বাড়ি দক্ষিণ দিনাজপুর ঐতিহ্য মেনে এখনো নিষ্ঠা ও ভক্তি সহকারে কালিয়াগঞ্জের অষ্টধাতু মা বয়রা...

ঐতিহ্য মেনে এখনো নিষ্ঠা ও ভক্তি সহকারে কালিয়াগঞ্জের অষ্টধাতু মা বয়রা কালী পূজা হয়ে চলেছে

211
0


ইসলামপুর , ২৮ অক্টোবর ।সাম্প্রদায়েক ঐতিহ্য মেনে এখনো নিষ্ঠা ও ভক্তি সহকারে উত্তর দিনাজপুর জেলার কালিয়াগঞ্জের অষ্টধাতু তৈরি মা বয়রা কালী পূজা হয়ে চলেছে। এই পূজাকে ঘিড়ে এক প্রকার মিলন মেলায় পরিনত হয়।কারন সময় দূরদুরান্ত থেকে মানুষের ঢ্ল নামে পূজা মন্দিরে। এক প্রকার পুলিশ প্রশাসনকে হিমশিম খেতে হয়। কালিয়াগঞ্জের সাথে কালী পূজার অন্তরঙ্গের মিল রয়েছে সেই কারনে কালিয়াগঞ্জের রাজনন্দিনি বয়রা কালী দর্শন মাত্রই মানুষের মন শান্তি হয়ে যায়। পূজার দিন মন্দির কে নানা কৃতিম ফুল ও আলোর তরঙ্গের মধ্য  সাজিয়ে তোলা হয়েছে। বিশেষ আকর্ষন হল মা বয়রাকে কেজি  স্বর্ন অলঙ্কার দিয়ে সারা শরীর সাজিয়ে তো হয়েছে। মা বয়রা রাজনৈন্দিনি রুপে সেজে উঠেছে। এই পূজা সাম্প্রদায়ীক ঐতিয্য।
জানাযায়  কালিয়াগঞ্জের শ্রীমতি নদীর তীরে এক সময় বয়রা কালী পূজো শুরু হয়েছিল বলে জানা যায়। একদা শ্রীমতি নদী খরস্রোতাও বিস্তৃত ছিল। সেই সময় বড় বড় নৌকা গুদরীবাজার ঘাটে এসে লাগতো।শোনা যায় সেই সময় নদী পথে কালিয়াগঞ্জে যে সমস্ত বনিক সম্প্রদায় বানিজ্যের জন্যে আসতো তারা নদীরতীরে একটি জঙ্গলের মাঝে বয়রা গাছের তলায় এই পূজোর সূচনা করেছিল এলাকায় বর্ষিয়ান মানুষদের উপলব্ধি থেকে বোঝা যায়। সেই থেকে মা বয়রা কালী নামে এই পূজোর নামকরণ। কথিত আছে কালি পূজোর রাতে মা বয়রা পরিক্রমায় বের হতেন। সেই সময় অনেকেই তার পায়ের নূপূরের আওয়াজ শুনতে পেতেন। এই বয়রা কালী মন্দিরের গা ঘেসে ১৯২৮ সালে কালিয়াগঞ্জে রেল লাইন স্থাপিত হয়।এই রেল পথেই নেতাজী সুভাষ চন্দ্র বসু কালিয়াগঞ্জ হয়ে রায়গঞ্জ এসেছিলেন। স্বাধীনতা সংগ্রামের সময় বিপ্লবীরা কালিয়াগঞ্জের মজলিসপুরে মাঝে মধ্যেই আস্তানা গারতেন।শ্রীমতি নদী তীরের জঙ্গলার্কীন স্থানে তাদের বৈঠক হত বলে জানা জায়।ইংরেজরা এই সব স্থানে বিদ্রোহীদের উপর নজর দারির কারনে হাট কালিয়াগঞ্জ থেকে থানা স্থানা ন্তরিত করে নদীর তীরে জঙ্গলের পাশ্ববর্তী স্থানে নতুন করে স্থাপন করে। সেই সময় কালিয়াগঞ্জ থানার দারোগা ছিলেন নজমূল হক ।ইংরেজদের অধীনে চাকরী করলেও তিনি ভারতীয় সভ্যতা ও সংস্কৃতির যথেষ্ট মর্যাদা দিতেন। একজন খাটি মুসলমান হয়েও হিন্দু ধর্মের প্রতি ছিল আগাধ বিশ্বাস।দারোগা নজমূল হকের উদ্যোগেই এই বিশেষ চেষ্টায় সেদিন তৈরী করা হয়েছিল মা বয়রা কালির মন্দির। সেই সময় মন্দিরের নির্মানের জন্য তিনি এলাকার মানুষদের কাছে গিয়ে অর্থ ভিক্ষা করে এবং থানায় লবণের গাড়ী নিলাম করে সেই অর্থ দিয়ে মন্দিরের কাজ করেছিলেন। ঐ সময় থেকেই অত্যন্ত নিষ্ঠা ও আচারের মধ্যে দিয়ে মা বয়রা কালীর পূজোর ব্যবস্থা তিনি নিজেই আয়োজন করতেন। চলত সাতদিন ধরে নানা ধরনের গান বাজনার আস্র।এখনও সেই সময়কার দারোগা বাবু নজমূল হকের নামে আজও মা বয়রা কালির মন্দিরের সামনে নজমূ নাট্য নিকেতন নামে একটি নাট্য নিকেতন আজও সাম্প্রদায়িক সম্প্রিতির উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত বহন করে সম্পূর্ন তালে চলছে।দীর্ঘ দিন বাদে কালিয়াগঞ্জের বিশিষ্ট ব্যবসায়ী কনক প্রসাদ সিকদার প্রচেষ্টায় পূরন মন্দিরের স্থানে নতুন মন্দির তৈরীর বিশেষ উদ্যোগ গ্রহণ করেছিলেন ।১৯৬৮ সালে পূরোন কাচা মন্দির ভেঙে পাকা মন্দির নির্মান করা হয়। রায়গঞ্জ- বালুরঘাট রাজ্য সড়কের পাশেই মন্দির অবস্থিত। ১৯৯৮ সালে কালিয়াগঞ্জ বাসীর প্রচেষ্টায় তাদের দীর্ঘদিনের আশা মায়ের অষ্টধাতুর এর বিগ্রহ তৈরী করা হয়। কৃষ্ণনরের শিল্পী এই বিগ্রহ নির্মান করেন ।ব্যায় হয় আনুমানিক ৪ লক্ষ টাকা মত। মা বয়রা কালির আকর্ষনে শুধু পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন প্রান্ত থেকেই নয় বিভিন্ন রাজ্য থেকেও ভক্তরা মা এর পূজো দিতে আসেন। মা বয়রা খুব যাগ্রত। যে যা মনস্কামনা নিয়ে আসে মা বয়রা কাউকে খালি হাতে ফেরত পাঠান না। মা বয়রা পূজো মন্দিরের পুরহিরতা সারা বছর ধরে অতন্ত নিষ্টা আচার সহকারে পূজো হয়ে থাকে। বিশেষ করে মঙ্গলবার ও শনিবার পূজো দিতে প্রচুর মানুষের সমাগম হয় ।কালি পূজোর সময় মা বয়রার পূজোতে ৫ রকমের মাছ ও ৫ রকমের ভাজা ও স্বজ্জি দিয়ে ভোগ হয়।  প্রতিবছর ভক্তদের নানান ধরনের মানত মা এর পূজো মন্ডপ যেন প্রকৃত তীর্থ ক্ষেত্রের রুপ পেয়েছে।এবছোর নিষ্টা সহ কারে পূজো হচ্ছে। আর তাই এই পূজো দেখতে প্রচুর মানুষ ভিড় করছে এই পূজো প্রাঙ্গণে প্রতিবছর মতো এবছর ।এবারের পূজোতে কোন খামতি নেই মা বয়রার মন্দিরকে কৃতিম ফুল দিয়ে অপূরুপ সাজে সাজিয়ে তোলা হয়েছে। যা মানুষের কোন ভাবেই নজর সরছে না। মন্দির প্রাঙ্গনে মানুষের ঢল নেমেছে । গোটা মন্দির এলাকা জুরে কড়া পুলিশি নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা হয়েছে। যা কোন প্রকার দর্শনার্থিদের যাতে কোন স মস্যার মধ্যে পড়তে না হয়।

Loading...