বাড়ি কলকাতা করোনা আতঙ্কের ঊর্ধ্বে উঠে কর্তব্যে অবিচল সাংবাদিকেরা

করোনা আতঙ্কের ঊর্ধ্বে উঠে কর্তব্যে অবিচল সাংবাদিকেরা

79
0


কলকাতা, ২৩ মার্চ :করোনা ভাইরাসের ত্রাসের সামনে দাঁড়িয়েও কর্তব্যে অবিচল সাংবাদিকেরা. চিকিৎসক , নার্স, স্বাস্থ্যকর্মী, পুলিশ ও অন্যান্য জরুরী পরিষেবার মতোই নিরবিচ্ছিন্নভাবে করোনা পরিস্থিতিতেও নিজেদের কর্তব্য পালনে অবিচল এ রাজ্যের সাংবাদিকেরা।বর্তমান পরিস্থিতিতে গোটা দেশে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা ৪০০ ছাড়িয়ে গিয়েছে। এমন ভয়াবহ পরিস্থিতির মধ্যেও খবর সংগ্রহ ও সঠিক তথ্য রাজ্যবাসী তথা দেশবাসীর কাছে পৌঁছে দিতে বদ্ধপরিকর বঙ্গীয় সাংবাদিককুল। প্রতিকূলতার মধ্যেও নিজের কর্তব্যের প্রতি অবিচল তারা। বীরভূমের জেলা সাংবাদিক হেমাভ সেনগুপ্ত নিজের অভিজ্ঞতার কথা ব্যক্ত করতে গিয়ে বলেন, জরুরী পরিষেবার সঙ্গে যুক্ত যেমন চিকিৎসক, স্বাস্থ্যকর্মী, পুলিশকে করোনা থেকে সুরক্ষিত রাখার জন্য মাক্স, স্যানিটাইজার সরবরাহ করছে সরকার। কিন্তু এমন সুযোগ থেকে বঞ্চিত সাংবাদিকেরা। কার্যত ঝুঁকি নিয়েই খবর সংগ্রহের জন্য বেরোতে হচ্ছে বহু সংবাদদাতাকে। হেমাভ বাবুর কথায় ভিন রাজ্য থেকে আসা শ্রমিক থেকে শুরু করে জেলা হাসপাতালে আসা রোগীদের খবর করতে ঘটনাস্থলে যেতে হচ্ছে ফলে মাক্স, স্যানিটাইজারের ব্যবস্থা একজন সাংবাদিককে নিজেকেই করতে হচ্ছে। আর পাঁচটা মানুষের মতন সাংবাদিকদেরও পরিবার আছে তাদেরও বাবা-মা, পুত্র কন্যা রয়েছে।. বাড়ি ফিরে অনেক সময় ইচ্ছে করে নিজের সদ্যজাত সন্তানকে জড়িয়ে ধরি কিন্তু তখনই করোনার আতঙ্ক গ্রাস করে। তার দাবি নিয়মিত সাংবাদিকদের সরকারের তরফ থেকে স্বাস্থ্য পরীক্ষা করানো উচিত। করোনা পরিস্থিতিতে রাজ্যবাসীর মনে এক উৎকন্ঠা কাজ করছে কিন্তু সাংবাদিক হিসেবে সেই উৎকণ্ঠাকে উড়িয়ে দিয়েছেন রক্তিমা দাস। তার কথায় ঝুঁকি আছে জেনেই এই পেশাতে আসা। যেসব সাংবাদিক বেলেঘাটা আইডি হাসপাতালে দাঁড়িয়ে খবর সংগ্রহ করে চলেছেন তারা স্রেফ মাইনের জন্য সেই কাজ করছেন না। সাংবাদিকতা প্রতি দায়বদ্ধতা ও ভালোবাসা থেকে ঝুঁকি সত্বেও এই কাজ করে চলেছেন তারা। প্রশাসনের উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে রক্তিমা বলেন যে কলকাতা কর্পোরেশন এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের কার্যালয়ের প্রবেশের পথে তাদেরকে স্যানিটাইজার দেওয়া হচ্ছে।কলকাতার একটি নামি বৈদ্যুতিক গণমাধ্যমের সাংবাদিক অনুপাম পাত্র বলেন যে বেলেঘাটা আইডি হাসপাতাল খবর সংগ্রহ করতে গিয়ে প্রায় ৭২ ঘন্টা খুব কাছ থেকে করোনার ভয়াবহতার সাক্ষী থেকেছেন তিনি। করোনায় মানুষের আর্তনাদ কি পর্যায় যেতে পারে সেই অভিজ্ঞতার কথা বলতে গিয়ে অনুপম বলেন, শরীরে করোনা ভাইরাস আছে কিনা তা তা জানতে স্বাস্থ্য কর্মীদের কাছে কাতর আরতি জানায় লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা বহু মানুষ। করোনা পরিস্থিতিতে আতঙ্কে ঊর্ধ্বে উঠে কাজ করে চলেছে সাংবাদিকেরা। বাড়িতে বসে থাকলে এই পেশায় কাজ করা যায় না ফলে করোনার মধ্যেও বেরোতে হচ্ছে অনুপমের মতন বহু সাংবাদিককে। অনুপমের মতে মানুষের মধ্যে গিয়ে খবর সংগ্রহ করার সময় একজন সাংবাদিকের জানা সম্ভব নয় কার শরীরে মারণ এই  ব্যাধির ভাইরাস আছে কিনা। ফলে ঝুঁকি নিয়েই কাজ করতে হচ্ছে তাদের। কার্যত ডেড জোনে দাঁড়িয়েই কাজ করে চলেছেন অনুপম পাত্র।কলকাতা প্রেস ক্লাবের পরিচালন সমিতির সদস্য হীরক কর এই প্রতিবেদককে জানান, সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে ৩১শে মার্চ পর্যন্ত বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে প্রেসক্লাব। এই কদিন পুরোপুরি বন্ধ থাকবে ঐতিহ্যবাহী এই ক্লাবটি। তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন সর্তকতা অবলম্বন না করলে ভারতে ইতালির মতন হতে পারে। সম্প্রতি করোনা আতঙ্কে একটি টিভি চ্যানেল বন্ধ হয়ে যাওয়া নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন তিনি। হুগলির জেলা সাংবাদিক সমিত সিনহা এই প্রতিবেদককে বলেন, জেলার ষাটোর্ধ্ব সাংবাদিকেরা ইতিমধ্যেই বাড়ির বাইরে বেরোনো বন্ধ করে দিয়েছেন তার কথায় বাকি সাংবাদিকেরা ঝুঁকি নিয়েই খবর সংগ্রহ করতে হাসপাতাল ও ভিন রাজ্য এবং বিদেশ থেকে আসা লোকেদের সঙ্গে কথা বলছেন খবর সংগ্রহের তাগিদে। তার কথায় করোনা সংক্রান্ত খবর সংগ্রহ করতে গিয়ে একাধিক ক্ষেত্রে বাধার মুখে পড়তে হচ্ছে।বরিষ্ঠ সাংবাদিক অশোক সেনগুপ্ত জানিয়েছেন, করোনা পরিস্থিতির মধ্যেও সকাল থেকে রাত পর্যন্ত নিরবিচ্ছিন্নভাবে খবর সংগ্রহের কাজে নিজেকে ব্যস্ত রেখেছেন তিনি। তার কথায় বৈদ্যুতিক গণমাধ্যমের সাংবাদিকেরা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে কাজ করে চলেছেন। পূর্ব মেদিনীপুরের সাংবাদিক চন্দন সেনাপতি এই প্রতিবেদককে বলেন, সমস্ত রকমের সুরক্ষা নিয়েই খবর সংগ্রহ করতে বেরোতে হচ্ছে তাকে। বাড়িতে এসেও নিজেকে শোধন করে নিচ্ছেন তিনি।. করোনা রোধে ঘরোয়া টোটকা তুলসী পাতা সেবন করছেন এই তরুণ সাংবাদিক। দক্ষিণ কলকাতার একটি বৈদ্যুতিক গনমাধ্যমের সাব-এডিটর হাসান জাহাঙ্গীর জানিয়েছেন, প্রতিটা মুহূর্তের খবর সাধারণ দর্শকদের কাছে পৌঁছে দিতে কাজ করে চলেছেন তিনি. ডেস্কে বসে মানুষকে খবর দিয়ে সচেতন করাই তার উদ্দেশ্য বলে জানিয়েছেন এই তরুণ সাংবাদিক।. মানসিক চাপ নিয়েই কাজ করে যেতে হচ্ছে তাকে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বৈদ্যুতিক গনমাধ্যমের এক সঞ্চালিকা এই প্রতিবেদককে জানিয়েছেন এমন পরিস্থিতিতে তাদের কোনো ছুটি নেই। মানুষের কাছে খবর পৌঁছে দিতেই হবে । তবে অফিসে আসার সময় ঝুঁকি থেকে যায়।

Loading...