বাড়ি রাজ্য দক্ষিন দিনাজপুর দীর্ঘদিন গ্রীন জোন থাকার পর এবার দক্ষিণ দিনাজপুর জেলাতে তিনজনের শরীরে মিলল...

দীর্ঘদিন গ্রীন জোন থাকার পর এবার দক্ষিণ দিনাজপুর জেলাতে তিনজনের শরীরে মিলল কোরোনা।

112
0

কুশমণ্ডি, ১৭ মে: দীর্ঘদিন গ্রীন জোন থাকার পর এবার দক্ষিণ দিনাজপুর জেলাতে তিনজনের শরীরে মিলল কোরোনা। কোরোনা আক্রান্ত তিন যুবকের বাড়ি দক্ষিণ দিনাজপুর জেলার কুশমণ্ডি এলাকায়। ২৫ থেকে ৩০-র মধ্যেই তিন জনের বয়স। কর্মসূত্রে তারা ভিন রাজ্য ও জেলায় কাজ করতেন। শনিবার রাতে অন্যান্যদের পাশাপাশি এই তিনজনের সোয়াব টেস্টের রিপোর্ট মালদা মেডিকেল কলেজ থেকে আসে। এরপরে দক্ষিণ দিনাজপুর জেলা স্বাস্থ্য দপ্তরের অধিকারিকরা জানতে পারেন কুশমণ্ডি তিনজনের সোয়াব টেস্টের রিপোর্ট পজেটিভ। এদিকে এদিন গভীর রাতে তাদের চিকিৎসার জন্য রায়গঞ্জের একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। অন্যদিকে ওই তিনজনের পরিবারকে কোয়ারেন্টাইন রাখা হয়েছে। এবং এরা কাদের সঙ্গে মেলামেশা করেছে সে তথ্য খতিয়ে দেখছে জেলা স্বাস্থ্য দপ্তর। 
জানা গেছে, কোরোনা আক্রান্ত তিন জনের বাড়ি কুশমণ্ডি ব্লকের বিভিন্ন এলাকায়। তিনজন কর্মসূত্রে ভিন জেলা ও রাজ্যে কাজ করতেন। তিনজনের মধ্যে একজন পেশায় গাড়িচালক ছিলেন। একজন বিহারে কাজ করতে গিয়েছিলেন। সপ্তাহ খানেক আগে তিনি বাড়ি থেকে ফেরেন। আর একজন কলকাতা থেকে ফিরেছেন। তিনি কলকাতার ডানকুনিতে লরি চালাতেন। গত ১২ মে তিনি বাড়ি ফেরেন। তবে তিনি বাড়ি ঢোকার আগে নিজের স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য হাসপাতালে গিয়েছিলেন। সেখানে তাকে কোয়ারেন্টাইন সেন্টারে রাখা হয়। এবং তার লালারস সংগ্রহ করা হয়। তবে দু’দিন পর তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়। এদিকে গতকাল রাতেই ওই ব্যক্তির সোয়াব টেস্টের রিপোর্ট পজিটিভ বাসায় তাকে আর রায়গঞ্জের একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য নিয়ে যাওয়া হয়। অন্যদিকে কুশমণ্ডির আরো দু’জনের শরীরে কোরোনার সংক্রমণ মিলেছে। তারাও পেশায় ভিন রাজ্য ও জেলা থেকে এসেছেন। তাদেরকেও চিকিৎসার জন্য রায়গঞ্জের বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। এদিকে গ্রীন জোনে থাকা দক্ষিণ দিনাজপুর এবার অরেঞ্জ জোনে প্রবেশ করল।  
এবিষয়ে আক্রান্ত লরির চালক জানান, তিনি গত ১২ ই মে ডানকুনি থেকে বাড়ি ফেরেন। তবে বাড়ি ফেরার আগেই তিনি স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য হাসপাতালে গিয়েছিলেন। এরপর তাকে কোয়ারেন্টাইন সেন্টারে রাখা হয়। সেখানেই তারা লালারস সংগ্রহ করা হয়। গতকাল গভীর রাতে তাকে সহ কুশমণ্ডির আরও দু’জনকে চিকিৎসার জন্য রায়গঞ্জের একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়।
অন্য দিকে দক্ষিণ দিনাজপুর জেলার কুশমণ্ডিতে কোরোনার হদিশ মিলতেই প্রশাসনিক আধিকারিকদের নিয়ে জরুরি বৈঠক করলেন জেলা শাসক নিখিল নির্মল। রবিবার বিকেলে বালুরঘাট সার্কিট হাউসে বৈঠকটি অনুষ্ঠিত। মূলত যেই এলাকায় কোরোনার হদিস মিলেছে সেখানে কি কি ব্যবস্থা নেওয়া হবে তা নিয়ে অন্যান্য আধিকারিকদের সঙ্গে আলোচনা করনে জেলা শাসক। এদিনের বৈঠকে জেলা শাসক ছাড়াও ছিলেন পুলিশ সুপার দেবর্ষি দত্ত, জেলা মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক ডাঃ সুকুমার দে, সহ গঙ্গারামপুর মহকুমার প্রশাসনিক আধিকারিকরা। আজ থেকে কুশমণ্ডিতে দুটি এলাকা কনটামেন্ট জোন করা হয়েছে। এছাড়াও তিনটি পরিবারের ১৩ জনকে হোম কোয়ারান্টাইনে রাখা হয়েছে। এদিকে ১৩ জনের মধ্যে ১২ জনেরই সোয়াব টেস্টের জন্য লালারস সংগ্রহ করা হয়েছে। এছাড়াও অন্যান্য সরকারি যে নির্দেশিকা রয়েছে তা করা হচ্ছে বলে জেলা মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক ডাঃ সুকুমার দে জানিয়েছেন। 

Loading...