বাড়ি রাজ্য তিন জেলার পুলিশ সুপারদের ভর্ৎসনা করলেন নির্বাচন কমিশনার

তিন জেলার পুলিশ সুপারদের ভর্ৎসনা করলেন নির্বাচন কমিশনার

275
0

কলকাতা, ৩১ জানুয়ারি : দক্ষিন ২৪ পরগণা, বর্ধমান ও মুর্শিদাবাদের পুলিশ সুপারদের ভর্ৎসনা করলেন নির্বাচন কমিশনার সুনীল আরোরা | আজ বৃহস্পতিবার ধর্মতলার গ্রান্ড হোটেলে জেলা প্রশাসনের সঙ্গে বৈঠকে ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন তিনি | কেননা সিপিএম বিজেপি সহ বিরোধী দলগুলো তার আগেই অভিযোগ করে এখানে সুষ্ঠুভাবে নির্বাচন হয় না | নির্বাচন কমিশনার পুলিশ সুপার ও জেলা শাসকদের বৈঠকের শুরুতেই জানতে চান তারা নিজেরাই আগামী লোকসভা নির্বাচন করাতে পারবেন কিনা ? প্রশাসনিক আধিকারিকরা অনেকেই বলেন, আবার কত কেন্দ্রীয় বাহিনীও আসবে ? সুনীল অরোরা বলেন, কেন্দ্রীয় বাহিনীর দরকার কি, আপনারা তো আছেন | জেলা শাসক ও পুলিশ সুপাররা নিজেদের মধ্যে মুখ চাওয়া চাওয়াই করেন |

তখন সুনীল অরোরা দক্ষিন ২৪ পরগণার পুলিশ সুপারকে জিজ্ঞাসা করেন গোসবায় কেন গন্ডগোল হল| দক্ষিন ২৪ পরগনার পুলিশ সুপার বলেন, পূর্ব মেদিনীপুর থেকে লোকজন এসেছিল | নির্বাচন কমিশনার জানতে চান পুলিশ সুপার হিসেবে আপনার কাছে কোন খবর ছিল না, বাইরে থেকে লোক আসার | পূর্ব মেদিনীপুরের পুলিশ সুপার কিছু বলতে গেলে তিনি তাঁকে থামিয়ে বসিয়ে দেন | মুর্শিদাবাদের পুলিশ সুপার শ্রীমুকেশকে প্রশ্ন করেন অধীর চৌধুরি ও শুভেন্দু অধিকারি কি করছেন আপনার জেলায়, আপনি জানেন ? তাদের বায়োডাটা সম্বন্ধে আপনার কোনো ধারণা আছে ? মুর্শিদাবাদের পুলিশ সুপার কোন উত্তর দেওয়ার আগেই দিল্লি নির্বাচন কমিশনের এক ডিরেক্টর তার হাতে পুরো মুর্শিদাবাদ জেলার সমগ্র রিপোর্ট দেন |
বাঁকুড়ার জেলা শাসক ডা: উমাশংকরকে নির্বাচন কমিশানার জিজ্ঞাসা করেন, আপনি পাচন বলতে কি বোঝেন | ডা: উমাশংকর কোনো উত্তর দিতে পারেননি| সুনীল অরোরা জানতে চান, তাহলে আপনি পাচন্ডিতেতে গিয়ে কি করছিলেন | পাচন্ডিতে আপনার জেলায় নয় | ওটা বর্ধমান জেলায়, কেতুগ্রাম থানায় | সেখানে আপনি কয়েকদিন আগে কয়েকজনের সঙ্গে মিটিং করেন | সেখানে একটি রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধি উপস্থিত ছিলেন | তিনি অনুব্রত মন্ডল ওরফে কেস্টা বলে পরিচিত | সেই বৈঠকে আপনার থাকার কি দরকার ছিল | এখানে বলা যায়, অনুব্রত মন্ডল একটি জনসভায় বলেছিলেন, পাচন দিয়ে অনুর্বর জমিকে উর্বর করতে হবে | 

এর পরই তিনি বর্ধমানের পুলিশ সুপার ভাস্কর মুখোপাধ্যায়ের দিকে আঙ্গুল তুলে বলেন, আপনি এই খবর জানতেন | বর্ধমানের পুলিশ সুপার মাথা নেড়ে জানান দেন যে তিনি জানতেন না | সুনীল অরোরা বলেন, তাহলে কোন ভরসায় আপনাদের নিয়ে কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিশন আগামী লোকসভা নির্বাচন করবে | তখন ডা: উমাশংকর বলেন, আপনারা কত কেন্দ্রীয় বাহিনী পাঠাবেন ? সুনীল অরোরা বলেন, আপনারা তাহলে কিসের প্রশাসন চালাচ্ছেন | প্রশাসনে থাকার আপনাদের দরকার কি | বর্ধমানের জেলাশাসককে বলা হয় পুরো ঘটনার রিপোর্ট পাশের ঘরে বসে তৈরি করুন এবং ১ ঘন্টার মধ্যে তা জমা দিন | ওয়াকিবহাল মহলের ধারণা, শুক্রবার দিল্লি নির্বাচন কমিশনের ফুল বেঞ্চ দিল্লি চলে যাওয়ার আগে কয়েকটি জেলার জেলাশাসক ও পুলিশ সুপারদের বদলির নির্দেশ দিতে পারে | কারণ আজ বৃহস্পতিবার দক্ষিনবঙ্গের ১২ টি জেলা ও উত্তরবঙ্গের ১২ টি জেলার প্রশাসনিক আধিকারিকদের সঙ্গে কথা বলে সন্তুষ্ট নন নির্বাচন কমিশনার | তারা চাইছেন কম কেন্দ্রীয় বাহিনী দিয়ে এই রাজ্যে লোকসভা নির্বাচন পরিচালনা করার | কয়েকজন প্রশাসনিক আধিকারিক বলেন অন্তত প্রতিটি বুথে একজনকে কেন্দ্রীয় বাহিনী দেওয়া হোক | নিয়ম অনুযায়ী প্রতি বুথে ৩ জন করে কেন্দ্রীয় বাহিনী দেওয়ার কথা | নির্বাচন কমিশন চায় জেলার রিটার্নিং অফিসার হিসেবে জেলা শাসকরাই নির্বাচন ও আইনশৃঙ্খলার দায়িত্ব সামলাক |

Loading...