বাড়ি সম্পাদকীয় ‘তোলাবাজ’ রাজনৈতিক ব্যক্তিতে কী ভরে গেছে পশ্চিমবঙ্গ?

‘তোলাবাজ’ রাজনৈতিক ব্যক্তিতে কী ভরে গেছে পশ্চিমবঙ্গ?

46
0

রবীন্দ্রকুমার শীল
এখন কী পশ্চিমবঙ্গে তোলাবাজ রাজনৈতি ব্যক্তিতে ভরে গেছে তা নিযে রীতিমতো জল্পনা শুরু হয়ে গেছে। রাজনীতি মহলˆ এই নিয়ে চর্চা চলছে। কে কতটা তোলাবাজি করেছে তা নিযে চলছে এখন ফুসফুস গুজগুজ। কোথাও উচ্চস্বরে। আবার কোথাও নিম্নস্বরে। তোলাবাজ এখন রাজনীতির চর্চার অন্যতম বাহন হযে গিয়েছে । বলা হয়েছে যে শাসক দল এই সব তোলবাজীদের ্প্রশ্রয় দিতে শুরু করে দিয়েছে। আবার বলা হচ্ছে বাম আমল থেকে তোলাবাজি শুরু হয়েছিল। সেটা ছিল পর্দার আড়ালে। বাম আমল থেকে তোলাবাজির চেহারা ্প্রকাশ্যে আসেনি। তার কারণ হচ্ছে বাম দলের নেতারা তোলাবাজি করতেন কায়দা করে। কিন্তু শাসক দলের নেতারা তোলাবাজি করছেন ্প্রকাশ্যে। একেবারে ক্যামেরার সামনে বসে তোলাবাজি করতে শুরু করে দিযে ছিললেন। সেটা এবারে রাজনৈতিক মঞ্চে এসে উপস্থিত হয়েছে । ডাযমণ্ড হারবারে শাসক দলের নেতা এবং মন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর বিরুদ্ধে ্প্রত্যাঘাত করতে নেমে পড়লেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায। বিজেপিতে যোগ দিযে শুভেন্দু অধিকারী তোলাবাজ ভাইপো বলে বক্তব্য রেখেছিলেন। সেখানে ভাইপোটি কে সেটা ্প্রকাশ্যে নাম করেননি বটে। কিন্তু যারা সেদিন শ্রোতা হিসাবে সভাতে উপস্থিত ছিলেন তাদের ৱুঝতে কোনও অসুবিধা হযনি তোলাবাজটা কে? এবারে ডাযমণ্ড হারবারে একটি মঞ্চে শুভেন্দু অধিকারীর দিকে তাক করে সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায বলে উঠলেন, তোলাবাজ তো তুমি। নারদ কাণ্ডে তোমাকে কাগজে মুড়ে টাকা নিতে দেখেছে সবাই। ফলে পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে এখন তোলাবাজ নিযে তর্জা দেখা দিযে শুরু করে দিয়েছে । তোলাবাজি না করতে পারলে রাজনীতি করা যায না সেটা স্পষ্ট করে ৱুঝতে পারা গেল। কেউই গঙ্গা জলে শুদ্ধ নয় । সবার গাযে কালো দাগটা রযে গিয়েছে। সেই কালো দাগটা তোলার চেষ্টা করছে সবাই। কিন্তু সেই দাগ কোনও রকমভাবে তোলা সম্ভব হচ্ছে না বলেই এখন সবাই তোলাবাজি নিযে নিজেদের মধ্যে ছোঁড়াছুড়ি করতে শুরু করে দিয়েছে। তোলাবাজরা কেন এতদিন ধরে শাসক দলের মন্ত্রী হযে বসেছিল তার কোনও উত্তর কেউই দিতে পারছে না। সবাই চুপ করে বসে রয়েছে।
তৃণমূল কংগ্রেস যখন ্প্রতিষ্ঠা হযেিল তখন বলা হয়েছিল যে এই দলে কোনও দুর্নীতিবাজ নেতাদের নেওয়া হবে না। দুর্নীতি মুক্ত একটি সরকার উপহার দেওয়া হবে পশ্চিমবঙ্গবাসীকে। কিন্তু হঠাত্ করে সেই রাজনৈতিক দলটি কীভাবে দুর্নীতিগ্রস্ত হযে গেল তা ৱুঝতে পারা গেল না। সারদা নাদর কাণ্ডে জড়িযে গেল শাসক দলের নেতা থেকে শুরু করে মন্ত্রীরা। সবাই দুর্নীতির ফাঁদে পা দিয়ে ফেলল। সংবাদপত্রে ্প্রকাশের পড়েও তারা শাসক দলে থাকলো এটা অবাক হযে যাওয়ার বিস্ময নিশ্চয় । কোনও রাজনৈতিক দলে কারোর নামে দুর্নীতি দেখা দিলে তাকে বহিস্কার করে দেওয়া হয়ে থাকে। কিন্তু এমন বহু রাজনৈতিক দল রয়েছে যেখানে দুর্নীতি করলে নেতা হযে থাকা যায় । সেটা এখন ভুল ৱুঝতে পেরেছে। সেই কারণে এখন তোলাবাজদের সরিযে দিযে নতুনভাবে দলকে সাজানোর চেষ্টা করছে সবাই। কিন্তু বিধির বাম হযে দেখা দিয়েছে। দুর্নীতি বাজে ছেযে গিয়েছে রাজনীতির পরিবেশ সেটা স্পষ্ট হযে গিয়েছে সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বক্তব্যের মধ্যে দিযে রবিবার ডায়মণ্ড হারবারেরর কেল্লার মাঠে একটি বড় সমাবেসে বক্তব্য রাখতে উপস্থিত হয়েছিলেন সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় । তৃণমূল কংগ্রেসের যুব সভাপতি সাংসদ অভিষেকˆ বন্দ্যোপাধ্যায় সিবিআই এবং ইডির নাম পাশে নিযে বলেন, যদি আমার বিরুদ্ধে কোথাও কোনও একটি অভিযোগ ্প্রমাণ করতে পারে, তবে এখানে একটি ফাঁসির মঞ্চ করে দেবেন। নিজেই ফাঁসি গলায দেব। তিনি আরও বলেছেন, আমাকে কযলা পাচারকারী, গোরু পাচারকারী বলা হয়েছে। পাচার করা হয তো সীমান্তে। সেটা তো কেন্দ্রীয সরকারের অধীনে। অক্ষমতার জন্যই পাচার হচ্ছে। কেন্দ্রীয সরকারের দিকে তাক না করে তাকে কেন বলা হচ্ছে গোরু পাচারকারী? কযলা তো কেন্দ্রীয সরকারের অধীনে। তবে কেন তাকে বলা হচ্ছে কযলা পাচারকারী? বিজেপিতে যোগ দিযে শুভেন্দু অধিকারী বেশ কড়াভাবে তৃণমূল কংগ্রেসের দুর্নীতির কথা বলতে শুরু করে দিয়েছেন। সেই সব কথার এদিন কড়াভাবে জবাব দিলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় । তৃণমূল কংগ্রেসের নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কারোর নাম না করে বলেছিলেন, দশ বছর ধরে দলে থেকে সুযোগ সুবিধা নিযে এখন অন্য দলে নাম লেখাতে শুরু করে দিয়েছে বেশ কিছু ব্যক্তিরা। দলের সদর দরজা খোলা রেখেছি। যারা দল থেকে চলে যেতে চান, তারা অন্য দলে চলে যেতে পারেন। কাউকে আটকে রাখা হবে না। দল ছেড়ে চলে গেলে তৃণমূল কংগ্রেস দুর্বল হযে পড়বে না। দুষ্টু গোরুর চেয়ে শূন্য গোয়াল ভালো। শাসক দলের শিবির ত্যাগ করে বহু নেতারা এখন অন্য রাজনৈতিক দলে নাম লেখাতে শুরু করে দিয়েছে। সবচেযে বড় খবর হচ্ছে শাসক দলের মন্ত্রী এবং বিধাযক শুভেন্দু অধিকারী বিজেপিতে নাম লিখিয়েছেন। শুভেন্দু অঙ্গীকার করেছেন, বিজেপিকে পঁচিশটি আসন দেবেন মেদিনীপুর থেকে। অধিকারী পরিবারের সদস্যরা পুরো মেদিনীপুরটাকে নিয়ন্ত্রণ করে থাকে। ফলে শুভেন্দু অধিকারীর রাজনৈতিক ্প্রভাব মেদিনীপুরে যথেষ্ট রয়েছে। সেই কারণে মেদিনীপুরের ব্যাপারে শাসক দলের নেতারা বেশ চিন্তিত। শুভেন্দুর সঙ্গে রাজনৈতিক টেক্কা দেওযা একেবারে অসম্ভব। বিজেপির চাপ সৃষ্টি করতে শুরু করে দিয়েছে শুভেন্দুর ওপরে। বিজেিপ চেষ্টা করছে গোটা মেদিনীপুরটাকে বিজেপির ্প্রভাবে নিযে আসার। সেটা করার চেষ্টা করছে শুভেন্দু অধিকারী। বিজেপি যদি মেদিনীপুরটাকে দখল করতে পারে তাহলে দক্ষিণ বঙ্গ দখল করতে বিজেপির বেশি বেগ পেতে হবে না। সেই পথ ধরে বিজেপি এখন এগোতে শুরু করে দিয়েছে। দক্ষিণ বঙ্গ বিজেপির দখলে এসে মেদিনীপুর দক্ষিণ বঙ্গ এবং উত্তরবঙ্গ বিজেপি রাজনীতির ্প্রভাবে ছত্রছায়া থাকলো। ফলে দুশোটি আসন বিজেপিকে পেতে কোনও বেগ পেতে হবে না। সেই পথ ধরে এগোতে চেষ্টা করছে বিজেপি। বিজেপি যখন শাসক দলকে প্ঁযাচে ফেলে দিযে তাদের রাজনৈতিক ্প্রভাব বিস্তার করতে শুরু করে দিয়েছে তখনই শাসক দলের ্প্রাক্তন বিধায়ক মন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর বিরুদ্ধে তোপ দাগতে শুরু করে দিলেন স্বযং অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় ।
বিজেপি দলের নেতা শুভেন্দু অধিকারী বেশ কিছুদিন ধরে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যাযকে নিযে সমালোচনা করতে শুরু করে দিয়েছিলেন। এবারে তার জবাব দিলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় কড়া ভাষায় । শুভেন্দুর দিকে তাক করে অভিষেক বলেছেন, করোনার ক্ষেত্রে যেমন 80 শতাংশ উপসর্গহীন রোগী আছে, তেমনই তৃণমূল কংগ্রেসে উপসর্গহীন বেইমান রয়েছে। শুভেন্দু অধিকারীকে বেইমান বলে অভিহিত করে গত লোকসভার ভোটে বাঁকুড়া, পুরুলিয়ায় তৃণমূলের পরাজয়ে কথা তোলেন। অভিষেক দাবি করেন, বাঁকুড়া এবং পুরুলিয়াতে কেন হেরেছি, তামরা জানি। সৌমিত্র খাঁ (তৃণমূল কংগ্রেস ছেড়ে বিজেপি সাংসদ) ্প্রকাশ্যেই স্বীকার করেছেন, তাঁর জয়ের পিছনে শুভেন্দু অধিকারীর ভূমিকা ছিল। পরে ওঁর স্ত্রীর (এখন তৃণমূলে) কাছে সব শুনেছি। শুভেন্দু নিশানা করে অভিষেক বলেন, বিদ্যাসাগরের মাটিতে জন্মে বাংলার সঙ্গে এই বিশ্বাসঘাতকতা মানুষ মেনে নেবে না। পিঠ বাঁচাতে এখন বিজেপিতে যাচ্ছে। বেইমানির নিশ্চিত জবাব দেবেন। শুভেন্দু অধিকারী বিজেপিতে যোগ দিলেও তাঁর বাবা শিশির অধিকারী এখন তৃণমূল কংগ্রেসের সাংসদ এবং পূর্ব মেদিনীপুরের জেলার দলীয সভাপতি। আর এক ভাই দিব্যেন্দু অধিকারী তৃণমূল কংগ্রেসের সাংসদ। সেই দিকে ইঙ্গিত করে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, যিনি নিজের বাড়ির লোককে সঙ্গে নিতে পারেন না, তিনি আবার বাংলায পদ্মফুল ফোটাবেন। শুভেন্দুর দিকে তাক বলে অভিষেকআরও বলেন, বাংলাকে নরেন্দ্র মোদির হাতে তুলে দিতে হবে। বাংলা কি আলু, পিঁয়াজ না জয়নগরের মোয়া । অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় হঠাত্ করে এই রকমভাবে ঝাঁঝালো শুভেন্দু বিরোধী বক্তব্য রাখবেন সেটা আগাম কেউ আঁচ করতে পারেনি। তবে এটা ঠিক যে নির্বাচনী রাজনৈতিক ্প্রচার শুরু হযে গিয়েছে। আগামি জানুযারি মাসে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী তাঁর দলের ্প্রচারে আসছেন। তিনি এখন ্প্রায ্প্রতি মাসে আসতে থাকবেন। আরা কোনও কোনও মাসে তিন থেকে চারবারও আসবেন। বিজেপি দলকে বাংলায শক্তিশালী করার ভার তাঁর ওপরে ন্যস্ত করা হয়েছে। বিজেপি দল এবারে বাংলার নির্বাচনী ্প্রচার করতে সক্রিয ভুমিকা পালন করতে শুরু করে দিয়েছে। সেই দিকে লক্ষ্য রেখে তৃণমূল কংগ্রেস ছেড়ে চলে যাওযা নেতাদের ধরে ধরে রাজনৈতিক আক্রমণ শানাতে শুরু করে দিয়েছেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় । তৃণমূল কংগ্রেসকে শক্তিশালী করতে এখন দক্ষিণ বঙ্গে রাজনৈতিক ্প্রচার করেত শুরু করবেন তৃণমূল কংগ্রেসের যুব সভাপতি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় । তিনি এবারে তৃণমূল কংগ্রেস থেকে যারা বিজেপিতে যোগদান করেছেন তাদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির তথ্য তুলে ধরবেন। তৃণূল কংগ্রেসের থাকার সময়ে কী কী দুর্নীতি করেছে এই সব নেতারা সেটাকে তুলে ধরাই হচ্ছে এখন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যাযে মুখ্য উদ্দেশ্য। শাসক দল এখন বেশি চিন্তিত মেদিনীপুর এবং দক্ষিণ বঙ্গ নিযে পুরুলিযা এবং বাঁকুড়া নিয়ে চিন্তায় পড়ে রয়েছেন শাসক দলের নেতারা। তারা মনে করছে যে এবারে বিজেপির সঙ্গে হাড্ডাহাড্ডি নির্বাচনী লড়াই হবে। বিজেপি এবারে পশ্চিমবঙ্গের দিকে বেশি করে নজর দিতে শুরু করে দিয়েছে। বিজেপি পশ্চিমবঙ্গের শাসন ক্ষমতা দখল করার জন্য কৌশল অবলম্বন করতে শুরু করে দিয়েছে। ফলে শাসক দলকে তার উপযুক্ত জবাব দেওয়ার ্প্রস্তুতি গ্রহণ করতে বাধ্য হচ্ছে। সেই কারণে এখন শাসক দল থেকে যে সব নেতারা বিজেপিকে যোগদান করেছেন তাদের দুর্নীতিটিকে ্প্রকাশ্যে নিয়ে আসার চেষ্টা করা হচ্ছে যাতে সেই সব দুর্নীতিবাজেরা ভোটে দাঁড়ানোর সমযে একটি ভোটও না পায় । অভিষেকের সভায উপস্থিত ছিলেন দুলাল দাস ও দীপক হালদার। তাঁরা শাসক দলে রয়েছেন বলে জানায। কিন্তু সাধারণ মানুষেরা কোন দিকে সেটা ৱুঝতে পারা যাচ্ছে না। ভোটাররা এখন দোদুল্যলমান। তারা বিজেপি দিকে না তৃণমূল কংগ্রেসের দিকে সেটা ৱুঝতে পারা যাবে ভোট পর্ব মিটলে। ভোট গণনা শুরু হলে। তার আগে নয় ।

Loading...