বাড়ি অন্যান্য কাটলিছড়ায় নিখোঁজ ব্যক্তির পচা দেহ উদ্ধার, দুই খুনিকে কারাগারে পাঠালো আদালত

কাটলিছড়ায় নিখোঁজ ব্যক্তির পচা দেহ উদ্ধার, দুই খুনিকে কারাগারে পাঠালো আদালত

408
0

হাইলাকান্দি (অসম), ৩০ অক্টোবর : হাইলাকান্দি জেলার কাটলিছড়া থানাধীন প্রত্যন্ত কাঁঠালতলি গ্রাম থেকে সন্দেহজনকভাবে নিখোঁজ প্রৌঢ়ের পচা দেহ অবশেষে উদ্ধার করল পুলিশ। আর সেই সঙ্গে খুনের দায়ে দুই ব্যক্তিকে পুলিশ গ্রেফতার করেছে। আজ মঙ্গলবার উভয়কে আদালতে তোলা হয়েছে। সোমবার দুপুরে কাঁঠালতলি এলাকার এক নালার জলে গাছের লগে (কাটা কাণ্ড) বাঁধা অবস্থায় প্রৌঢ় মানিক মুণ্ডার পচাগলা কঙ্কালসর্বস্ব মৃতদেহ উদ্ধার করেছে কাটলিছড়া পুলিশ। ম্যাজিস্ট্রেট রেবেকা সাংসন, কাটলিছড়া থানার ওসি নিতাইচাঁদ সিংহ, এসআই কল্যাণ বরার নেতৃত্বে পুলিশ বাহিনী অভিযান চালিয়ে কাঠালতলি সেকশনের নালায় গাছের লগে বাঁধা পলিথিনে মোড়া অবস্থায় মানিক মুণ্ডা (৭০)-র কঙ্কাল-লাশ উদ্ধার করেছে। সম্পত্তির লোভে মানিক মুণ্ডাকে খুন করে নালায় গাছের লগে বেঁধে রাখা হয়েছে বলে পুলিশের সন্দেহ। পুলিশ এই খুনের সঙ্গে জড়িত সুরেশ মুণ্ডা এবং বিজয় মুণ্ডা নামের দুজনকে গ্রেফতার করেছে।
গত ১ অক্টোবর জনৈক বীরেন মুণ্ডা কাটলিছড়া থানায় নিজের কাকা মানিক মুণ্ডা নিখোঁজ হয়েছেন বলে একটি এজাহার জমা দিয়েছিলেন। এজাহারে বীরেন মুণ্ডা তার কাকার নিখোঁজের পেছনে সুরেশ ও বিজয়ের হাত থাকতে বলে সন্দেহ ব্যক্ত করেছিলেন। এর পর আবার গত ১৪ অক্টোবর সুরেশ মুণ্ডা (গ্রেফতার) কাটলিছড়া থানায় মানিক মুণ্ডার নিখোঁজ সংক্রান্ত আরেকটি এজাহার জমা দেন।
কাটলিছড়া পুলিশ তদন্তে নেমে রবিবার প্রৌঢ় মানিক মুণ্ডার আশ্রয়দাতা সুরেশ মুণ্ডা এবং বিজয় মুণ্ডাকে থানায় তুলে নিয়ে আসে। টানা জিজ্ঞাসাবাদের মুখে রবিবার রাতে সুরেশ ও বিজয় নিখোঁজ মানিকের লাশের সন্ধান দেন। যথারীতি সোমবার সকালে সুরেশ ও বিজয়কে নিয়ে জঙ্গলের নালায় অভিযান চালায় পুলিশ। পুলিশকে ঘটনাস্থলে নিয়ে যায় তারা। সুরেশের বাড়ির পশ্চিম দিকে সেকশনের নালায় তারা নিয়ে পুলিশকে। সেখানে গাছের লগ-সহ পলিথিন মোড়া মানিকের দেহ উদ্ধার হয়।
পুলিশি জেরায় তারা খুনের কথা কবুল করেছে বলে তদন্তকারী অফিসার জানিয়েছেন। স্বীকারোক্তিতে তারা পুলিশকে জানিয়েছে, সুরেশের ঘরে বেধড়ক প্রহারে মানিক মারা যায়। এর পর মরদেহ গায়েব করতে তারা নালায় নিয়ে যায়।
এদিকে মানিক মুণ্ডার মৃতদেহ কাটলিছড়া থেকে জেলা সদর হাইলাকান্দির এসকে রায় সিভিল হাসপাতালে নিয়ে আসে ময়না তদন্তের জন্য। মানিক মুণ্ডার ভ্রাতুষ্পুত্র বীরেন মুণ্ডা জানান, তার আপন কাকা মানিক মুণ্ডার স্ত্রী অর্থাৎ কাকিমা নেই, বহুদিন আগে তার মৃত্যু হয়েছে। এক মেয়েকে বিয়ে দেওয়ার পর থেকে তিনি একা বসবাস করতেন।
এদিকে আজ সুরেশ মুণ্ডা এবং বিজয় মুণ্ডাকে বিচারবিভাগীয় আদালতে তোলা হয়েছিল। শুনানি শেষে আদালত তাদের জেলা কারাগারে পাঠিয়েছে।

Loading...

একটি উত্তর ত্যাগ

Please enter your comment!
Please enter your name here