বাড়ি সম্পাদকীয় চম্পারনের জর্দালু আমের স্বাদ নিন, তবেই জানবেন সুগন্ধ ও মিষ্টি : আর...

চম্পারনের জর্দালু আমের স্বাদ নিন, তবেই জানবেন সুগন্ধ ও মিষ্টি : আর কে সিনহা

92
0

বিহারের চম্পারন জেলা নিয়ে (এখন তো পূর্ব চম্পারন ও পশ্চিম চম্পারন দু’টি জেলা হয়ে গিয়েছে) যখনই কথা হয়, তৎক্ষণাৎ সেখানকার নীল চাষীদের স্বার্থে মহাত্মা গান্ধীর নীল বিদ্রোহের কথা মাথায় চলে আসে। নীল বিদ্রোহ নিয়ে এখনও পড়াশোনা করছে গোটা দেশ। ওই চম্পারন এখন অন্য একটি কারণে দেশে জায়গা করে নিতে চলেছে। আসলে গোটা দেশ এখন সেখানকার সুস্বাদু আমের স্বাদ গ্রহণ করবে। এখানকার সুস্বাদু আমের স্বাদ ও সুগন্ধ অনন্য। এই আম খাওয়ার পর একবার তো মুখে আসবেই, ‘এর থেকে ভালো আম কখনও খায়নি।’ একথাও সত্য যে, সমগ্র দেশবাসী দশহরী, ল্যাংড়া, মালদহ, চৌসা, মালিহাবাদী, সাহারানপুরী, বাদামী, তোতাপরী, কেসর প্রভৃতি প্রজাতির আমের সঙ্গে পরিচিত হলেও, বিহারের বাইরে চম্পারনের আমের সম্পর্কে মানুষ বিশেষ কিছু জানেই না। যদিও, এখন এই সুস্বাদু আমের স্বাদে গোটা দেশ পরিচিত লাভ করবে। ডাক বিভাগের সৌজনেই এটা সম্ভব হচ্ছে। সাধারণ মানুষের বাড়িতে এবার ‘সুস্বাদু আম’ ও ‘শাহী লিচু’ পৌঁছে দেবে বিহারের ডাক বিভাগ। যদিও, বিহারের মুজফ্ফরপুরের শাহী লিচু সম্পর্কে ভালোভাবেই অবগত গোটা দেশ।এবার সুস্বাদু আমের পালা। আসলে ভারত সরকার, ডাক বিভাগ ও বিহার সরকারের উদ্যানতত্ত্ব বিভাগ সাধারণ মানুষের বাড়িতে ‘শাহী লিচু’ ও ‘সুস্বাদু আম’ পৌঁছে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। বিহার পোস্টাল সার্কেল বিহার সরকারের উদ্যানতত্ত্ব বিভাগের সঙ্গে ‘শাহী লিচু’ ও ‘সুস্বাদু আম’ ভালোভাবে প্যাকিং করে সুরক্ষিতভাবে সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়ার উচ্চাভিলাষী পরিকল্পনা নিয়েছে। এরফলে দু’টি উপকার হবে। প্রথমত, আম ও লিচু পিপাসুরা উপকৃত হবে। বাড়িতে বসে সুস্বাদু আম পাওয়ার থেকে ভালো আর কী হতে পারে। সে নিজেকে ভাগ্যবান মনে করবে। দ্বিতীয়ত, করোনা-প্রকোপের জন্য লাগু হওয়া লকডাউনের কারণে আম ও লিচু উৎপাদকরা তাঁদের ফল বিক্রি করার জন্য বাজার পর্যন্ত নিয়ে যাওয়া তথা পরিবহণের সমস্যায় পড়বেন না। এখন তো নিজেদের ফল বাজারে নিয়ে যাওয়ার জন্য তাঁদের প্রচুর সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়।এই পরিস্থিতিতে আম ও লিচু বিক্রি করা বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠেছে। এজন্যই সমস্ত ধরনের মানুষের চাহিদা পূরণের জন্য ও কঠোর পরিশ্রমী কৃষকদের ফল বিক্রি করার জন্য এই সরকারি উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। যদিও, এই ধরনের উদ্যোগ কয়েক দশক আগেই হওয়া উচিত ছিল। আপনি যদি নিজেদের পণ্যের প্রচারই করবেন না এবং গ্রাহকদের কাছে তা পৌঁছে না দেন, তাহলে জনগন কীভাবে সে সম্পর্কে অবগত হবে। আশা করা হচ্ছে অনন্য স্বাদের জন্য সমগ্র বিশ্বে প্রসিদ্ধ হয়ে উঠবে জর্দালু আম। চম্পারন ছাড়াও ভাগলপুরে এই আম পাওয়া যায়। প্রাথমিকভাবে পাটনা ও ভাগলপুরের মানুষজন এই সুবিধা পাবেন। ধীরে ধীরে বিস্তার হবে। এখন বিমান পরিষেবা চালু হয়েছে, পাটনা থেকে দেশের অন্যান্য প্রান্তেও নিয়ে যাওয়া যেতে পারে। বিহার এবং পূর্ব উত্তর প্রদেশ তো এই আমের ভক্ত।আমের মরশুমে সমস্ত পূর্বাঞ্চলীয়রা এই আম আনন্দ করে খান। এবারও সুস্বাদু আম না খেয়ে থাকতে পারবেন না তাঁরা। বিহারের বিভিন্ন প্রান্তে এই আম খাওয়ার প্রতিযোগিতাও হয়। শতাধিক প্রতিযোগী অংশ নেন। থালায় থাকে প্রচুর আম, পাশেই পড়ে থাকে খোসা। প্রত্যেকের মনে একটাই কথা, যত বেশি আম খাওয়া যায়। যদিও, আম খাও-পুরস্কার পাও এমন প্রতিযোগিতা দেশের অন্যান্য রাজ্যেও হয়। কিন্তু, এ বছর করোনার জন্য সমস্ত মজা ভেস্তে যাচ্ছে। এরই মধ্যে সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে জর্দালু আমের চাহিদা সম্পর্কে জানা যাচ্ছে। অনেকেই এই আম সম্পর্কে জানতে পারছেন। সর্বশেষ এই উদ্যোগের ফলে কৃষকরা উপকৃত হবেন।নইলে মোটা টাকা মধ্যস্থতাকারীদের পকেটে চলে যায়। মানুষজনও কম দামে নিজেদের বাড়িতেই এই আমের স্বাদ নিতে পারবেন। জর্দালু আম সবাইকে মোহিত করে। এই আমের স্বাদ কিছুটা ভিন্ন তো বটে। আমি নিজে বিহারের বাসিন্দা, এজন্যই একথা বলছি তা মোটেও নয়। আপনি নিজেও এই আম খেলে প্রশংসা করবেন। মুখ্যমন্ত্রী নীতীশ কুমারের নির্দেশে জর্দালু আম প্রতিবছর দেশের রাষ্ট্রপতি, উপ-রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, প্রতিরক্ষা মন্ত্রী, কৃষি মন্ত্রী, সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি, দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী-সহ বিশিষ্ট নাগরিকদের কাছে পাঠানো হয়। যখন এই জর্দালু আমের স্বাদ দেশের প্রতিটি সাধারণ নাগরিকই পাবেন, তখন সবারই ভালো লাগবে। মনে করা হয় দশহরী আমের উৎপত্তি লখনউয়ের নিকটবর্তী দশহরী গ্রাম থেকে। তাই ওই আমকে দশহরী বলা হয়। এই আম অত্যন্ত মিষ্টি হয়। আবার মহারাষ্ট্রের আলফান্সো আমের স্বাদ ও মিষ্টি দুর্দান্ত হয়। পশ্চিমবঙ্গ ও বিহারের মালদহ সম্পর্কে কথা না বললে সব কথা অসম্পূর্ন থেকে যায়।পশ্চিমবঙ্গের গঙ্গার তীরে মালদহ থেকে উৎপন্ন হয় গঙ্গা তীরেই পূর্ব ও পশ্চিমে ছড়িয়ে পড়েছে। ভাগলপুরের সবৌর নামক স্থান এবং পাটনার দিঘার দুধিয়া মালদহ তো অত্যন্ত সুস্বাদু। পাতলা কাগজের মতো খোসা, সরু আম অনন্য। মনে হয় যেন আইসক্রিম খাচ্ছি। পাটনার দিঘা অঞ্চলে সদাকত আশ্রমে ভারতের প্রথম রাষ্ট্রপতি, দেশরত্ন ও ভারতরত্ন ডা. রাজেন্দ্র প্রসাদ একটি ছোট বাড়িতে থাকতেন। দু’বার রাষ্ট্রপতি হওয়ার পর পুনরায় সেখানেই ফিরে আসেন, সেখানেই তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। ওই স্থানে আজও তাঁর হাতে রোপণ করা দুধিয়া মালদহের বাগান রয়েছে, যা এখনও সুগন্ধ ছড়াচ্ছে। কিন্তু, একবার জর্দালু আমের স্বাদ নিয়ে তো দেখুন। আপনারা মেনেই নেবেন স্বাদ ও সুগন্ধের বিচারে অন্যান্য আমের তুলনায় অনন্য জর্দালু আম। 

Loading...