বাড়ি অন্যান্য কালে কালে কালিমায়ের নানা রূপ

কালে কালে কালিমায়ের নানা রূপ

167
0

কলকাতা, ২৬ অক্টোবর : কালী কলকাত্তাওয়ালি। এক ভয়ঙ্কর দেবী, কীভাবে হয়ে উঠল বাঙালির মা? এর পিছনে রয়েছে দীর্ঘ ইতিহাস। নানা কাহিনি। কালীকাহিনি।

দক্ষিণাকালী, মহাকালী, ভদ্রকালী, চামুণ্ডাকালী, শ্মশানকালী….কালীর নানা রূপ। নানা আকার।

অনেকে বলেন মহাভারতেও কালীর উল্লেখ রয়েছে। কালীর কথা শোনা যায় মার্কণ্ডেয় পুরানেও। সপ্তদশ শতকের নবদ্বীপের কৃষ্ণানন্দ আগমবাগীশ বাংলায় এখন যে কালীমূর্তি দেখা যায় তার প্রবর্তক৷

ব্যোম কালী কলকাত্তেওয়ালি- এই শব্দবন্ধের সঙ্গে কমবেশি সকলের পরিচয় আছে| তবে এর সঙ্গে বাগবাজারের ব্যোম কালী প্রতিমার সরাসরি যোগটা কি, তা প্রায় কারও জানা নেই| আনুমানিক ২৬৯ বছর আগে জঙ্গলে ঘেরা তৎকালীন বাগবাজার অঞ্চলে সাধুর দেওয়া মৃন্ময়ী কালীমূর্তি পর্ণকুটিরে প্রকাশ করেন প্যালারাম ভট্টাচার্য| ২৩ চিত্পুর ব্রিজ অ্যাপ্রোচ রোডে (অধুনা মোহিত মৈত্র সরণী) ব্যোম কালী নামে পরিচিত এই দেবীর মন্দির পরবর্তীকালে সংস্কার করেন তাঁর বংশধর সীতারাম ভট্টাচার্য্য| এই পুজোয় আজও সাধুর দেওয়া পুঁথি অনুসরণ করা হয়|

বছরভর ভাত, লুচি, ডাল, ন’রকমের ভাজাভুজি, তরকারি, পোলাও, পরমান্ন, চাটনি মিষ্টি দই, পান সহযোগে নিরামিষ ভোগ দেওয়া রীতি| কেবল অন্নকুটের  দিনে পুইশাকের সঙ্গে মাছের মাথা সহযোগে ছ্যাঁচড়া আমিষ হিসেবে দেওয়া হয়|  প্যালারামের সপ্তম পুরুষ বাসুদেব ভট্টাচার্য এখন পুজোর দেখভাল করেন|

সাধক কৃষ্ণানন্দ আগমবাগীশ কালীকে যে রূপ দিয়েছিলেন, তাকেই যেন আরও কাছের করে নেন রামপ্রসাদ সেন। সে সময়ে চারপাশে নানা বিপর্যয়। রামপ্রসাদের গানের ভক্তিরসের আবেদনে শ্মশানবাসী কালী ঢুকে পড়ে বাঙালির ঘরে ঘরে। বাঙালির মনে। কালী হয়ে ওঠেন আদরের শ্যামা।

Loading...