বাড়ি দেশ জামিনে মুক্তি পেয়েও দেশদ্রোহী অন্য মামলায় গ্রেফতার অখিল গগৈ

জামিনে মুক্তি পেয়েও দেশদ্রোহী অন্য মামলায় গ্রেফতার অখিল গগৈ

41
0


গুয়াহাটি, ১৯ মার্চ : গত মঙ্গলবার ১৭ মার্চ ৯৬ দিনের মাথায় জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা এনআইএ (নিয়া) আদালত তাঁকে জামিনে মুক্তি দিয়েছিল। কিন্তু অন্য এক দেশদ্রোহী মামলায় বৃহস্পতিবার ভোর প্রায় সাড়ে পাঁচটা নাগাদ গুয়াহাটি কেন্দ্রীয় কারাগারে শিবসাগর পুলিশ এসে ফের গ্রেফতার করে নিজেদের জিম্মায় নিয়ে গেছে কৃষক মুক্তি সংগ্রাম সমিতির উপদেষ্টা অখিল গগৈকে। আজ ভোরে শিবসাগর পুলিশের দলটি জাইলো এবং বলেরো গাড়ি করে এসে অখিল গগৈকে নিয়ে গেছে বলে জানা গেছে।  
আদালত সূত্রের খবরে প্রকাশ, গত মঙ্গলবার নিয়া-র আদালতে জামিন পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে পুলিশ অখিলকে চার দিনের জন্য নিজেদের হেফাজতে নিতে শিবসাগরে মুখ্য বিচারবিভাগীয় ম্যাজিস্রের টের আদালতে আবেদন পেশ করেছিল। সেই আবেদনের ভিত্তিতে কৃষক নেতাকে আদালত শিবসাগর পুলিশের হেফাজতে দেওয়ার পক্ষে রায় দেয়। ওই রায়ের ভিত্তিতে গত তিনদিন আগে শিবসাগর পুলিশে এক দল গুয়াহাটিতে এসে বাসর পাতে। সমস্ত আইনি প্রক্রিয়া শেষ করে আজ তাঁকে গ্রেফতার করে নিয়ে যাওয়া হয়েছে বলে সূত্রের খবরে প্রকাশ। 
প্রসঙ্গত, উজান অসমের কয়েকটি থানা যেমন শিবসাগরে ১৩৪৪/১৯, টিয়কে ৬৯৫/১৯, গৌরীসাগরে ১৫৪/১৯ এবং চাবুয়া থানায় ২৮৯/১৯ নম্বরে ভারতীয় ফৌজদারি দণ্ডবিধির ১২০ বি / ১৪৭ / ১৪৮/ ১৪৯ / ৩৩৬ / ৩৫৩/ ৩২৬ / ৩০৭ ধারায় আগে থেকেই অখিল গগৈয়ের বিরুদ্ধে মামলা রুজু ছিল। 
এখানে উল্লেখ করা যেতে পারে, মাওবাদী অভিযোগে দেশদ্রোহী মামলায় গত ১৬ ডিসেম্বর অখিল গগৈকে এনআইএ গ্ৰেফতার করেছিল। এর আগে ১৪ ডিসেম্বর অখিলের বিরুদ্ধে দেশদ্রোহীর মামলা রুজু করেছিল এনআইএ। ১৭ ডিসেম্বর গুয়াহাটিতে অবস্থিত এনআইএ আদালতে অখিলকে হাজির করিয়ে তদন্তকারী সংস্থাটি তাঁকে নিজেদের হেফাজতে চেয়েছিল। আদালত ১০ দিনের জন্য এনআইএ জিম্মায় পাঠায় কৃষকনেতা গগৈকে। 
কৃষক মুক্তি সংগ্রাম সমিতির উপদেষ্টা তথা বামপন্থী অখিল গগৈয়ের বিরুদ্ধে গত ১২ ডিসেম্বর ‘দেশদ্রোহিতা’র মামলা চালানোর রায় দিয়েছিল ডিব্ৰুগড় জেলা ও দায়রা আদালত। ভারতীয় ফৌজদারি দণ্ডবিধির দেশদ্ৰোহী সংক্রান্ত ধারা ১২৪(এ)-এর অধীনে চলানোর জন্য বলেছিলেন জেলা ও দায়রা জজ। 
এর আগে, দেশদ্রোহিতার এক মামলায় গত ২০১৭ সালের ১৩ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় গোলাঘাট থেকে অখিল গগৈকে গ্রেফতার করেছিল ডিব্রুগড় পুলিশ। এর আগের দিন ১২ সেপ্টেম্বর ডিব্রুগড় জেলার অন্তর্গত মরানের বামুনবাড়িতে এক সমাবেশে বাংলাদেশি (হিন্দু বাংলাদেশি)-দের ভারতীয় নাগরিকত্ব প্রদানের ‘ষড়যন্ত্র’ রুখতে এবং কেন্দ্রীয় এবং রাজ্যের বিজেপি সরকারের অসম-বিরোধী চক্রান্ত রুখতে প্রয়োজনে হাতে হাতে একে ৪৭ জাতীয় অত্যাধুনিক আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে প্রস্তুত থাকতে রাজ্যের জনসাধারণের কাছে আবেদন জানিয়েছিলেন বলে অখিলের বিরুদ্ধে অভিযোগ ছিল।
সেদিনের ‘প্ররোচনামূলক’ উদাত্ত ভাষণের পরই মরান থানায় অখিলের বিরুদ্ধে দেশদ্রোহিতার অভিযোগে ভারতীয় ফৌজদারি দণ্ডবিধির ১২০ (বি)/১২১/১২৪ (এ)/১০৯/১৫৩/১৫২ (এ)/৩৪ ধারা বলবৎ করে ১৮৮/১৭ নম্বরে মামলা রুজু করা হয়েছিল। ওই মামলার বলে পরের দিন গোলাঘাট সার্কিট হাউস সংলগ্ন এক বাড়ি থেকে তাঁকে গ্রেফতার করে ডিব্রুগড় জেলার মরান থানার পুলিশ। ডিব্রুগড়ের তদানীন্তন পুলিশ সুপার গৌতম বরা সেদিন বলেছিলেন, বামুনবাড়িতে অনুষ্ঠিত সমাবেশে যে ধরনের প্ররোচনামূলক ভাষণ দিয়ে জনতাকে উসকে দিয়েছেন, তা পরিচ্ছন্ন দেশদ্রোহিতা। পরবর্তীতে উপযুক্ত তথ্য প্রমাণের অভাবে সেই মামলা থেকে তাকে খালাস করেছিল আদালত। 

Loading...