বাড়ি অন্যান্য ‘জাল খনার বচনে’ বিদ্ধ মোদী, সরব নেটিজেনরা

‘জাল খনার বচনে’ বিদ্ধ মোদী, সরব নেটিজেনরা

230
0

কলকাতা, ২৭ মে : “দাবানল, শষ্যহানি, ঝড়, মহামারী / একত্রে ঘটিলে জেন রাজা দুরাচারী/ রাজা যদি পাপমতী, প্রবঞ্চক হয় / রাজপাপে দেশময় বহে মৃত্যুভয়/ অধর্ম, কুকর্ম যদি কভু রাজা কর / দেখিবে অন্নাভাবে প্রজাগন মরে/ বৈশাখে অকাল বন্যা, আষাঢ়েতে খরা/ নিশ্চয় বুঝিবে রাজা ভন্ড, ইষ্টহারা .. “আট লাইনের ‘খনার বচন’ ফেসবুকে রীতিমত ভাইরাল হয়ে উঠেছে। দেশের দূর্দশার মূলে নাম না করে দায়ী করা হচ্ছে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে। দুদিন ধরে হরেক মম্তব্যে বিদ্ধ হয়েছেন তিনি। অন্যদিকে, খনার এই ‘জাল বচন’-এর প্রতিবাদে মুখর হয়ে উঠেছে নেটিজেনদের একাংশ।  
দেবযানী ভট্টাচার্য ফেসবুকে লিখেছেন, “খনার বচন বলে একটি কবিতা হোয়াটসআপে এ ঘুরছে। কিন্তু এইরকম কোন “খনার বচন” বাস্তবে নেই। এখনকার কোন রসিক সোশ্যাল মিডিয়া কবি বেশ সুন্দরভাবে খনার বচনের নকল করে এই ছড়াটি লিখেছেন, বর্তমান কেন্দ্রীয় সরকারের পরিচালনাকারী রাজনৈতিক দলের ও শীর্ষ নেতৃত্বের একটি বিশ্বাসযোগ্য বিরোধিতা করবার বিশেষ উদ্দেশ্যে। তবে, যতই জাল হোক, ছড়াটা যিনিই লিখে থাকুন না কেন, জাল করার কায়দায় যে বেশ একটা মুন্সীয়ানা আছে সেটা স্বীকার করতেই হবে।রামলাল শীল-এর সংকলিত মূল “খনার বচন” বইটার পিডিএফ আমার কাছে আছে। পরপর বেশ কয়েকটা গ্রুপ থেকে এই মেসেজটি পেয়েছি। তাই কিছুটা বাধ্য হয়েই প্রতিবাদ করতে হচ্ছে। নাহলে প্রথম প্রথম ইগনোর করতেই চেয়েছিলাম।এখন ঠিক করেছি, যত জায়গা থেকে এই মেসেজ পেয়েছি, সব জায়গাতেই প্রতিবাদটা জানিয়ে দেব। আসলে যেহেতু এখনকার নেটিজেনদের অনেকেই খনার বচনের মূল বইটা নিজে পড়বার সময় বা সুযোগ পাননি, সেহেতু রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে এই মেসেজটা ছড়ানো হয়েছে। মানুষের না জানার সুযোগ নিয়ে এবং উপর্যুপরি বিপদের মুখে পড়ে তাদের আতঙ্কিত অবস্থাকে ক্যাপিটালাইজ করে এইরকম রাজনৈতিক উদ্দেশ্য হাসিলের চেষ্টা বরদাস্ত করা উচিত নয়। সম্ভব হলে আপনিও যত জায়গা থেকে এই মেসেজটা পেয়েছেন সব জায়গায় প্রতিবাদটি জানান। তার সাথে রামলাল শীল-এর বইটির পিডিএফ ভার্সান ডাউনলোড করে হোয়াটসঅ্যাপে ফরওয়ার্ড করতে পারেন. ডিয়েগো আলভারেজ জানিয়েছেন,” আরে দিদিভাই এসব সনাতনী হিন্দু ধর্মকে ডিফেম করার করবার পদ্ধতিটাও কিছুটা জাকির নায়েকের মত। ওরা ভালো করেই জানেন যে বিষয়টা ৯৯: ১ রেশিওতে চলে মানে হলো ১০০ জন অজ্ঞ সনাতনীদের মধ্যে ৯৯ জন এইসব ভাঁট শুনে আর রিচেক করবে না। কিন্তু ১ জনও যদিবা রিচেক করে ভুলটা ধরে বাকি ৯৯ জনকে জানতেও যায়। তাতে লাভ নেই। লেফ্টিষ্টদের কাছে নেম শেমিংয়ের বড়সর অস্ত্র আছে।ফ্যাসিস্ট, রেসিস্ট, ইসলামোফোব যা খুশী তাই বলে ওই একজনকে চুপ করিয়ে দেওয়াটা খুবই সোজা। “এনাক্ষী মজুমদার লিখেছেন, “ভাষার বিন্যাস দেখেই বোঝা যায়।খনার বচন পাঁচালি নাকি? যে লিখেছে সে মূর্খ নিজেকে বড্ড চালাক মনে করে।”কাজলি রায় লিখেছেন,” এখন যেভাবে হোক যেখান থেকে হোক খুঁজে হোক বানিয়ে হোক এদের চেষ্টার ত্রুটি নেই।”রনি রায় লিখেছেন, একদম ঠিক! … রামলাল শীলের লেখা” খনার বচন “তন্ন তন্ন করে খুঁজেও এই বচন গুলি পেলাম না।.”অমিতাভ কাহালি লিখেছেন,” সমস্যাটা হলো এ যুগের মানুষের পূরাণ সম্মন্ধে অজ্ঞতা ও জানার ব্যাপারে অনাগ্ৰহী আচরণের সুযোগ নিয়ে কিছু ফেসবুকি সুচতুর ভাবে আলতু ফালতু ব্যাক্তিগত মতামত চালিয়ে দেয় পূরাণ, লোকগাথা, সাহিত্যের দু কলি, ইত্যাদীর নামে। একই ভাবে কালাম, চাণক্য ও রবীন্দ্রনাথের নামেও যা নয় তাই, এমনকি চটুল, স্থুল মন্তব্যও চালানো হয় নিয়মিত। না জানার কারণে অসংখ্য মানুষ সেগুলি শেয়ারও করেন। এইভাবে যাচাই না করে যা ইচ্ছা প্রচার করার ফলেই একটা দেশ ও জাতির পূরাণ, সংস্কৃতি, সাহিত্য ও ঐতিহ্য সম্মন্ধে ভুল তথ্য প্রচার হতে থাকে। যারা ভুলটা ধরতে পারবেন, তাদের উচিত সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য রক্ষার স্বার্থে এইভাবেই ভুলের প্রতিবাদ করে সঠিকটা প্রচার করা।”

Loading...