বাড়ি কলকাতা এ যেন অন্য এক দিন, প্রহরগোনার মুখে উত্তাল বাজার

এ যেন অন্য এক দিন, প্রহরগোনার মুখে উত্তাল বাজার

47
0

কলকাতা, ২৩ মার্চ : পূর্ব যাদবপুরের সার্ভে পার্কের মৌসুমী, মুম্বাইয়ের আর এক গৃহবধূ মৈত্রেয়ী আর নিউ ইয়র্কের পায়েল। এই তিনজনের মধ্যে একটা বড় মিল। যেন বিশ্বজয় করে এনেছেন লকডাউন-এর আগে। 

রবীঠাকুর ‘গান্ধারীর আবেদন’-এ যে রকম লিখেছিলেন ‘হয়েছি বিজয়ী’, ঠিক যেন সে রকম একবুক তৃপ্তি। গোটা বাজার বুঝি সাফ করে দিয়েছেন। মৈত্রেয়ীকে নিয়ে ওঁর স্বামী শান্তনু গাড়ি চালিয়ে  গিয়েছিলেন শপিং মলে। ফিরে এসে মাথায় হাত— “ফ্ল্যাটে জিনিস থাকবে না আমরা থাকব?“ আর পায়েলকে মলে গাড়ি চালিয়ে নিয়ে গিয়েছিলেন ওঁর ‘হাবি‘। ঘরে ঢুকে প্রকাশ্যেই বললেন, “এক লপ্তে এত জিনিস আগে কেনার কথা কখনও ভাবিনি। “
মৌসুমী একাই গাড়ি করে গিয়েছিলেন পাড়ার বাজারে। হাঁটা পথ সাত মিনিটের। গাড়িবোঝাই বাজার নিয়ে ফিরলেন প্রায় এক ঘন্টা বাদে। কাঁচাবাজার দিন ৫-৭এর, আর প্রায় ছ‘মাসের অন্য রসদ। দু’হাত ভরে জিনিস অন্তত চারবার তুললেন একতলা থেকে দোতলায়। প্রায় ৩০০ লিটারের বড় মাপের দুটো ফ্রিজের অর্ধেক গত পর্শুই হরেক খাবারে বোঝাই হয়ে গিয়েছিল। আজ বাকি অর্ধেক ভরায় আর জায়গা হচ্ছে না। ক্রেটবোঝাই ডিম, দুধ ১২ প্যাকেট, পেঁয়াজ, সব্জি প্রভৃতি। এ ছাড়া, ২৫ কিলো চালের দুটি বস্তা, গোটা চার এক পাউন্ডের পাউরুটি, সংরক্ষণশীল হরেক জিনিস। বেঙ্গালুরুর বছর পঁয়ত্রিশের সৌমালি জানালেন বস্তা বেঁধে বেঁধে জিনিস নিয়ে যাচ্ছেন ক্রেতারা— এ দৃশ্য সত্যিই কখনও দেখিনি। 
এগুলো উদাহরণ মাত্র। সোমবার দুপুর পর্যন্ত দোকানগুলোতে আর ভিড় গড়ায়নি। কারণ তার আগেই নিত্যদরকারী জিনিসের তাকগুলি প্রায় ফাঁকা। স্টকের অভাবে একটি নামী চেন স্টোরের দক্ষিণ কলকাতার বিভিন্ন দোকান বন্ধ। বিকেল থেকে লক ডাউন। কতদিন চলবে, কী পরিণাম হবে— কে বলবেন?  ঝুঁকি না নিয়ে বধূরা যে পেরেছেন সঙ্গে নিয়ে গিয়েছেন স্বামীদের। কেউ ছেলে বা পরিচারিকাকে।  অনেকে একাই গিয়েছেন। গোটা দেশের চিত্রটা এদিন প্রথমার্দ্ধে ছিল এ রকমই। 

Loading...