ ব্যাপারে একমত হয়েছি। কেবল একটি ফ্ল্যাটে অতি অসুস্থ একা মহিলা আছেন। ছাড় দেওয়া হয়েছে ওই ফ্ল্যাটে।লকডাউনের অভিজ্ঞতার কথা বলতে গিয়ে এ কথা জানালেন ‘মহানগর’-এর আরতী, ‘চারুলতা’-র চারু, ‘কাপুরুষ’-এর করুণা, আমাদের মাধবী মুখোপাধ্যায়। শোনালেন তাঁর অভিজ্ঞতা। ‘ওয়েস্ট বেঙ্গল ফিল্ম জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশন’ এবং ‘ফিল্মফেয়ার’-এর লাইফটাইম অ্যাচিভমেন্ট অ্যাওয়ার্ড‘, বিএফজিএ-র ‘শ্রেষ্ঠ অভিনেত্রী’-র চার বারের শিরোপা— এ সবের চেয়েও অনেক ঊর্ধ্বে মাধবী মুখোপাধ্যায়। বাঙালির মনে ও রুপোলী দুনিয়ায় একটা অন্য আসন, অন্য স্বীকৃতি এই প্রবীণ শিল্পীর। ৭৮-ঊর্ধ্ব বয়সে বললেন, “অসুবিধা কিসে? সবাইকে তো বাঁচাতে হবে! ক’টা দিন না হয় কাজের লোকদের বদলে দায়িত্ব আমরাই কাঁধে তুলে নিই!”শিশির ভাদুড়ী, অহীন্দ্র চৌধুরী, ছবি বিশ্বাস, নির্মলেন্দু লাহিড়ী— প্রবাদপ্রতিম এই সব অভিনেতাদের সঙ্গে কাজ করেছেন, এখনও স্টুডিওপাড়ায় ব্যস্ত— সম্ভবত এ রকম আর কেউ জীবিত নেই। লকডাউনে দিনলিপি কীভাবে বদলালো? জবাবে ‘হিন্দুস্তান সমাচার’-কে তিনি বললেন, “এখন ঘরের সব কাজ আমাকে করতে হচ্ছে। তাতে অনেকটা সময় যাচ্ছে।আর এত লোক ফোন করছেন, আমার পরিচিত-স্বজনরা খোঁজ নিচ্ছেন, টিভি দেখছি— সব মিলিয়ে সময় দ্রুত কেটে যাচ্ছে। বাড়ির বাইরে যাবার জন্য মন হাঁসফাঁস করছে? সত্যজিতের ‘চারু’-র জবাব, “না। একদম না।” বেশ ক্ষোভের সঙ্গেই বললেন, “অনেকে তুচ্ছ কারণে লকডাউন না মেনে বাইরে সমবেত হচ্ছে। এরা কি শিক্ষিত? ডিগ্রি তো আসল শিক্ষা দেয় না! সবার কথা ভাবুন!” আপনার ফোনের রিংটোন-টা কিন্তু ভারি সুন্দর— ‘এই শহর ছেড়ে চলো অনেক দূরে চলো কোথাও চলে যাই।’ স্মৃতিমেদুরতার পাখনায় এক ঝটকায় যেন ফিরে যেতে হয় আপনার সেই নায়িকাজীবনে! এখন ব্যস্ততা কিরকম? ‘আরতি’-র জবাব, “ব্যস্ততা কিন্তু পিছু ছাড়েনি। গোটা দিন এবং সন্ধ্যাটা শুটিংয়ের কাজে কেটে যায়। রাতে ঘুমোতে ঘুমোতে প্রায় সাড়ে এগারোটা।দুই কন্যার বড়জন মিমি মতিঝিল কলেজে পড়ান। থাকেন লেক গার্ডেন্সের একটি বাড়িতে। ছোট মেয়ে রঞ্জাবতী শিক্ষিকা। জামাই মুম্বাইয়ে একটি প্রতিষ্ঠানের ভাইস প্রিন্সিপাল। ওখানে থাকে। এমনিতে কথা হয় ওদের সঙ্গে। অসুবিধা কিছু নেই। সিরাজুল ইসলামের আত্মজীবনীমূলক ‘মনের আঙিনায়‘ পড়ছি। বেশ ভালো লাগছে। সাধারণ সময় বই পড়ার অবকাশ হয় না এখন একটু পড়ার সুযোগ পাচ্ছি।”

Loading...