বাড়ি ফিরে দেখা এই প্রথম আটকে পড়েছি রান্নাঘরে : মীরাতুন নাহার

এই প্রথম আটকে পড়েছি রান্নাঘরে : মীরাতুন নাহার

149
0

অশোক সেনগুপ্ত কলকাতা, ২২ এপ্রিল : ’৪৬-এর দাঙ্গার পর মা কলকাতা থেকে স্বেচ্ছায় গ্রামের বাড়িতে চলে গিয়েছিলেন। ওখানেই আমার জন্ম। প্রায় ১৬-১৭ বছর কাটিয়েছি গ্রামবাংলায়। এমন একটা গ্রামীণ সমাজে বেড়ে উঠেছি, মেয়েদের বিকশিত হওয়ার পথে অনেক বাধা। কথাগুলি বললেন শিক্ষাবিদ, সমাজকর্মী মীরাতুন নাহার। ভিক্টোরিয়া কলেজে ৩৪ বছর ছিলেন দর্শনের অধ্যাপক। বাগ্মী হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছেন। এখনও বেশ কিছু সুপরিচিত প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন পদাধিকারী। ইএম বাইপাস সংলগ্ন আবাসন ‘উদিতা’-র বহুতল ‘নবমী’-র ষষ্ঠতলের আবাসিক। অবসরপ্রাপ্ত ইঞ্জিনিয়ার-জীবনসঙ্গী, অধ্যাপিকা কন্য-সহ পরিবারে তিন সদস্য।মীরাতুন নাহার ‘হিন্দুস্থান সমাচার’-কে বললেন,“ এমনিতে প্রায়ই নানা কাজে বের হতে হয়। কাজের চাপে মনে হত অবসর পেলে বাঁচি। এখনও এত লেখা পড়ার চাপ , হাত গুটিয়ে বসে থাকার অবকাশ নেই। বীরভূমের প্রত্যন্ত গ্রামের মানুষ ফজলুল হকের লেখা আগেও পড়েছি। উনি দুটো বই পাঠিয়েছিলেন আমাকে। পড়া হচ্ছিল না। এর একটি ‘মৃতরাত্রিপুরাণ’। সমাজ কিভাবে মেয়েদের জীবনে বাধা হয়ে ওঠে—তার উপর আকর্ষণীয় ভঙ্গীতে লেখা। এছাড়া ওঁর আর একটা বই ‘ছায়ানিলয়’। দুটাই ভাল লাগল। ‘অক্ষয় কুমার দত্তর শ্রেষ্ঠ প্রবন্ধ’ চমৎকার লাগল। বিদ্যাসাগরের সমসাময়িক। সমাজকে এমনভাবে দেখেছেন মনে হয় এখন বসে লিখছেন। এতটাই নিরীক্ষণ করেছেন, মনে হয় যেন আমার মনের ভাষা। নীলাঞ্জন হাজরার ‘ইরানে’ রিভিউয়ের জন্য পাঠিয়েছেন প্রকাশক। ভাল বই। ‘এক ডজন গপ্পো’-র স্রষ্টা সত্যজিৎ রায় সম্পর্কে লিখছি। এ সবের সঙ্গে এগিয়ে রাখছি আত্মজীবনী লেখার কাজটা।”এই অবকাশে গান শোনা হচ্ছে? স্বীকারোক্তি— “আমার পুরো পরিবারটা গানের। যুবক বয়সে বাবা এস্রাজ শিখেছিলেন। দাদা লোকগীতি শিল্পী। মেয়ে পিয়ানো শিখেছে। তার বাবা সরোদ-এ মগ্ন থেকেছেন জীবনের অনেকগুলি বছর। ছেলেবেলা থেকে এ রকম আবহ পেয়েছি। কিন্তু কেবল শোনার জন্য আমার নিজের আর গান শোনা হয় না।” লকডাউনে কোনটায় বেশি ধাক্কা খেয়েছেন? “ওই যে বললাম, রান্নাঘর! এছাড়া ‘দোলনচাঁপা’ নামে একটি সাময়িকী প্রকাশ করি। নজরুল ইসলামের বইগুলো নিয়ে আলোচনা, ছোটদের লেখা, লোকসাহিত্য এসব থাকে। সাময়িকীটা এর মধ্যে বার হবার কথা ছিল। কিন্তু আটকে গিয়েছে। এই লকডাউন প্রসঙ্গে আপনার বা মূল ভাবনাটা কি রকম? যদি সংক্ষেপে বলেন।প্রবীন সমাজকর্মীর কথায়, “রাষ্ট্রনায়করা যদি আগাম ভাবতেন, এ রকম অবস্থা হত না। পরিস্থিতি কেন এ রকম হল? অর্থবান আর দরিত্র মানুষের জীবনধারার অবিশ্বাস্য আর্থিক বৈষম্য কেন এখনও এত প্রকট? এই সময়ে লকডাউনে কেন তা এত বিকট সত্য রূপে প্রকাশ পেল? দরিদ্র দেশবাসীকে বৈষম্য থেকে বাঁচানোর রাস্তা কেন পেলেন না রাষ্ট্রনায়করা? ভয়ার্ত ভারত ২০ অপেক্ষা করছে নিকট ভবিষ্যতে। কেবল ভয়াল কোভিড ১৯-এর জন্য তেমন পরিস্থিতি ঘটে নি! রাষ্ট্রনায়কদের সুদীর্ঘ সময় কালব্যাপী ব্যর্থতা অথবা অমনোযোগজনিত অপদার্থতার দায় ভোগ করতে হয়েছে এবং এখনও হবে ভারতবাসীর অধিকসংখ্যককে— ভাবলে জীবনের প্রাপ্ত সব আনন্দের স্বাদ তিক্ত হয়ে যায়।”

Loading...