বাড়ি কলকাতা উপসর্গহীন গণ পরিবহন চালকরাই কি তবে ছড়াচ্ছে সংক্রমণ!

উপসর্গহীন গণ পরিবহন চালকরাই কি তবে ছড়াচ্ছে সংক্রমণ!

36
0

কলকাতা, ২ আগস্ট : অটোর হাত ধরেই শহরে ছাড়াচ্ছে সংক্রমণ। এমনই এক চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এল সমীক্ষায়। করোনা আবহের প্রথম থেকেই উপসর্গহীনরা দুশ্চিন্তা বাড়িয়েছে। এবার দেখা গেল উপসর্গহীন অটো চালকদের থেকেই দক্ষিণ পূর্ব কলকাতার একটা বৃহৎ অংশে ছড়াছে সংক্রমণ। হাসপাতাল হোক কি বহুতল আবাসন, পূর্ব কলকাতারই এম বাইপাস লাগোয়া এলাকাগুলি যেন হয়ে উঠেছে মারণ ভাইরাসের হটস্পট। আর তার জেরেই ওই সব এলাকায় ক্রমশই বেড়ে চলেছে সংক্রমিত মানুষের সংখ্যা। এদিকে উপসর্গহীন হওয়ায় অটো চালক নিজেরা জানতে বা বুঝতেও পারছেন না যে তাঁরা সংক্রমিত। এই অবস্থাতেই তাঁরা চালাচ্ছেন অটো। আর সেই অটো ধরে যাতায়াত করছেন যারা তাঁরাই সংক্রমিত হচ্ছেন। রোগীর পরিবার পরিজন, স্বাস্থ্য কর্মীদের একটা বড়ো অংশই অটো করে রোজ যাতায়াত করে। ফলে নিঃশব্দেই তাঁদের শরীরে বাসা বাঁধছে মারণ ভাইরাস। কিছুদিন আগেই দেখা গিয়েছিল দক্ষিণ পূর্ব কলকাতার ১০৯ নম্বর ওয়ার্ডে ক্রমেই বাড়ছে সংক্রমণ। সেখানে একটি ওয়ার্ডেই সংক্রমিত ৩৬৪ জন। একটি ফ্ল্যাটে প্রায় ৪০ জনের সংক্রমনের খবর মিলেছে। ১০৯ নম্বর ওয়ার্ডেই রয়েছে পাটুলি, বাঘাযতীন, কালিকাপুর, মুকুন্দপুর, রুবি এলাকার মানুষেরা। এখানের বাসিন্দারা বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই যাতায়াতের জন্য অটো কে বেছে নিচ্ছেন। এমনকি মুকুন্দপুর বা আনন্দপুরে যে সব হাসপাতাল রয়েছে সেখানকার চিকিৎসকরা থেকে শুরু করে নার্স, কর্মী মায় রুগীর পরিজনেরাও অটোতেই যাতায়াত করেন। ফলে তাঁদের হাত ধরেও হাসপাতালে ছড়িয়ে পড়ছে সংক্রমণ। এই কারণেই কলকাতা পুরনিগমের তরফে অটোচালকদের মধ্যে কতজন উপসর্গহীন করোনা রোগী আছে তা জানতে আগামী ৪ আগস্ট মুকুন্দপুরে ফের র‌্যাপিড অ্যান্টিজেন পরীক্ষা শিবির করা হয়েছে ওই এলাকায়।    এই প্রসঙ্গে স্থানীয় ওয়ার্ড কো-অর্ডিনেটর অনন্যা বন্দ্যোপাধ্যায় জানিয়েছেন, “হাসপাতালগুলিতে যাতায়াত করা বা মুকুন্দুপুর ছুঁয়ে যাদবপুর থেকে নয়াবাদ বা গড়িয়া রুটে চলাচল করা দু’জন অটোচালক ইতিমধ্যে করোনা আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসাধীন। এখন এদের অটোতে চড়ে আর এদের সংস্পর্শে এসে কতজন সংক্রমিত হয়েছেন সেটা এখনই বলা সম্ভব নয়। তবে সেটা যে ঘটবে না এমনটাও নয়। বরঞ্চ মনে করা হচ্ছে অটো চালকদের মাধ্যমেই পূর্ব কলকাতার একটা বড় অংশ জুড়েই ছড়িয়ে পড়েছে সংক্রমণ”।    তবে পুরসভার স্বাস্থ্যবিভাগের আধিকারিকদের আশঙ্কা, “শুধু অটোচালকরাই নয়, এলাকার রিকশাচালক এবং হাসপাতাল লাগোয়া নানা গেস্ট হাউজের কর্মীরাও সংক্রমণের অন্যতম মাধ্যম হিসাবে কাজ করছেন।” মুকুন্দপুর ও আনন্দপুর এলাকায় নানা হাসপাতালের পাশে যে সমস্ত ছোট দোকান ও রেস্তোঁরা চলছে সেখান থেকেও সংক্রমণের আশঙ্কা একেবারেই ফেলে দেওয়া যাচ্ছে না। অন্যদিকে, দেখা যাচ্ছে ওই অটো গুলির বেশিরভাগ যাত্রীর পরিজনই হাসপাতালে ভর্তি। এবার সংক্রমণ রোগীর পরিজনদের থেকে অটো চালকদের মধ্যে ছড়াচ্ছে কিনা তা নিয়েও রয়েছে সংশয়।

Loading...