বাড়ি দেশ জামিনের আবেদন খারিজ, গ্রেফতার হচ্ছেন ত্রিপুরার প্রাক্তন মন্ত্রী বিধায়ক বাদল চৌধুরী

জামিনের আবেদন খারিজ, গ্রেফতার হচ্ছেন ত্রিপুরার প্রাক্তন মন্ত্রী বিধায়ক বাদল চৌধুরী

155
0

আগরতলা, ১৭ অক্টোবর : অবশেষে গ্রেফতারই হচ্ছেন প্রাক্তন পূর্তমন্ত্রী তথা বর্তমান বিধায়ক সিপিআইএম নেতা বাদল চৌধুরী৷ দীর্ঘ শুনানির পর আদালত তাঁর জামিনের আবেদন খারিজ করে দিয়েছে৷ কিন্তু তাঁকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। তাঁর সন্ধানে পুলিশের রীতিমতো কালঘাম ছুটছে। এদিকে, প্রাক্তন পূর্তকর্তা সুনীল ভৌমিকের জামিনের আবেদনও খারিজ করে দিয়েছে আদালত৷ তাঁকে চারদিনের পুলিশ হেফাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে৷ অন্যদিকে, বুধবার রাতে আদালতের রায় ঘোষণা হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই পুলিশ মেলারমাঠে সিপিএম-এর পার্টি অফিসে তল্লাশিতে গিয়ে বাধাপ্রাপ্ত হয়েছে৷ আবারও সার্চ ওয়ারেন্ট ছাড়া তল্লাশি চালানো যাবে না বলে পার্টি অফিসের দরজায় আটকে দেওয়া হয়েছে পুলিশকে৷ স্বাভাবিকভাবেই গতকাল মধ্যরাতে মেলারমাঠে আবারও নাটকীয় খেলা শুরু হয়েছিল। তবে এস সবের পরও গভীর রাতে সদর এসডিপিও-র নেতৃত্বে সাতজন পুলিশ সিপিএম পার্টি অফিস তল্লাশি করেছে। কিন্তু বাদল চৌধুরীকে খোঁজে পাওয়া যায়নি। গতকাল দুপুর বারোটা থেকে পূর্ত দফতরে ৬০০ কোটি টাকা দুর্নীতি মামলায় বাদল চৌধুরীর জামিনের আবেদনের উপর শুনানি শুরু হয়৷ বাদি ও বিবাদি উভয় পক্ষ আদালতে জোর সওয়াল করেন৷ দুপুর তিনটা পর্যন্ত আদালতে শুনানি চলে৷ আদালত উভয় পক্ষের সমস্ত বক্তব্য শোনার পর রায়দান স্থগিত রাখেন৷ শুনানি শেষে বাদল চৌধুরীর কৌঁসুলি আইনজীবী পুরুষোত্তম রায়বর্মন বলেন, আদালতে ওই মামলায় বাদল চৌধুরীকে কোনওভাবেই গ্রেফতার করা যায় না৷ সেভাবেই যুক্তি তুলে ধরা হয়েছে৷ তাছাড়া, তাঁর শারীরিক অবস্থা সম্পর্কেও ডাক্তারি রিপোর্ট আদালতে জমা দেওয়া হয়েছে৷ তিনি বলেছিলেন, আদালত তাঁর মক্কেলের জামিন মঞ্জুর করবেন৷ কিন্তু তা হয়নি। এদিকে, পূর্ত দফতরের প্রাক্তন ইঞ্জিনিয়ার-ইন-চিফ সুনীল ভৌমিকের পক্ষের আইনজীবী পীযূষকান্তি বিশ্বাসও দাবি করেছেন, ওই মামলায় কোনওভাবেই প্রাক্তন পূর্তমন্ত্রী তথা বর্তমান বিধায়ক বাদল চৌধুরীকে গ্রেফতার করা যায় না৷ কারণ, এফআইআরে ভারতীয় ফৌজদারি দণ্ডবিধির ধারা ৪০৯ উল্লেখ করা হলেও ওই মামলার সাথে এই ধারা কোনওভাবেই সম্পৃক্ত নয়৷ তাছাড়া, দুর্নীতির যে অভিযোগ আনা হয়েছে তা কোনওভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়৷ কারণ কোনও কাজ শুরু হওয়ার সময় যে দর নির্ধারিত থাকে তা সমাপ্ত হওয়ার সময় স্বাভাবিক ভাবেই বেড়ে যায়৷ এক্ষেত্রে দুর্নীতি হয়েছে বলে ধরে নেওয়া উচিত হবে না বলে যুক্তি দেখিয়েছেন তিনি৷ 
এদিকে, দুপুর গড়িয়ে সন্ধ্যা, সন্ধার পর রাত হয়ে গেলেও আদালত রায়দান স্থগিত রেখেছিল৷ ফলে, বাদল চৌধুরীর ভবিষ্যত নিয়ে উৎকণ্ঠ ক্রমেই বাড়ছিল৷ অন্যদিকে, মেলারমাঠে সিপিএম পার্টি অফিসের সামনে রায়দানের আগেই ত্রিস্তরীয় নিরাপত্তা বোষ্টনী গড়ে তোলা হয়েছিল৷ পুলিশের এই রণসাজকে ঘিরে স্বাভাবিক ভাবেই অনুমান করা যাচ্ছিল আদালতের রায়দানে বাদল চৌধুরীর জামিনের আবেদন খারিজ হতেই তাঁকে গ্রেফতারের পুরো প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছে পুলিশ প্রশাসন৷ অবশেষে, রাত ১১টা ৪০ মিনিটে দায়রা জজ এস দত্ত পুরকায়স্থ রায় ঘোষণা করেন৷ তিনি পশ্চিম আগরতলা থানায় নথিভুক্ত ২৫১/১৯ নম্বর মামলায় অভিযুক্ত প্রাক্তন পূর্তমন্ত্রী তথা বর্তমান বিধায়ক বাদল চৌধুরীর জামিনের আবেদন খারিজ করে দেন৷ একই সাথে আত্মসমর্পণ করলে পুলিশ যে সাতদিনের রিমান্ড চেয়েছে তা-ও আদালত মঞ্জুর করেছে৷এদিন, রায় ঘোষণার পর সিপিএম পার্টি অফিস থেকে বিরোধী দলনেতা মানিক সরকার, সিপিএম রাজ্য সম্পাদক গৌতম দাস-সহ একের পর এক সিপিএম নেতৃত্ব বেরিয়ে যান৷ কেউই বাদল চৌধুরীর জামিনের আবেদন খারিজ প্রসঙ্গে মন্তব্য করতে চাননি৷ এদিকে, পুলিশের সামনেই এদিন সিপিএম পার্টি অফিসে সদর দরজা লাগিয়ে দেন ভেতরে থাকা দলীয় কর্মীরা৷ তার কিছুক্ষণ পর পুলিশ সিপিএম পার্টি অফিসে প্রবেশ করতে গেলে দলীয় কর্মী সমর্থকরা পুলিশকে বাধা দেন৷ তখন আবারও সিপিএম পার্টি অফিসে প্রবেশ করাকে ঘিরে নাটকীয় খেলা শুরু হয়ে যায়৷ এদিকে, বাদল চৌধুরীর আরেক কৌসুঁলি আইনজীবী রঘুনাথ মুখোপাধ্যায় জানিয়েছেন, আজ বৃহস্পতিবর উচ্চ আদালতে এই রায়কে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে জামিনের আবেদন জানানো হবে৷ তবে, উচ্চ আদালতে জামিনের আবেদন মঞ্জুর না হওয়া পর্যন্ত বাদল চৌধুরীর ঘাড়ে গ্রেফতারির খড়গ ঝুলতে থাকবে৷ যে-কোনও সময় তিনি গ্রেফতার হতে পারেন৷ গতকাল রাতে ত্রিপুরা পুলিশের মহানির্দেশক এ কে শুক্লা বাদল চৌধুরীর তল্লাশি অভিযানে নেতৃত্ব দিয়েছেন। আজ সকাল থেকেও দফায় দফায় বিভিন্ন স্থানে খোঁজ চালিয়েছে পুলিশ। বাদল চৌধুরীকে না পেয়ে পুলিশ সিপিএম রাজ্য সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য নারায়ণ করকে পশ্চিম আগরতলা থানায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ডেকে এনেছে।

Loading...