বাড়ি কলকাতা জেনেনিন বাংলার রসগোল্লার ইতিহাস

জেনেনিন বাংলার রসগোল্লার ইতিহাস

893
0

কলকাতা, ১৪ নভেম্বর (রবীন্দ্রকুমার শীল): রসগোল্লা নিযে বাংলার এবং ওড়িশার রণক্ষেত্র তৈরি হযেিল। এই মহাযুদ্ধে অবশেষে বাংলার জয। পুরীর জগন্নাথ ধামের ভোগকে সাক্ষ্য রেখে লড়াই চালিযে যাওযার চেষ্টা করেছিল ওড়িশা সরকার। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সেই সাক্ষী ধোপে টিকলো না। বাংলার কাছে পরাজয স্বীকার না করলেও বলতে গেলে আত্মসমর্পণ করলো। কিন্তু লড়াই চালিযে যাওযার মানসিকতা বজায রাখলেন ওড়িশার অর্থমন্ত্রী শশীভূষণ বেহারা। তিনি বলেছেন, জিওগ্রাফিক্যাল ইণ্ডিকেশন (জিআই) বাংলার একতরফা শুনানি শুনে রায দিযেছে। ভবিষ্যতে আবার এ ব্যাপারে হযতো ‘জগন্নাথ রসগোল্লা’ নামে হযে ওড়িশার হযে আর্জি জানানো হবে। জিআই এর সরকারি রেজিস্টার চিন্নারাজ জি নাইডু বলেছেন, বাংলাই হচ্ছে রসগোল্লার আঁতুড় ঘর। ওড়িশার এই দাবি একেবারে দিশাহীন। এতেই ক্ষেপে গিএছে ওড়িশা সরকার। বলা হয়েছে, উল্টোরথের দিন রসগোল্লার উত্সব হয পুরীতে।  জগন্নাথদেব দুই সপ্তাহ ছুটি কাটিযে মন্দিরে ফিৰে এসে শ্রীলক্ষ্নীর মানভঞ্জন করেন রসগোল্লা খাইযে এই প্রথা পুরীর প্রাচীন  পরম্পরা। ওড়িশার পাহালে প্রসিদ্ধ রসগোল্লার প্রস্তুতকারক বিকলান্দ করের বংশধর প্রশান্ত কর পুরীর পুরানো প্রথার কথা টেনে আনেন। কিন্তু রসগোল্লার প্রথম প্রস্তুতকারক নবীন দাশের নাতি ধীমান দাশ বলেন, ওড়িশা যেগুলো রসগোল্লা বলছে সেটা রসগোল্লা নয। ওড়িশার মন্দিরের নথিতে রসগোল্লার কোনও উল্লেখ নেই। ক্ষীরমোহন বলে মিষ্টির সঙ্গে রসগোল্লার মিল থাকতে পারে। জিআই এর পক্ষ থেকে বলা হযেে রসগোল্লার বযস খুব বেশি হলে 150 বছর। বাগবাজারের নবীন দাশ এবং ফুলিযার হারাধন মযরার হাত ধরেই রসগোল্লা অবির্ভাব।

 

পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায জানিযেছেন, রসগোল্লা নিযে যুদ্ধে বাংলার জয হবে সেটা নিশ্চিত ছিল। খাদ্য্প্রক্রিযাকরণ দফতরের কর্তারা তৃপ্তির হাসি হেসে বলেছেন, বাংলা থেকেই রসগোল্লা ওড়িশাতে গিযেছল। রাজ্যের প্রায লক্ষাধিকের বেশি রসগোল্লা প্রস্তুতকারক আছে বলে পশ্চিমবঙ্গ মিষ্টান্ন ব্যবসাযী সমিতির সদস্যরা মনে করেন। 1930 দশক থেকেই বাগবাজারের নবীন দাশের পুত্র কে সি দাশ এর সংস্থা টিনবন্দি করে রসগোল্লা বিজেশে রপ্তানি করতে শুরু করে। লেখক সৈযদ মুজতবা আলি সাহেবের লেখাতে টিনের রসগোল্লার বিদেশ ভ্রমণ বৃত্তান্ত রযেছে। কলিকাতা বিশ্ববিদ্যালযে খ্যাতনামা উপাচারয স্যার আশুতোষ মুখোপাধ্যায রসগোল্লার ভক্ত ছিলেন।

উত্তর কলকাতা কাশী মিত্র ঘাটের কাছে ছয পুরুষ ধরে বাস নবীনচন্দ্র দাশের পরিবারের। এদের পারিবারিক ব্যবসা ছিল চিনিকল। নবীনচন্দ্র দাশ জন্মগ্রহণ করার তিন মাসের মাথায তাঁর পিতা পরলোকগমন করেন। পরে তাঁর বিধবা স্ত্রীকে ব্যবসা থেকে সরিযে দেওযা হয। অল্প বযসে চিত্পুর রোডে অবস্থিত কালিদাস ইন্দ্রের মিষ্টির দোকানে কারিগরেৰ় কাজ করতে শুরু করন নবীনচন্দ্র দাশ। পরে দক্ষ কারিগর হযে আটচালার মিষ্টির দোকান খোলেন। নবীনচন্দ্র দাশ প্রথমে শুকনো মিষ্টি তৈরি করতে শুরু করেন। পরে ৱুদ্ধি খাটিযে ছানার ছোট ছোট গোল্লাকে চিনির রসে ডুবিযে রসগোল্লা তৈরি করতে শুরু করেন। রানি স্বর্ণমযী এই রসগোল্লা খুব পচ্ছন্দ করতেন। তখন রসগোল্লা নামটা আসে নি। তখন এর নাম ছিল ‘আবার খাবো’। নবীনচন্দ্র দাশের ব্যবসাযিক ৱুদ্ধি ছিল না। ব্যবসা লাটে ওঠার সময তাঁর স্ত্রী ব্যবসার হাল ধরলেন। নবীনচন্দ্র দাশের স্ত্রী ছিলেন ভোলা মযরার নাতনী। ব্যবসাকে ধরে রাখতেন তিনি। এরপরে কৃষ্ণচন্দ্র দাশ তাঁর ছোট ছেলে সারদাচরণ দাশকে সঙ্গে নিযে জোড়াসাঁকো এলাকাতে দোকান খোলেন। পরে তা বন্ধ হযে যায। আজকের বিখ্যাত ‘কে সি দাশ’ এর নেপথ্যে নাযক হলেন ঠাকুরদা সারদাচরণ দাশ।

কৃষ্ণচন্দ্র দাশ পরলোকগমন করেন 1934 সালে। 1935 সালে ধর্মতলার মোড়ে সারদাচরণ দাশ দোকান তৈরি করেন। 1945 সালে তাঁর হাত ধরে বযলার সিস্টেমে প্রথম মিষ্টি। 1960 সালে বিলাতে টিন রসগোল্লা রপ্তানি। 1983 সালে সেলিব্রাল আক্রান্ত হযে বিছানায শুযে তৈরি করলেন ‘অমৃতকুম্ভ’। 1988 সালে সারদাচরণের মৃতু্যর পর ধীরেন্দ্রনাথ দাশ দেখলেন, কে সি দাশ’র সাফল্যে নবীন দাশের নাম সবাই ভুলতে বসেছে। 1985 সালে ‘নবীনচন্দ্র দাশ’ নাম দিযে দোকান খুললেন। এই বাড়িতে পা রেখেছিলেন ঠাকুর রামকৃষ্ণদেব। 1885 সালে মানিকতলায ‘গাঙ্গুরাম’ নাম দিযে দোকান খোলেন গাঙ্গুরাম চৌরাশিযা। 133 বছরের দোকান। 27টি শাখা আছে। অভিনেতা অমিতাভ বচ্চন ‘গাঙ্গুরাম’ এর রসগোল্লা পছন্দ করতেন। শ্যামবাজার এলাকায অবস্থিত ‘চিত্তরঞ্জন’ প্রায 110 বছরের প্রাচীন। দেশবন্ধু চিত্তরঞ্জন দাশ ভক্ত ছিলেন সাধনচন্দ্র ঘোষ। তার নামকরণেই এই দোকানের নাম হযেছে ‘চিত্তরঞ্জন’। ‘টাইমস ফুড গাইড’ রসগোল্লা তৈরি সেরা সার্টিফিকেট দেয  । কলকাতার ‘বলরাম মল্লিক অ্যাণ্ড রাধারমণ মল্লিক’ রসগোল্লা তৈরিতে সুনাম অর্জন করেছে। 132 বছরের পুরানো দোকান। 2003 সালে ‘বেকড রসগোল্লা’ তৈরি করে।

বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও খুশি বাংলার জযেতে। এটা দুই বাংলার জয বলা যেতে পারে।

 

Loading...