বাড়ি কলকাতা ‘গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে ইউনিয়ন নির্বাচনের’ দাবিতে মঙ্গলবার জমায়েত প্রেসিডেন্সিতে

‘গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে ইউনিয়ন নির্বাচনের’ দাবিতে মঙ্গলবার জমায়েত প্রেসিডেন্সিতে

129
0

কলকাতা, ২২ অক্টোবর :  ছাত্রছাত্রীস্বার্থে স্বচ্ছ ও গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে ইউনিয়ন নির্বাচনের দাবীতে মঙ্গলবার দুপুরে জমায়েতের ডাক দেওয়া হল প্রেসিডেন্সি বিশ্ববিদ্যালয়ে। প্রেসিডেন্সির ছাত্রসংগঠন ইন্ডিপেন্ডেন্টস কনসলিডেশনের দাবি, ইউনিয়ন ছাত্রছাত্রীদের গণতান্ত্রিক মতপ্রকাশের জায়গা। তাই ইউনিয়ন নির্বাচনে সমস্ত ছাত্রছাত্রীর অংশগ্রহণ সুনিশ্চিত করতে হবে।দীর্ঘদিনের ‘হোক ইউনিয়ন’ আন্দোলনের জেরে গত ১৭ই তারিখে শিক্ষাদফতর বিশ্ববিদ্যালয়ে নির্বাচনের নির্দেশিকা জারি করে। এই নির্দেশিকা অনুসারে প্রেসিডেন্সি বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ কাল একটি নোটিশের মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রসংসদ নির্বাচনের কথা ঘোষণা করেছে। এই নোটিশে, আগামী ১৪ই নভেম্বর- এই তারিখে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা বলা হয়েছে। ইন্ডিপেন্ডেন্টস কনসলিডেশনের তরফে তিন দফা দাবি করা হয়েছে।  তাদের বক্তব্য, ক্যাম্পাসে ক্যাম্পাসে অগণতান্ত্রিক কাউন্সিল মডেলকে রুখে দেওয়ার প্রচেষ্টাকে রুখে দিতে পেরেছে শিক্ষার্থীসমাজ- এই নির্বাচন তারই প্রতিফলন। কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের তড়িঘড়ি জারি করা এই নোটিশ নিয়ে উঠে এসেছে একাধিক প্রশ্ন। 

ইউনিয়ন হোক সবার। এই দাবি তুলে ইনডিপেনডেন্ট কনসোলিডেশনের তরফে বলা হয়েছে— ১। আগামি নভেম্বর মাসে বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিকাংশ বিভাগেই মিডসেম পরীক্ষা শুরু হতে চলেছে। শুধু তাই নয়, বিজ্ঞান বিভাগের বেশ কিছু বর্ষের ফিল্ড ওয়ার্ক-ও রয়েছে নির্বাচনের তারিখে। সুতরাং এই নোটিশ অনুযায়ী নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলে তাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের একাংশ পড়ুয়া অংশগ্রহণ করতে পারবে না। ২। বিশ্ববিদ্যালয়ে সংসদ নির্বাচনের ক্ষেত্রে গণতান্ত্রিক পদ্ধতি অনুযায়ী সমস্ত রাজনৈতিক দল/মঞ্চের মতামত গ্রহণ আবশ্যিক। কিন্তু এক্ষেত্রে কর্তৃপক্ষ নির্বাচনের নোটিশ জারি করার আগে এমন কোনো মিটিং আয়োজন করেনি। ৩। নোটিশে জানানো হয়েছে, নির্বাচন পদ্ধতির ক্ষেত্রে বিশ্ববিদ্যালয়ের স্ট্যাটিউট অনুসরণ করা হবে। কিন্তু বাস্তবে এই স্ট্যাটিউট বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনো শিক্ষার্থীর কাছে উপলব্ধ নেই। ফলে নির্বাচন পদ্ধতি ঠিক কী হবে এবং তা কতদূর স্বচ্ছ থাকবে তা নিয়ে অনেক প্রশ্ন থেকে যাচ্ছে। ইন্ডিপেন্ডেন্টস কনসলিডেশনের অন্যতম ছাত্রনেতা সায়ন চক্রবর্তীর দাবি, উপরের বিষয়গুলো থেকে যে কথাটা স্পষ্ট, তা হলো, এই অগণতান্ত্রিক নির্বাচন পদ্ধতির ফলে বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি বড় অংশের শিক্ষার্থী নির্বাচন প্রক্রিয়ায় সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করতে পারবে না। সংসদ নির্বাচনের ক্ষেত্রে তা যদি হয়, ইউনিয়নে সবার মতামত যদি প্রতিফলিত না হয় তাহলে তার গ্রহণযোগ্যতাই প্রশ্নের মুখে পড়ে। ছাত্রছাত্রীদের নির্বাচনে কর্তৃপক্ষের দাদাগিরি যে ইউনিয়নের জন্ম দেবে- সেখানে আমাদের মতামত আদৌ গুরুত্ব পাবে কিনা- উঠে আসে এই প্রশ্নও। এই দাবিকে সামনে রেখে, ইন্ডিপেন্ডেন্টস কনসলিডেশনের পক্ষ থেকে, এদিন একটি জমায়েতের ডাক দেওয়া হয়েছে।

Loading...